বর্ধমান রাজার পূর্বপুরুষ পশ্চিম পাঞ্জাব অধুনা পাকিস্তান থেকে বর্ধমানে আসেন ব্যবসায়িক সূত্রে। বর্ধমানের বৈকুণ্ঠপুরে তাঁরা প্রথম বসতি স্থাপন করেন। এরপর ট্যাক্স আদায় করতে করতে তাঁরা জমিদারিত্ব অর্জন করেন। শাসক হিসাবে প্রথম কীর্তিচাঁদ রায় (১৭০২-১৭৪০) থাকলেও তিনি রাজা উপাধি পাননি। পরবর্তীকালে কীর্তিচাঁদের পুত্র চিত্রসেন রায় প্রথম রাজা উপাধি পান।
advertisement
কীর্তিচাঁদ সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। বিষ্ণুপুর জয় করেন, মেদিনীপুরের চিতুয়া বরদা জয় করেন। বিষ্ণুপুর জয় করে তিনি বর্ধমানে মোহন্তস্থল তৈরি করেন। তেমনই চিতুয়া বরদা জয় করার পর এই কাঞ্চননগরের রাজবাড়ির ১২টি দিকে বারোটি তোরণ করেন। ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দের আগে বর্ধমানের কাঞ্চননগরেই গমগম করত রাজবাড়ি।
আরও পড়ুনঃ রাতে ডিউটিরত অবস্থায় শরীরে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট! হৃদরোগ প্রাণ কাড়ল কালনার সিভিক ভলান্টিয়ারের
ইতিহাসবিদ সর্বজিত যশ বলেন, ইংরেজ ঐতিহাসিক হাণ্টারের বক্তব্য অনুযায়ী ১৭৭০ সালে বর্ধমানে দামোদরের ভয়াবহ বন্যায় ভয়ংকর রকম ক্ষতিগ্রস্থ হয় কাঞ্চননগরের রাজবাড়ি। সেই সময় বর্ধমানের চারভাগের ৩ ভাগ ক্ষতি হয়। পুরনো কাঞ্চননগরের উপর নতুন কাঞ্চননগর তৈরি করা হয়েছে। সর্বজিত আরও বলেন, দামোদরে সেই সময় কোনেও বাঁধ নির্মাণ হয়নি। ফলে ফি বছর বন্যায় ক্ষতি হত। এরপরেই রাজারা কাঞ্চননগর (নীচু এলাকা) থেকে বর্তমান রাজবাড়ি বড়বাজার এলাকায় স্থাপনা করেন। বর্তমান রাজবাড়ির এলাকায় মুঘল আমলের একটি ভগ্ন দুর্গ ছিল। সেই একতলা দুর্গের উপর বর্তমান রাজবাড়িটি তৈরি করা হয় এবং ১৮৫৩ সালে রাজপরিবার এই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তিনি জানিয়েছেন, ১৯২০ সালে ফের আবার একটি ভূমি ধস হয় কাঞ্চননগর এলাকায়। সেই ভূমিধসে একেবারেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় রাজবাড়ি।
যে রাজবাড়ি থেকে একসময় গোটা অঞ্চলের শাসনভার পরিচালিত হত, আজ তার অস্তিত্ব শুধু একটি পুকুর আর দুটি জীর্ণ শিব মন্দিরে এসে ঠেকেছে। তাই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে অবশিষ্ট অংশ সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।





