প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে চলে আসা মা সংকট তারিণীর এই পুজোকে ঘিরে বসে বিরাট মেলা। ভিড় জমে অগণিত মানুষের। ভূতনাথ মন্দির ও মা সংকট তারিণীর পুজো উপলক্ষে শত শত মহিলা সারিবদ্ধভাবে মায়ের দর্শন ও প্রসাদ গ্রহণ করেন। এই পুজোর মুখ্য প্রসাদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয় সেই অতিকায় নাড়ু। যা বিশ্বাস, আস্থা ও লোকাচারের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
advertisement
ভূতশহর গ্রামে মূলত ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণদের বসবাস। গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের প্রাচীন পদবি ছিল ‘রাঠোর’ ও ‘চৌহান’। যা কালের প্রবাহে রূপান্তরিত হয়ে হয়েছে ‘সিংহ’। লোককথা অনুযায়ী, বহু বছর আগে জনৈক গুরুদয়াল সিং বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের সময়ে সেখান থেকে মা সংকট তারিণীর ঘট নিয়ে আসেন। সেই ঘটকে কেন্দ্র করেই এই পুজোর সূচনা বলে মনে করা হয়।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, পারিবারিক সংকট, জমি সংক্রান্ত বিবাদ ও নানা সমস্যার সমাধানের কামনাতেই এই পুজোর প্রচলন হয়। আজও কোনও স্থায়ী বিগ্রহ বা পাকা মন্দির ছাড়াই প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৫ বছর ধরে লোকাচার মেনে পূজিত হয়ে চলেছেন মা সংকট তারিণী।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অতিকায় গুড়ের নাড়ু, প্রাচীন ইতিহাস আর মিলনমেলার আবহ-সব মিলিয়ে ভূতশহরের এই পুজো আজ শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং বাঁকুড়া জেলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য পরিচয় হয়ে উঠেছে। পুজো হয় বহু জায়গায়, কিন্তু ভূতশহরের মা সংকট তারিণীর ‘পাহাড়’ নাড়ু আর এই লোকায়ত পুজো বাঁকুড়ার মাটিতে আলাদা মর্যাদা নিয়ে আজও উজ্জ্বল।





