শিলিগুড়ি থেকে খুব কাছেই পাহাড়ের কোলে ছোট্ট অথচ জনপ্রিয় এক গন্তব্য রংটং। অনেকেই ঘুরতে গিয়েছেন, কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন—রংটংয়ের সবচেয়ে পুরনো এবং অথেন্টিক মোমোর ঠিকানা কোনটা! স্টেশনের একদম পাশেই, পাহাড়ি পথের শুরুর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের পুরনো সেই দোকান—দাজুকা দোকান। চার-পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই দোকান আজও একই স্বাদে পরিবেশন করছে আসল পাহাড়ি মোমো।
advertisement
গরম পড়তেই এখানে আড্ডা জমে ওঠে তরুণ প্রজন্মের। ছোট্ট দোকান, কাঠের বেঞ্চ, সামনে পাহাড়ি বাতাস—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি। শুধু মোমো নয়, সমানভাবে জনপ্রিয় মিমি, ওয়াই-ওয়াই, আলু মিমি, পরোটা সহ একাধিক খাবার। তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সেই পুরনো রেসিপির স্টিম মোমোরই।
দোকানের মালিক রাজু ছেত্রী জানালেন, “আমার দোকানে যারা আসে, সেই ছেলে-মেয়েরাই ভালবেসে নাম দিয়েছে ‘দাজুকা দোকান’। আগে তো শুধু ছোট্ট একটা দোকান ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সবার ভালোবাসায় এই নামটাই পরিচিত হয়ে গেছে। এখন অনেকেই এই নামেই চেনে।” তাঁর কথায়, গরমকালে বিকেলের পর থেকেই দোকানে আলাদা এক আবহ তৈরি হয়—হাসি, গল্প, আড্ডায় জমজমাট পরিবেশ।
আরও এক বক্তব্যে রাজু ছেত্রী বলেন, “রংটংয়ের সবচেয়ে পুরনো দোকানগুলোর মধ্যে এটা একটা। যারা পাহাড়ি চড়াই করতে আসে বা ট্রেকিংয়ে বেরোয়, তারা অনেকেই জানে—এখানে একবার না থামলে সফরটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বহু বছর ধরে একই স্বাদ আর আন্তরিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি।”
এই গরমে যদি একটু নিরিবিলি, পাহাড়ি হাওয়া আর অথেন্টিক স্বাদের খোঁজে থাকেন, তাহলে শিলিগুড়ির একদম কাছেই রংটংয়ের এই পুরনো ঠিকানাটা হয়তো হয়ে উঠতে পারে আপনার পরের ছোট্ট গেটওয়ে।
ঋত্বিক ভট্টাচার্য





