ফিল্টার বিড়ির দাম প্রায় ৭ থেকে ৮ টাকা, মাথাভাঙা সিগারেট ১৫ আবার কোথাও কোথাও ২০টাকা। শুধু ‘ফিল্টার’ বা ‘মাথাভাঙা’ বললেই দোকানদার নেশার সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন হাতে। শুধু তাই নয় এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের ‘আঙ্কেল-কাকা’ এই একটি ডাক এখন এই নেশা কারবারের পরিচিত ডাক। আর ধীরে ধীরে পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ভিন রাজ্য থেকে ঢুকে পড়ছে নতুন নতুন ড্রাগ। তবে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে মদ বা গাঁজাতেই সীমাবদ্ধ নেই নেশা। ভয়ংকর এই নেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাশির সিরাপ, বিভিন্ন ধরনের আঠা, ঘুমের ওষুধ, ড্রাগস ইঞ্জেকশন থেকে শুরু করে ব্রাউন সুগার।
advertisement
শুধুমাত্র সূর্য ডুবে যাওয়ার অপেক্ষা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই শহরের বিভিন্ন নির্জন জায়গা পরিণত হচ্ছে নেশাখোরদের বিরাট এক মিলনক্ষেত্রে। কম বয়স্ক বাচ্চাদেরও বাদ দেওয়া হচ্ছে না এই ভয়ঙ্কর জাল থেকে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নেশা আসক্তদের সংখ্যা। আর এই নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়েই অল্প বয়সেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বর্তমান যুবসমাজের একাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কাশির সিরাপ ও ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে।
শুধু ওষুধের দোকান নয়, পান-সিগারেটের দোকান, পাড়ার মোড়ের নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানেও দেদার বিক্রি চলছে। প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই এসটিএফ ও বোলপুর থানা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যৌথ অভিযানে উদ্ধার করেছে বেআইনিভাবে মজুদ প্রায় ৪০ হাজার এর কাছাকাছি কাশির সিরাপের বোতল। এই ঘটনায় ওষুধ ব্যবসায়ী মুন্না সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রে জড়িত শুধু একজন-দু’জন নন। গোটা শহর জুড়েই রয়েছে কাশির সিরাপের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। এজেন্টদের মাধ্যমে ব্যাগে করে সিরাপ পৌঁছে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। যদিও এই বিষয়ে বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বাবু জানান, “খুব শীঘ্রই আমরা তদন্ত করে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”






