বেশ কয়েকটি সংস্থায় কাজ করলেও কখনওই কর্পোরেট চাকরির বাঁধাধরা জীবন তাঁর পছন্দ ছিল না। ডেস্কের চার দেওয়ালের বদলে তিনি দেখতে চেয়েছেন ভারতের বৈচিত্র্য, শুনতে চেয়েছেন মানুষের গল্প। সেই ভাবনা থেকেই চাকরির সামান্য জমানো অর্থকে পুঁজি করে, প্রায় কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই গত ডিসেম্বরে বাড়ি ছেড়েছেন ফাজিল। সঙ্গী বলতে একটি সাইকেল, কয়েক জোড়া পোশাক আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি। বাড়িতে রয়েছে বাবা-মা ও বোন।
advertisement
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি পৌঁছেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে। পথে একের পর এক রাজ্য অতিক্রম করতে করতে তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরছে নানা গল্পে। কখনও রাস্তার ধারে ক্ষুধার্ত মানুষ দেখে নিজের খরচ বাঁচিয়ে খাবার কিনে দিয়েছেন, কখনও বা সামান্য অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের। তাঁর কাছে ভ্রমণ মানে শুধু জায়গা দেখা নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরি করা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আগামী দিনে নেপাল, ত্রিপুরা, অসম, মেঘালয় হয়ে এমনকি লাদাখ পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই যুবকের। প্রতিটি জায়গার সংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার, লোকাচার আর মানুষের জীবনধারা জানাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। সামাজিক মাধ্যমে নিজের যাত্রার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে তিনি চাইছেন অন্য তরুণদেরও অনুপ্রাণিত করতে—যেন তারা শুধু চাকরির পিছনে না ছুটে জীবনের অর্থ খোঁজে বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে। ভরসা বলতে সামান্য সম্বল আর অটুট বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের জোরেই সাইকেলে চেপে একের পর এক রাজ্য পার করছেন ফাজিল হিন্দুস্তান। তাঁর ভাবনা, সাহস আর মানবিকতা সত্যিই চমকে দিচ্ছে সকলকে—প্রমাণ করছে, স্বপ্ন দেখার জন্য বড় পুঁজি নয়, দরকার বড় মন।





