আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কেউ হারিয়েছে বাড়ির একমাত্র উপার্জন কম ছেলে বা কেউ হারিয়েছে তাঁর স্বামীকে। সব মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এই ঘটনায় নিখোঁজের সংখ্যা ২১ জন। প্রথম দিন থেকে নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল আর্থিক সাহায্য।
আরও পড়ুন: ডেডলাইন ৫ মার্চ, ২৫% ডিএ দিতে রাজ্যের খরচ ১০,৪৬৮ কোটি টাকা! কত সরকারি কর্মী কত করে টাকা পাবে জানেন!
advertisement
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের একজন করে চাকরি এবং তাঁদের ক্ষতিপূরণ বাবদ আর্থিক সাহায্য করা হবে। সেই মতোই এই ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলির পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি জেলা পুলিশ প্রশাসনের।
এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই অনুযায়ী পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিখোঁজ পরিবারের একজন সদস্যের নিয়মমাফিক নথিপত্র নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এই পরিবারগুলির পাশে রয়েছে।”
আরও পড়ুন: ‘৫০০ টাকায় আজকাল কিছুই হয় না’, বাজেটের পরই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী
নিখোঁজদের পরিচয় জানতে ইতিমধ্যেই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, থানায় ডেকে তাঁদের নাম, ঠিকানা, পারিবারিক তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপিও সংগ্রহ করেছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, নিখোঁজ শ্রমিক গুরুপদ সাউ-এর স্ত্রী স্বপ্না সাউ বলেন, “আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ও নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। সরকারের এই আর্থিক সাহায্য আমাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিল।” নিখোঁজ শ্রমিক রাজু মান্না-র বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না বলেন, আমরা সহায়তা পেয়েছি। আমার বৌমার চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যেই জমা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার তথা প্রশাসন কিছুটা আশার আলো জ্বালিয়ে দিল।





