প্রাচীন লোকসংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই উৎসব বলে জানা যায়। সাঁওতাল সমাজের এটি অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোহরাই মূলত ফসল কাটার পর্ব এবং গৃহপালিত পশুদের কৃতজ্ঞতা জানাতে পালিত হয়। তবে সারি সোহরাই উৎসবের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে নারীদের জন্য। এই উৎসবের মাধ্যমে সাঁওতাল সমাজে নারীসম্মান, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক ঐক্যের প্রকাশ ঘটে।
advertisement
এই উৎসবে নতুন কাপড় পরিধান করে নারীরা ঐতিহ্যবাহী সাজে সেজে ওঠেন। রঙিন শাড়ি, গয়না দেখা যায় মেয়েদের সাজে। পাশাপাশি আলপনায় সজ্জিত হয় বাড়িঘর। যেন পুরো এলাকাকে রঙিন করে তোলে। উৎসব উপলক্ষে বিশ্বনাথ পাড়া এলাকায় আদিবাসী বাড়িগুলিতে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। ঘরের দেওয়ালে প্রাকৃতিক রঙে আঁকা হয় সোহরাই চিত্রকলা, যা সাঁওতাল সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গৃহপালিত পশুদের স্নান করিয়ে, তাদের শিং ও শরীরে রঙ লাগিয়ে সম্মান জানানো হয়। এরপর দেবতা মারাং বুরু ও প্রকৃতির কাছে ভাল ফসল, সুস্বাস্থ্য ও শান্তিপূর্ণ জীবনের প্রার্থনা করা হয়। এই উৎসবে নাচ-গান অন্যতম আকর্ষণ। ঢোল, মাদল ও বাঁশির তালে তালে পুরুষ ও মহিলারা ঐতিহ্যবাহী সাঁওতালি নৃত্যে অংশ নেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই এই আনন্দে শামিল হন। একে অপরের বাড়িতে গিয়ে আপ্যায়ন, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সাবিত্রী মুর্মু নামের এক গৃহবধূ জানান, “সারি সোহরাই উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, এটি সাঁওতালদের জীবনধারা, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতার প্রতীক।” আধুনিকতার মাঝেও এই উৎসব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সাঁওতাল ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখে।





