East Bardhaman News: চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া, অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন ৭০ বছর বয়সেও! সঞ্চয় ভেঙেছেন ইতিহাস বাঁচাতে
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Nayan Ghosh
Last Updated:
East Bardhaman News: ছোট থেকেই টান লেখালেখির ওপর। লেখালেখি মোড় নিয়ে স্থানীয় ইতিহাস গবেষণার দিকে। ৭০ বছর বয়সেও ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন পটাশপুরের সুমথনাথ দাস। নিবিড় যোগাযোগ পত্রিকার সঙ্গেও।
পটাশপুর, মদন মাইতি: পছন্দ নিজের আঞ্চলিক ইতিহাস। নিজের আঞ্চলিক সংস্কৃতিকে বাঁচাতে হবে। এই ভাবনাকেই পাথেয় করে ৭০ বছর বয়সেও গ্রামে গ্রামে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে চলেছেন এই মানুষটি। নিজের জীবনের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে আঞ্চলিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি অগাধ ভালবাসা। বছরের পর বছর ধরে সেই ভালবাসাকেই রূপ দিয়েছেন লেখায়, গবেষণায় আর একটি মাসিক পত্রিকার মাধ্যমে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লকের মঙ্গলচক গ্রামের বাসিন্দা সুমথনাথ দাস। নিরলস পরিশ্রম আর একাগ্রতার মধ্য দিয়ে তিনি আজ হয়ে উঠেছেন নিজের অঞ্চলের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। বিদ্যালয়ের পত্রিকায় লেখা দিয়েই তার সাহিত্যচর্চার শুরু। সেই অভ্যাস কলেজ জীবনেও ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত লিখতেন নানা বিষয় নিয়ে। ধীরে ধীরে তার লেখার উপাদান হয়ে ওঠে নিজের গ্রাম, নিজের এলাকা, নিজের এলাকার মানুষ। ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে বসা ছোট ছোট ঘটনাই তাকে বেশি টানত। সেই টান থেকেই শুরু হয় আঞ্চলিক ইতিহাস সংগ্রহের কাজ। পুরোনো নথি, প্রবীণদের স্মৃতি, লোককথা, সবকিছু মিলিয়ে গড়ে উঠতে থাকে তার গবেষণার ভাণ্ডার। ভালবাসা থেকেই একের পর এক বই লিখতে শুরু করেন তিনি। পটাশপুরের সাংবাদিকতার ইতিহাসেও রয়েছে সুমথনাথ দাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
advertisement
আরও পড়ুন: স্বপ্নপূরণের দিশা দেখাল ইউটিউব, প্রশিক্ষণ ছাড়া পূর্ণ দৈর্ঘ্যের সিনেমা বানলেন যুবক! ট্রেলার দেখেই নেটপাড়ায় হইচই
১৯৫৮ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রসন্নকুমার ত্রিপাঠী পটাশপুর এলাকার নানা খবর ও তথ্য নিয়ে প্রকাশ করেছিলেন ‘পটাশপুরবার্তা’ নামের একটি মাসিক পত্রিকা। নানা কারণে সেই পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০০ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি। তখন তার নাম হয় ‘পটাশপুর দর্পণ’। ২০১৩ সালে এই পত্রিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুমথনাথ দাস। তারপর থেকেই পত্রিকাটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। প্রতি মাসে পটাশপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অজানা তথ্য উঠে আসতে থাকে পাতায় পাতায়।
advertisement
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই পত্রিকা প্রকাশ করতে গিয়ে আর্থিক সমস্যার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। বহু সময় আর্থিক ক্ষতির বোঝা বইতে হয়েছে নিজের কাঁধে। কিন্তু তা কখনও তার কাজ থামাতে পারেনি। নিজের সঞ্চয় ভেঙেই তিনি সেই ক্ষতি সামলেছেন। কারণ তার কাছে এই পত্রিকা শুধুই একটি প্রকাশনা নয়, এটি তার ভালবাসা। আজও তিনি নতুন তথ্য সংগ্রহ করেন। লেখেন নতুন গ্রন্থ। সত্তর বছরের বয়স কিংবা শারীরিক ক্লান্তি তাকে নুইয়ে দিতে পারেনি। নিজের আঞ্চলিক ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে সত্যিই কুর্নিশ জানাতে হয় সুমথনাথ দাসের মতো মানুষকে।
Location :
Purba Medinipur,West Bengal
First Published :
Feb 07, 2026 8:34 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
East Bardhaman News: চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া, অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন ৭০ বছর বয়সেও! সঞ্চয় ভেঙেছেন ইতিহাস বাঁচাতে










