ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। বিদ্যালয়ের পত্রিকায় লেখা দিয়েই তার সাহিত্যচর্চার শুরু। সেই অভ্যাস কলেজ জীবনেও ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত লিখতেন নানা বিষয় নিয়ে। ধীরে ধীরে তার লেখার উপাদান হয়ে ওঠে নিজের গ্রাম, নিজের এলাকা, নিজের এলাকার মানুষ। ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যেতে বসা ছোট ছোট ঘটনাই তাকে বেশি টানত। সেই টান থেকেই শুরু হয় আঞ্চলিক ইতিহাস সংগ্রহের কাজ। পুরোনো নথি, প্রবীণদের স্মৃতি, লোককথা, সবকিছু মিলিয়ে গড়ে উঠতে থাকে তার গবেষণার ভাণ্ডার। ভালবাসা থেকেই একের পর এক বই লিখতে শুরু করেন তিনি। পটাশপুরের সাংবাদিকতার ইতিহাসেও রয়েছে সুমথনাথ দাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
advertisement
১৯৫৮ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রসন্নকুমার ত্রিপাঠী পটাশপুর এলাকার নানা খবর ও তথ্য নিয়ে প্রকাশ করেছিলেন ‘পটাশপুরবার্তা’ নামের একটি মাসিক পত্রিকা। নানা কারণে সেই পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০০ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি। তখন তার নাম হয় ‘পটাশপুর দর্পণ’। ২০১৩ সালে এই পত্রিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন সুমথনাথ দাস। তারপর থেকেই পত্রিকাটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। প্রতি মাসে পটাশপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অজানা তথ্য উঠে আসতে থাকে পাতায় পাতায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই পত্রিকা প্রকাশ করতে গিয়ে আর্থিক সমস্যার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। বহু সময় আর্থিক ক্ষতির বোঝা বইতে হয়েছে নিজের কাঁধে। কিন্তু তা কখনও তার কাজ থামাতে পারেনি। নিজের সঞ্চয় ভেঙেই তিনি সেই ক্ষতি সামলেছেন। কারণ তার কাছে এই পত্রিকা শুধুই একটি প্রকাশনা নয়, এটি তার ভালবাসা। আজও তিনি নতুন তথ্য সংগ্রহ করেন। লেখেন নতুন গ্রন্থ। সত্তর বছরের বয়স কিংবা শারীরিক ক্লান্তি তাকে নুইয়ে দিতে পারেনি। নিজের আঞ্চলিক ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে সত্যিই কুর্নিশ জানাতে হয় সুমথনাথ দাসের মতো মানুষকে।





