তৎকালীন সময়ে এলাকার জমিদার কার্তিক চন্দ্র দাস, যাকে অনেকেই শান্তিপুরের কেসি দাস নামে চেনেন, তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। প্রতিদিন গঙ্গাস্নান করার সময় এক সাধুর সঙ্গে দেখা হত তাঁর। সেই সাধুর পরামর্শে তিনি এই গণেশ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দির প্রতিষ্ঠার পরই তাঁর প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তিনি সন্তানের নাম রাখেন সাধু সিদ্ধেশ্বর দাস। সেই থেকেই শুরু হয় এই মন্দিরের পুজো-পার্বণের ইতিহাস। যা আজও সমান ভক্তি আর শ্রদ্ধার সঙ্গে চলছে।
advertisement
আরও পড়ুন : নাম বলতে পারছিলেন না, ভাষাও ভাঙাচোরা…! অবশেষে পুলিশের উদ্যোগে মিলল স্বামীর দেখা
প্রতিবছর দুর্গাপুজোর চতুর্থীর এক মাস আগে মহোৎসবের মাধ্যমে বিশেষভাবে গণেশ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অক্ষয় তৃতীয়া, পহেলা বৈশাখের দিন ও প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এখানে পুজো হয়। গণেশ চতুর্থীর দিন এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। পুজো মণ্ডপ ভরে ওঠে আনন্দে আর উৎসবে। দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এই দিনে আসেন দেবতার দর্শনে। আজও সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে কার্তিক চন্দ্র দাসের উত্তরপুরুষরা বিশেষ পুজোর সময় উপস্থিত হন। জানা গিয়েছে, আজকের পুজোয় এসেছিলেন প্রতিষ্ঠাতার নাতি সিদ্ধেশ্বর দাসের বংশধর।
আরও পড়ুন : এইসব ওয়ার্ডে মিলবে না জল, পুরনিগমের জরুরি নোটিশ! কবে, কোথায় জেনে না রাখলে ফাঁসবেন
পুরোহিত পরিবারের মাধ্যমেও এই পুজোর ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে। জমিদার আমল থেকেই বংশ পরম্পরায় পুজো পরিচালনা করে আসছেন তাঁরা। বর্তমানে যে পুরোহিত আছেন, তিনি গত ৫২ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে গণেশ ঠাকুরের পুজো করে আসছেন। একসময় অবহেলায় জঙ্গলাকীর্ণ ও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়ে থাকলেও, পরবর্তীকালে সংস্কারের মাধ্যমে মন্দিরের জৌলুস ফিরে এসেছে। কেসি দাসের পঞ্চম পুরুষ হিসেবে এবারেও তাদের এক প্রতিনিধি এসেছিলেন মন্দিরে। জানা গেছে একসময় সূত্রাগরে মিউনিসিপ্যালিটি অর্থাৎ পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে একটি ভবন নির্মিত হয়েছিল তাদেরই জমিতে। কিন্তু ভোটে হেরে গিয়ে মোদক সম্প্রদায়ের উপর অভিমান করে চলে গিয়েছিলেন তাঁরা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই প্রাচীন টেরাকোটা স্থাপত্য শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক গুরুত্বও বহন করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মন্দিরকে ঘিরে আজও এক বিশেষ আবেগ রয়েছে। গণেশ চতুর্থীর মতো বিশেষ দিনে মন্দির প্রাঙ্গণে মানুষের ভিড় প্রমাণ করে দেয়, ১১৮ বছরের পুরনো এই তীর্থক্ষেত্র এখনও মানুষের আস্থার প্রতীক। শান্তিপুরের এই গণেশ মন্দির আজও ঐতিহ্য, ভক্তি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।





