প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল পরিবেশ বান্ধব ট্যুরিজম গড়ে তোলার লক্ষ্যে। কিন্তু কোনওটাই ১০০ শতাংশ পরিবেশ বান্ধব হয়ে ওঠেনি। এবার সেই কাজকেই সম্পূর্ণভাবে সফল করতে ও পুরুলিয়া তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৈরি করা হল এই হবিট হাউস। শীতের মরশুমের পাশাপাশি গরম ও বর্ষার রূপ দেখতে এই হবিট হাউসে পর্যটকদের ভিড় হবেই। নতুন বছরের ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি এই পাতাল ঘরে হবে অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভ্যাল। তার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।হবিট হাউসের দায়িত্বে থাকা অর্ধেন্দু ঠাকুর বলেন, “এই হবিট ট্যুরিজম একেবারেই অ্যাডভেঞ্চারাস ট্যুরিজম হতে চলেছে। পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে সব কিছুর আয়োজন করা হয়েছে। এখানে আসলে পর্যটকরা একেবারে নতুন কিছু স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।”
advertisement
আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ রোগীর আত্মীয়দের, পরপর শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোরগোল
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গে গেল বর্ধমানের চিতাবাঘ কৃষ্ণা, মন ভাল নেই রমনাবাগানের কর্মীদের
অভিনব এই পর্যটন প্রকল্পে আপাতত ‘হবিট রুম’ রয়েছে সাতটি। সেই রুমের সঙ্গেই রয়েছে অ্যাটাচ ওয়াশরুম। এ ছাড়াও রয়েছে ১৫ টি ‘হবিট টেন্ট’। তবে ওই তাঁবুর সঙ্গে নেই অ্যাটাচ ওয়াশরুম। খাওয়া-দাওয়ার জন্য রকমারি আয়োজন থাকছে। এই ট্যুরিজমের সাইট সিয়িংগুলো একেবারেই ভিন্ন। এই পর্যটন প্রকল্প সাধারণ সাইট সিয়িং-এ খুব বেশি জোর দেয় না। তাদের থিম বা ভাবনাটা হচ্ছে ট্রেকিং, এক্সপ্লোরেশান। প্রকৃতির সমস্ত স্বাদ উপভোগ করতে রাতে হেড ল্যাম্প লাগিয়ে জঙ্গল ট্রেল রেখেছেন। ব্যবস্থা রয়েছে রক ক্লাইম্বিং , ফিশিং, ট্রেকিং, কেভিং , মেডিটেশন , ক্যাম্প ফায়ার, নেট ক্লাইম্ব-এ মেতে ওঠার। এছাড়া থাকছে বন ফায়ারের সঙ্গে বারবিকিউ। আর বন ফায়ারের জন্য জঙ্গলে ঘুরে কাঠ যোগাড় করবে খোদ পর্যটকেরা। এক কথায় একেবারেই অ্যাডভেঞ্চারের ভরপুর স্বাদ উপভোগ করা যাবে এই হবিট ট্যুরিজমের।
নিউজিল্যান্ডের লেখক জে আর আর টোকিনের গল্প ‘লর্ড অফ দ্যা রিং’। এই গল্পের চরিত্র হবিটরা বাস করত ‘হবিট হাউস’-এ। সেই ‘হবিট হাউস’ রয়েছে নিউজিল্যান্ডেই হামিলটনের কাছে মাটামাটায় গ্ৰামে। বলা যায়, ওই রূপকথার গ্রামকেই পর্যটনে রূপ দিয়ে যেন এক টুকরো মাটামাটাকে তুলে ধরা হয়েছে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলীতে।
শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি





