মূলত, বর্ষার এই শেষ দিকে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই বাড়তে দেখা যায় (snake bite increase after rainy season)। ফলে স্থানীয়রা সাপের আরাধ্য দেবী মনসা পুজোর মাধ্যমে দেবীকে তুষ্ট রাখার চেষ্টা করেন। পুজোর শেষে সকলে একত্রিত হয়ে, দেবী মনসার মূর্তি ও হাঁস নিয়ে নদী বা কাছের কোনও জলাশয়ে ভাসিয়ে দেন। স্থানীয় ভাষায় একেই বলাহয় 'মান্দাস ভাসানো'।
advertisement
আরও পড়ুন দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে বিশেষ সুবিধা গর্ভবতী মহিলারাদের
সাপের কামড়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে জল, জঙ্গলে পরিবেষ্টিত সুন্দরবনের প্রায় অনেক জায়গাতেই এই স্থানীয় লৌকিক (Local custom to stay away from snake) আচার পালন করতে দেখা যায়। করোনার করাল গ্রাস নিম্নগামী হতেই, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও শুরু হয়েছে সেই উৎসব। এদিন এই উৎসব উপলক্ষে রায়দিঘী (Raidighi, South 24 Pargana) থানার অন্তর্গত বটীশ্বরে ভিড় করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুটি জীবন্ত সাপ ধরে তারা মা মনসাকে খুশি করতে জলাশয়ে ছেড়ে দেন। পাশাপাশি, বেশ কিছুটা রাস্তা গ্রামের মানুষজন গান বাজিয়ে হাঁটেন। এই জীবন্ত সাপ সহ ভেলা দেখতে প্রায় হাজারের উপর স্থানীয় বাসিন্দা ভিড় করেছিলেন বটীশ্বর এলাকায়। ভিড় সামলা দিতে, উপস্থিত হতে হয় রায়দিঘী থানার পুলিশকে।
উদ্যোক্তাদের দাবি, জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে (Maintain EcoSystem) এবং পরম্পরাগত লৌকিক আচার পালন করতেই, এই উৎসবের আয়োজন করে থাকেন তারা। তবে আচার অনুষ্ঠান যাই হোক না কেন সুন্দরবনের প্রন্তত্য এলাকাগুলিতে এখনও যে সর্পভীতি স্থানীয়দের মধ্যে বিদ্যমান, তা এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই সহজেই অনুমেয়।
তবে অতীতে সাপে কামড়ানো রোগীদের যে কুসংস্কারের (snake bite and superstition) শিকার হতে হতো, তা আজ অনেকটাই কমেছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য। এখন সাপে কামড়ানো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হয়ে থাকে (snake bite treatment)। এর জন্য সারা বছরই বিশেষ নজরদারি ও প্রচার চলে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়।
রুদ্র নারায়ন রায়






