তবে সম্প্রতি মোগলমারির প্রত্নখননে প্রাপ্ত মহাবিহারের নামফলক নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা মোগলমারি নামকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে কীভাবে এলএই নাম? কেনই বা এলাকার নাম মোগমারি? আদৌ কি সম্পর্ক রয়েছে মোঘলদের সঙ্গে?
আরও পড়ুনঃ দার্জিলিংয়ের একেবারেই কাছে এই পাহাড়ি জনপদ, নিভৃতযাপনের সেরা ঠিকানা এটাই, রইল খুঁটিনাটি
মোগলমারির বৌদ্ধবিহার আবিষ্কারের পর এলাকার নামকরণ নিয়ে বৌদ্ধবিহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পুরাবস্তুগুলির পর্যালোচনা হয়েছে বিশেষভাবে। গবেষকদের মধ্যে মোগলমারির নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়া গিয়েছে। কতিপয় গবেষক দাবি করেছেন, ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে এই এলাকায় মোঘল-পাঠানের যুদ্ধ হয়, যেখানে মৃত্যু হয় বহু মোঘল সৈন্যের। যার থেকেই এই এলাকার নাম হয়েছে মোঘলমারি>মোগলমারি। আবার বেশ কিছু গবেষক মনে করেন, ‘মাড়’ শব্দের অর্থ সড়ক বা পথ। মোঘলরা এই পথ মাড়িয়ে গিয়েছিল বলে এই স্থানে মাড়>মাড়ই>মাড়ি ব্যবহৃত হয়েছিল। তাই কালের বিবর্তনে মোঘলমাড়ি>মোগলমাড়ি>মোগলমারি নামাঙ্কিত হয়ে প্রচলিত হয়ে আসছে। তবে এই তথ্য কার্যত ভুল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন গবেষক। বেশকিছু প্রামাণ্য তথ্য দিয়েছেন তারা। তারা দাবি করেন, মোগলমারি নামের সঙ্গে মোঘল এবং পাঠানদের যুদ্ধের কোনও সম্পর্কই নেই।
advertisement
কেন নামকরণ হল মোগলমারি? আবুল ফজল রচিত ‘আইন-ই-আকবরি’-তে মুঘলমারি ও টুকারুই নামক স্থানে যুদ্ধের কথা উল্লেখ আছে। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে মোগলমারি নামটির অস্তিত্ব মোঘলদের যুদ্ধের আগে থেকেই ছিল। সম্প্রতি প্রত্নখননে প্রাপ্ত নামফলকগুলি গবেষনা চালিয়ে বিহারের নামের পাঠোদ্ধারের চেষ্ঠা করা হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রজত সান্যাল দাবি করেছেন বিহারটির নাম ‘মুগলায়িক বিহারিকা’। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সীতারাম দুবে জানিয়েছেন বিহারটি নাম ‘মোগলারিকা বিহারিকা’ এবং ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বক্ষণ-এর এপিগ্রাফি বিভাগের প্রাক্তন অধিকর্তা টি. এস রবিশংকর নামফলক পাঠোদ্ধার করে জানিয়েছেন বিহারটির নাম ‘মোগলায়া বা মোগলায়কি’।
আরও পড়ুনঃ মাছের সঙ্গে ভুলেও ছোঁবেন না এই ৭ খাবার! পেটে গেলেই ‘বিষাক্ত’, আপনিও ভুল করেন না তো?
স্বাভাবিকভাবে এই তিনজন গবেষকের তথ্যের মধ্যে উল্লিখিত রয়েছে ‘মোগল’ শব্দটি। তাই মোগলমারি নামের সঙ্গে যুক্ত মোগল শব্দ বৌদ্ধবিহারের নাম থেকেই প্রাপ্ত বলে দাবি বৌদ্ধ গবেষক ও লেখক অতনু প্রধানের। তাঁর দাবি উৎখননে প্রাপ্ত নাম ফলকের পাঠোদ্ধারের পর স্পষ্ট ধারণা করা যায় যে মোগলমারি বহু পূর্ব থেকেই বৌদ্ধকেন্দ্র রূপে প্রতিষ্ঠিত ছিল।
তৎকালীন সময় বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারগুলির নাম বিখ্যাত ও বিশিষ্ট বৌদ্ধভিক্ষুদের নামে নামকরণ করার রীতি ছিল। সেই ধারা মেনে মোগলমারির উৎখননে উন্মোচিত বিহারের নামকরণ কোনও বিখ্যাত বৌদ্ধভিক্ষুর নামে থাকাটাই যুক্তিযুক্ত। প্রাপ্ত নামফলক নিজেই স্পষ্ট করে যে বিহারের নাম বুদ্ধের অন্যতম প্রিয় শিষ্য ‘মহামোদগল্লায়ন’ (মোগলায়ন) অথবা সম্রাট অশোকের সময় বিখ্যাত বৌদ্ধভিক্ষু ‘মোগলীপুত্ততিষ্য’-র নামে থাকাটাই স্বাভাবিক। আর এই সুপ্রাচীন বিহারিকা ‘মোগলায়া বা মোগলায়কি বা মুগলায়িক বা মোগলারিকা’ থেকেই পরবর্তীকালে মোগলমারি নামকরণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই তথ্য গবেষণার ক্ষেত্রে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
রঞ্জন চন্দ





