বোলপুরের বাইপাস ধরে বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে সামান্য একটু এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে ফাঁকা রাস্তার ধারে একটি জায়গায় ত্রিপল খাটানো রয়েছে। তার বাইরে কিছু সাইকেল, বাইক দাঁড়িয়ে রয়েছে। কাছে গেলেই দেখা যাবে ভেতরে একজন ব্যক্তি ভাতের হোটেল চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: জনপ্রিয় এই দুই খাবারে মিশছে ‘বিষ’, বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিল কর্ণাটক সরকার
advertisement
বাঁশের মাচাতে সেখানেই বসে লরিচালক থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষ খাবার খাচ্ছেন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররাও তাঁর হোটেলে ভিড় জমাচ্ছেন।বুম্বার হোটেল বলেই লোকজন এটিকে চিনেছেন। বুম্বা ওরফে বিশ্বজিৎ কুমার বলেন, “আগে মাসে ১ লক্ষ টাকাও আয় করেছি। কিন্তু ওইভাবে কাজ করতে আর পারছিলাম না। তাই কাজ ছেড়ে দিয়ে হোটেল খুললাম। সকালে টিফিন করছি, থাকছে দুপুরের ভাতও। আমার এখানে ৬০ টাকাতে পাওয়া যায় মাছ, মাংস, ডিমের থালি। তবে যা ভেবে শুরু করেছিলাম, তার থেকে অনেক ভাল বিক্রি হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: সামনেই দোল, কম খরচে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন ভেষজ রঙ! ত্বক ও চুলের ক্ষতি হবে না, রঙিন হবে রঙের উৎসব
কিন্তু ছোট থেকেই ভিন রাজ্যে পড়াশোনা করেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির হয়ে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজ শুরু করেছিলেন। এমনকী একটি নামী ওষুধ কোম্পানিতে বর্ধমান বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট বিজনেস রিজিওনাল ম্যানেজারও ছিলেন। কিন্তু দিন দিন কাজের চাপ বাড়তে থাকছিল। করোনার পর তা আরও বৃহত্তর আকার নেয়। বসদের নানা কটু কথা উঠতে বসতে শুনতে হচ্ছিল তাঁকে।
আর সেই কাজের চাপ সহ্য করতে পারছিলেন না তিনি। সবটা মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন আর চাকরি করব না। তারপরই গত ডিসেম্বরে কাজ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন। আর ফেব্রুয়ারি থেকে রাস্তার ধারে ত্রিপল টাঙিয়ে শুরু করেন ভাতের হোটেল। যদিও এর আগে করোনার সময় তিনি সুপুরের জোড়া মন্দিরেরকাছে রেস্তরাঁ খুলেছিলেন। কিন্তু সেটি নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
সৌভিক রায়





