তাঁর কাছে কাজ করে বহু গৃহবধূ আজ স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রামের মধ্যে যেন ছোটখাটো শিল্প গড়ে ফেলেছেন তিনি। ছোট থেকে বাবাকে বাড়িতে পৈতে তৈরি করতে দেখেছেন শঙ্কর মহারাজ। সময়টা ছিল তখন ১৯৮৭ সাল সেই সময় তিনি মাধ্যমিকের ছাত্র। তখন থেকেই পৈতে তৈরি কাজে হাতেখড়ি শঙ্কর বাবুর। জানা যায়, প্রথমে তিনি তাদের একটি জমি বন্ধক দিয়ে পৈতে তৈরির কাজ শুরু করেন। পরে ব্যবসা লাভের মুখ দেখায় সেই জমি ফিরিয়ে নেন। এই কাজ করে তিনি যে শুধুমাত্র বাড়ির সমৃদ্ধি ফিরিয়ে এনেছেন তা নয়, এর পাশাপাশি বহু মহিলারা স্বনির্ভর হয়েছেন।
advertisement
আরও পড়ুন: বারুণী মেলার আগেই ভোলবদল ঠাকুরনগরের, চলছে রেল মহাযজ্ঞ, মিটতে চলেছে দীর্ঘদিনের সমস্যা
তবে কী পদ্ধতিতে তৈরি হয় এই পৈতে! এই বিষয়ে এক গৃহবধূ জানান, “কলকাতা থেকে পৈতে তৈরির সুতো নিয়ে এসে বাড়িতে সাবু ও অ্যারারুট ময়দা দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরে রোদে শুকোতে হয়। এরপর বিভিন্ন প্রকার পৈতে তৈরি করা হয়।” এতে গ্রামের প্রায় ৩০ জন গৃহবধূ হাতে হাত দিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই প্রতিদিন ১৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করেন. সেই পৈতে প্যাকেটজাত হয়ে চলে যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে রামপুরহাট, বোলপুর, মায়াপুর, নবদ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে বীরভূমের এই পৈতে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শীতলগ্রামের গৃহবধূরা জানান, “স্বামীর একার উপার্জনে বর্তমানে এই বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তারপরেই আমরা এখানে পৈতে তৈরিতে কাজে হাত লাগায়। পৈতে তৈরি করে আমরা যা উপার্জন করি তাতে ছেলেমেয়ের পড়াশোনা থেকে নিজেদের হাতখরচা হয়ে যায়। আমরা কেউ ১০ বছর, কেউবা ১৫ বছর ধরে পৈতে তৈরির কাজ করছি। মাসের শেষে কেউ ৫০০০, কেউ ১০০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারি”।





