East Medinipur News: মেশিনের যুগেও স্বদেশি ঐতিহ্যের জয়জয়কার! পটাশপুরের গ্রামে আজও ঘোরে চরকা, টিকে রয়েছে প্রাচীন সংস্কৃতি
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Sneha Paul
Last Updated:
East Medinipur News: আধুনিকতার যুগেও অটুট প্রাচীন ঐতিহ্য। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের গ্রামে আজও শোনা যায় চরকার ঘূর্ণনের শব্দ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবাই এগিয়ে গেলেও নিজের ঐতিহ্য ভোলেনি এই গ্রাম।
পটাশপুর, মদন মাইতিঃ গান্ধিজির আমলে স্বদেশি আন্দোলনের সময় চরকা ছিল আত্মনির্ভরতার এক শক্তিশালী প্রতীক। সেই সময় দেশবাসী নিজের হাতে সুতো কেটে কাপড় তৈরি করত। এতে বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমত। চরকার ঘূর্ণনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন ও স্বদেশপ্রেমের আবেগ। তবে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। তবুও বাংলার কিছু গ্রামে আজও সেই পুরনো ঐতিহ্যের ধারা বয়ে চলেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের চন্দনপুর গ্রাম তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
এই গ্রামের সকাল শুরু হয় চরকার মৃদু ঘূর্ণনের শব্দে। এখানকার বহু পরিবার আজও তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। বাড়ির উঠোনে বসেই মহিলারা চরকা ঘোরান। প্রথমে তুলো বা সুতো তৈরির কাঁচামাল প্রস্তুত করা হয়। এরপর চরকার চাকা ধীরে ধীরে ঘোরান হয় হাতে। এক হাতে চাকা ঘোরে, অন্য হাতে ধীরে ধীরে তুলো টেনে সরু সুতো বানানো হয়। এইভাবে ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে সুতো কাটা হয়। সেই সুতো পরে ব্যবহার করা হয় শাড়ি বোনার জন্য।
advertisement
আরও পড়ুনঃ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ বাংলায়! বহরমপুরে রান্নার গ্যাসের সংকট, ৭ দিন পেরিয়েও মিলছে না সিলিন্ডার
শুধুমাত্র চন্দনপুর গ্রামের মহিলারাই নন, গ্রামের পুরুষেরাও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে বাড়ির তরুণ প্রজন্মও ছোটবেলা থেকেই এই কাজ শিখে নিচ্ছে। কেউ সুতো কাটে, কেউ বসে শাড়ি বোনে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাড়ির সব কাজ সেরে এই কাজে বসে পড়েন গ্রামের মহিলারা। এতে সংসারের আয়ও হয়, আবার ঐতিহ্যও টিকে থাকে। অনেকেই মনে করেন, চরকা শুধু একটি যন্ত্র নয়। এটি তাঁদের জীবনের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কাজই তাঁদের পরিচয় গড়ে তুলেছে।
advertisement
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশ। কিন্তু চন্দনপুর গ্রাম আজও তাঁদের ঐতিহ্য ভুলে যায়নি। আজও চরকার ঘূর্ণনের মধ্যে তাঁরা খুঁজে পান আত্মতৃপ্তি। এই কাজের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের আশা, আগামী প্রজন্মও এই ঐতিহ্যকে সম্মান করবে। চরকার শব্দ যেন চিরকাল ভেসে থাকে এই গ্রামে। সেই শব্দই মনে করিয়ে দেবে বাংলার স্বদেশি ঐতিহ্যের কথা।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Purba Medinipur,West Bengal
First Published :
Mar 12, 2026 3:29 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
East Medinipur News: মেশিনের যুগেও স্বদেশি ঐতিহ্যের জয়জয়কার! পটাশপুরের গ্রামে আজও ঘোরে চরকা, টিকে রয়েছে প্রাচীন সংস্কৃতি










