• Home
  • »
  • News
  • »
  • technology
  • »
  • Facebook-এ আর হবে না ফেস রেকগনিশন, কিন্তু কেন বন্ধ হল এই গুরুত্বপূর্ণ ফিচার?

Facebook-এ আর হবে না ফেস রেকগনিশন, কিন্তু কেন বন্ধ হল এই গুরুত্বপূর্ণ ফিচার?

কেন এই ফিচারটি বন্ধ করছে Facebook? এর পিছনে কি কোনও অন্য কারণ রয়েছে?

কেন এই ফিচারটি বন্ধ করছে Facebook? এর পিছনে কি কোনও অন্য কারণ রয়েছে?

কেন এই ফিচারটি বন্ধ করছে Facebook? এর পিছনে কি কোনও অন্য কারণ রয়েছে?

  • Share this:

#কলকাতা: কয়েকদিন আগেই নাম পরিবর্তন হয়েছে Facebook-এর। নতুন নাম Meta। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমগুলিতে এখন থেকেই Meta নামে নিজেদের প্রচার চালাচ্ছে মার্ক জুকারবার্গের (Mark Zuckerberg) সংস্থা। এর ঠিক পরেই সংস্থার তরফে আরও একটি ঘোষণা করা হয়েছে। Facebook-এর তরফে জানানো হয়েছে ফেস রেকগনিশন (Face Recognition) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিচ্ছে সংস্থাটি। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, যেহেতু সংস্থা আরও বড় আকারে প্রকাশ পাবে তাই সংস্থার তরফে এই ফিচার বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু কেন এই ফিচারটি বন্ধ করছে Facebook? এর পিছনে কি কোনও অন্য কারণ রয়েছে? বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই প্রতিবেদনে…

কী ভাবে এই ফিচারটি কাজ করত?

আমরা যাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে কম-বেশি ব্যবহার করি তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই ফেস রেকগনাইজেশন প্রযুক্তি নিয়ে অল্প বিস্তর জানি। মূলত কোনও ছবিতে কে কে রয়েছে তা বোঝা যায় ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে।

এই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। AI-এর মাধ্যমে কোনও ব্যবহারকারীরর সমস্ত ফটো অ্যকসেস করে ফেসবুক। এবং সেই ছবি থেকে বোঝার চেষ্টা করে কোনও মুখের সঙ্গে অন্য কোনও মুখের ছবির মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে বা কী কী মিল রয়েছে। এর পর যদি অন্য কেউ একটি সাধারণ গ্রুপ ছবি আপলোড করা হয় তাহলে Facebook নিজে থেকে জানিয়ে দেবে ওই ছবির মধ্যে কে রয়েছে।

Facebook-এর তরফে জানানো হয়েছে নিরাপত্তা দিতে এই ফিচারটি অত্যন্ত কার্যকরী ছিল। পরিচয়ের অপব্যবহার এবং প্ল্যাটফর্মকে আরও নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাস যোগ্য করার জন্য এই ফিচারটি অত্যন্ত কার্যকরী ছিল। এছাড়াও একে অপরের সঙ্গে পরিচয়ের ক্ষেত্রেও এই ফিচারটি অত্যন্ত কার্যকরী ছিল।

কিন্তু এই ফিচারের মাধ্যমে কি তথ্য চুরি হত?

Facebook-এর তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র ফেস রেকগনিশন অপশন অন রাখা থাকলে তবেই ব্যবহারকারীরা এই অপশনের সুবিধা পান। এবং যদি কেউ ফেস রেকগনিশন অপশন বন্ধ করে দেন তাহলে তিনি আর এই ফিচারের সুবিধা পাবেন না। এছাড়াও সংস্থার তরফে বলা হয়েছে যে সব ফেসবুক ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ বছরের উপরে শুধুমাত্র তাঁরাই এই ফিচারের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। এই পুরো বিষয়টির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডেটা চুরি হওয়ার সঙ্গে এই ফিচার বন্ধ করার কোনও সম্পর্ক নেই।

তাহলে কেন এই ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়া হল-

এই ফিচারটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সংস্থার আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরম পেসেনটি জানিয়েছেন, আরও ভালো কোনও কিছুর জন্য ফেসিয়াল রেকগনিশন ব্যবহার করা হবে। এবং এই ফিচারটির ব্যবহার এখন অল্প সংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে উপলব্ধ থাকবে। যাঁরা মূলত বিশেষ কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ফেসবুকের এই ফিচার ব্যবহার করতেন, তাঁদেরকেই দেওয়া হবে এই সুবিধা।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছেন, ফেস রেকগনিশন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিচার হিসেবে গণ্য করা হয়। এবং এই ফিচারের জন্য অনেকেই ফেসবুক ব্যবহারের জন্য আরও বেশি করে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এই ফিচারের ফলে তথ্য চুরির অভিযোগ করেছিলেন অনেকে। আর সেই কারণেই এই ফিচারটি বন্ধ করছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন- ভাইরাসে সংক্রমিত হলে চলবে না; কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখতে হয় ফোন, ল্যাপটপের স্ক্রিন

সংস্থার তরফে এটাও জানানো হয়েছে, পুরোপুরি ভাবে ফেস রেকগনিশন ফিচারটি বন্ধ করা হবে না। কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। কোনও রকম প্রতারণা বা চুরি অনেকটাই রোখা যাবে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে। এই প্রযুক্তির আরও ভালো ব্যবহারের জন্য আরও অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।

সংস্থার তরফে আরও জানানো হয়েছে, যখন এই প্রযুক্তিটি ব্যক্তিগতভাবে এবং ব্যক্তিগত কোনও ডিভাইজে ব্যবহার করা হবে তখন তা আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে। এবং ফেস ডেটার সঙ্গে এক্সটার্নাল সার্ভারের সঙ্গে কোনও সংযুক্তি থাকবে না। স্মার্টফোন আনলকের ক্ষেত্রে যেভাবে ফেস রেকগনিশন প্রযুক্ত ব্যবহার করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে আরও উন্নতভাবে তা ব্যবহৃত হবে।

ফেস রেকগনিশন বন্ধ করার পর কী ধরনের পরিবর্তন আসবে?

জেরম পেসেনটি ২ নভেম্বর একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, প্রযুক্তির ইতিহাসে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিচার বন্ধ করে দেওয়া এই প্রথম। এই প্রযুক্তি বন্ধ করার ফলে কয়েক কোটি ব্যবহারকারী তাঁদের নিজস্ব ফেসিয়াল রেকগনিশন করতে পারবেন না। তিনি আরও জানান, দৈনিক Facebook ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াশ ফেসিয়াল রেকগনিশন ফিচারটি ব্যবহার করতেন। এবং তাঁরা সব সময়ের জন্য এই ফিচারটি চালু করে রাখতেন।

আরও পড়ুন- এক কমিউনিটির অধীনে একাধিক গ্রুপ; আসছে নতুন ফিচার WhatsApp Communities

এই ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে Facebook ব্যবহারকারীরা আর এই সুবিধা পাবেন না। যার ফলে কোনও একটি ফটো বা ভিডিওতে কে কে রয়েছেন তা অটোমেটিক্যালি বা নিজে থেকে ডিটেক্ট করতে পারবে না Facebook। এছাড়াও ফেস রেকগনিশন ফিচার বন্ধ করার ফলে অটোমেটিক অল্ট টেক্সট (Automatic Alt Text) বা AAT প্রযুক্তির উপর প্রভাব পড়বে। মূলত যাঁরা চোখে দেখতে পান না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনও ছবি টেক্সটের আকারে বর্ণনা করা হত। কিন্তু এই প্রযুক্তি বন্ধ করার ফলে আর সেই সুবিধা পাওয়া যাবে না।

এবিষয়ে জেরম পেসেনটি তাঁর পোস্টে লেখেন, “এই পরিবর্তনের ফলে AAT প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক প্রভাব পড়বে। কোনও একটি ছবিতে কে রয়েছেন তা ডিটেক্ট করতে না পারার ফলে অন্ধদের কাছে তা বর্ণনা করে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। এবং যেহেতু এই প্রযুক্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাই এই প্রযুক্তি কেউ অন করতে পারবেন না।

তথ্য এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে Facebook?

নতুন নাম ঘোষণার আগে Facebook-এর বিরুদ্ধে একাধিকবার তথ্য লিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বেশ কয়েকবার এই নিয়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মীও মুখ খুলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, খারাপ বক্তব্য রোধ করার ক্ষেত্রে সদর্থক ভূমিকা পালন করতে পারেনি Facebook। যা টিনএজারদের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এবং কোনও সেলিব্রিটি পোস্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া হয়।

আগে থেকে কোনও ঘোষণা ছাড়াই ফেস রেকগনিশন পদ্ধতি কেন বন্ধ করে দেওয়া হল সেই বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তথ্য সংক্রান্ত বিষয় আরও সুরক্ষিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে Facebook।

Published by:Suman Majumder
First published: