হোম /খবর /দক্ষিণবঙ্গ /
মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ধারে ঠেলে দিলেন! চাদর জড়িয়ে নিজে লরির চাকায় পিষ্ট মা

Howrah news: মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ধারে ঠেলে দিলেন! চাদর জড়িয়ে নিজে লরির চাকায় পিষ্ট হলেন মা

Photo- Representative

Photo- Representative

Howrah news: রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গায়ের চাদর জড়িয়ে যায় দ্রুত গতিতে আসা লরির চাকায় । মৃত্যুর সময়ও কর্তব্যে অবিচল মা।

  • Last Updated :
  • Share this:

#হাওড়া: ছোট্ট মেয়ের হাত ধরে স্কুলে ভর্তি করতে যাওয়ার পথেই পথ দুর্ঘটনায় (Howrah road accident) মৃত্যু হলো মায়ের। যেই হাত ধরে ছোট্ট থেকে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলো সেই অবুঝ চোখের সামনেই মায়ের মর্মান্তিক পরিণতি দেখলো ছোট্ট মেয়েটি। ঘটনাটি ঘটে হাওড়া ধুলাগড় ফটিকগাছি রাজ্য সড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ ছোট্ট মেয়ের হাত ধরেই যাচ্ছিলেন বছর ৪২ এর শম্পা মান্না | মহিলার পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসা লরির চাকায় মহিলার গায়ের চাদরটি আটকে যায়। লরিটি টানতে টানতে মহিলা কে নিয়ে যায় কয়েকশো মিটার রাস্তা।

বেশকিছুটা নিয়ে যাওয়ার পর চাদর পুরোটা গুটিয়ে যেতেই রাস্তার উপরে পড়ে যান মহিলা। তখনই তাঁর মাথার উপর দিয়ে চলে যায় লরির পিছনের চাকা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মহিলার। দুর্ঘটনার (Howrah road accident) সময়ে বিপদ বুঝতে পেরে মেয়ের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে মায়ের শেষ কর্তব্য পালন করেন শম্পাদেবী। শুধু হাত ছাড়িয়েই না, ধাক্কা দিয়ে মেয়েকে রাস্তার ধারে সরিয়ে দেন। মা নিজে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েও মেয়েকে আগলে রাখলেন। এই দৃশ্য কাঁদিয়ে তুলেছে দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনদের।

আরও পড়ুন - প্রয়াত কবি শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়! সাহিত্য জগৎ শোকস্তব্ধ

পাঁচলা থানার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পাঁচলার জুজারশাহের বাসিন্দা শম্পা মান্না তাঁর মেয়ে পূর্বাশাকে নিয়ে কুলডাঙ্গা বিবেকানন্দ বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে ঘটে এই দুর্ঘটনা। ঘাতক লরিটিকে আটক করা হয়েছেয চালক ও খালাসিকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রাই। পরে তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে যাওয়া পূর্বাশাও কিছুটা আহত হয়েছে। তবে তার থেকে বেশি মানসিক ভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে শিশুটি। চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সে।

আরও পড়ুন - মোবাইলে নয়, পার্কে স্কুল! অনলাইন ক্লাস থেকে মুক্তি পেয়ে বেজায় খুশি পড়ুয়ারা

শম্পা দেবীর স্বামীর দাবি, নিজের হাতেই মেয়েকে বড় করে তোলার স্বপ্ন ছিল শম্পা দেবীর। মায়ের মৃত্যুর পর কীভাবে মা হারা সন্তানকে বড় করে তুলবেন তা বুঝতে পারছেন না। মেয়ের শিক্ষা দীক্ষা কী করে হবে তার থেকে বেশি চিন্তা মেয়েকে এই বীভৎস স্মৃতি থেকে কী করে বার করতে পারবেন। সেই চিন্তাই ঘুর পাক খাচ্ছে গোটা পরিবারের মাথায়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

দেবাশিস চক্রবর্তী

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Howrah