নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে এবার যুক্ত হল RSS-এর ইতিহাস

নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে এবার যুক্ত হল RSS-এর ইতিহাস
ফাইল ছবি
  • Share this:

#নাগপুর: মহারাষ্ট্রের পড়ুয়াদের এবার থেকে পড়তে হবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইতিহাস ৷ নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে এবার যুক্ত হল RSS এর ইতিহাস ৷ সম্প্রতি সিলেবাস পরিবর্তন করেছে রাষ্ট্রসন্ত তুকদোজি মহারাজ নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয় ৷ স্নাতক স্তরে ভারতের ইতিহাস অধ্যায়ে এবার পড়ুয়াদের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের জন্ম মুহূর্ত থেকে স্বাধীনতা পাওয়া অবধি সময়ের কার্যকলাপ সম্পর্কে পড়তে হবে ৷

এই প্রথম কোনও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের পাঠ্যে স্বঘোষিত হিন্দুত্ব সংগঠনের ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করল ৷ স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাসে সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে জায়গা দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইতিহাসকে ৷ সিলেবাস পরিবর্তনের এমন ঘটনা সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ৷ এমন ঘটনায় শিক্ষায় গৈরিকীকরণের অভিযোগ তুলেছেন অনেক শিক্ষাবিদ ৷

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের নাগপুরেই আরএসএস-এর গোড়াপত্তন ৷ ১৯২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ৷ সিলেবাসে দেশ গঠনে ভূমিকা নিয়েছেন যারা সেই অধ্যায়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের উল্লেখ করা হয়েছে ৷ এর সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে তার ইতিহাস ৷ নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের পাঠ্যে শুধু আরএসএস-ই নয় রয়েছে কংগ্রেসের ইতিহাসও ৷ কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা থেকে চরমপন্থী শাখার ইতিহাস জায়গা পেয়েছে ইতিহাসের পাঠ্যে ৷

RSS

কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের ফিরে আসার পর পরই এই সিলেবাস পরিবর্তনের কথা সামনে আসায় শিক্ষায় জোর করে হিন্দুত্ববাদ ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে ৷ কারও কারও মতে শিক্ষায় গৈরিকীকরণের উদ্দ্যেশেই এই প্রচেষ্টা ৷ মোদি জমানাতেই প্রথম নয়, সিলেবাসে গৈরিকীকরণ বা হিন্দুত্ববাদের থাবার অভিযোগ এর আগে শেষবার বাজপেয়ী জমানায় উঠেছিল ৷ সেসময় মুরলী মনোহর যোশী ছিলেন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ৷

নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পদক্ষেপ দেশ জোড়া সমালোচনার মুখে ৷ সিলেবাস কমিটির আধিকারিক সতীশ ছ্যাপলে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে বলেছেন, পাঠ্যে আরএসএস-এর ইতিহাস নতুন কিছু নয় ৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইতিহাস ২০০২ সাল থেকেই মাস্টার্স কোর্সের অন্তর্ভুক্ত ৷ তারই ছোট একটা অংশ পড়ুয়াদের জ্ঞান বাড়াতে স্নাতক স্তরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও থামছে না বিতর্ক ৷ এই তথ্য মানতে নারাজ অনেকেই ৷ তাদের যুক্তি, আরএসএস একটি সংবিধান বিরোধী প্রতিষ্ঠান ৷ সংবিধান অনুযায়ী এই রাজনৈতিক সংগঠনের আদর্শ সংবিধান পরিপন্থী ৷ এমন এক সংগঠনকে ইতিহাসের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার কী দরকার পড়ল ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ শিক্ষাবিদরা সিলেবাস বদলের যুক্তি হিসেবে বলেছেন, স্বাধীনতার আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল ৷ তা পড়ুয়াদের জানা উচিত ৷ তবে এর পাশাপাশি বিরুদ্ধ মতও পোষণ করেন নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত বহু শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপকেরাই ৷ সিলেবাসে আরএসএস-কে দেশ গঠনে অগ্রণী বলে বর্ণনা করাতেই বিশেষত উঠেছে এই আপত্তি ৷

First published: July 9, 2019, 6:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर