• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • Bhoot Chatrurdashi: ভূত চতুর্দশীর ‘১৪ শাক’ ঠিক কোনগুলো? জানুন তাদের অপরিসীম গুণাগুণ

Bhoot Chatrurdashi: ভূত চতুর্দশীর ‘১৪ শাক’ ঠিক কোনগুলো? জানুন তাদের অপরিসীম গুণাগুণ

আজ ১৪ বাতি দেওয়ার দিন, ১৪ শাক খাওয়ার তিথি

আজ ১৪ বাতি দেওয়ার দিন, ১৪ শাক খাওয়ার তিথি

খেতে হবে ১৪ রকম শাক (14 shak on Bhoot Chaturdashi)৷ বাঙালি বাড়িতে দৈনন্দিন আহারে যে শাকপাতা রান্না করা হয়, তাদের থেকে এদিনের শাক কিন্তু আলাদা

  • Share this:

    কালীপুজোর আগের দিনটি পালন করা হয় ভূত চতুর্দশী (Bhoot Chatrudashi) তিথি হিসেবে ৷ এ দিনের সঙ্গে ১৪ সংখ্যাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে৷ প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এদিন রাতে বাড়িতে ১৪ টি প্রদীপ (14 earthen lamps on Bhoot Chaturdashi) জ্বালতে হয়৷ বিশ্বাস, হেমন্তের রাতে এভাবেই উত্তসূরির কাছে আলো দেখেন স্বর্গত ১৪ পুরুষ৷ শীতের আগে পাতাঝরা হেমন্ত পূর্বজদের স্মরণ করার ঋতু৷ তাই এই সময়েই সন্ধ্যা হলে হলেই দূরের তারার দিকে তাকিয়ে জ্বলে ওঠে আকাশপ্রদীপ৷

    এ তো সব রাতের পালনীয় রীতি৷ তার আগে দিনে খেতে হবে ১৪ রকম শাক (14 shak on Bhoot Chaturdashi)৷ বাঙালি বাড়িতে দৈনন্দিন আহারে যে শাকপাতা রান্না করা হয়, তাদের থেকে এদিনের শাক কিন্তু আলাদা৷ এই ১৪ শাক সম্পূর্ণ ভেষজ গুণে ভরপুর৷ আমরা অনেকেই তাদের নাম ঠিক করে জানি না৷ বাজারে যে আঁটি বিক্রি হয়, তাতেও ওষধির পরিবর্তে মিশে থাকে সাধারণ প্রচলিত শাকপাতাই৷ এই ঋতু পরিবর্তেনের সময় শরীরকে নানা সমস্যার থেকে রক্ষা করে এই ভেষজ শাকগুলি৷

    আরও পড়ুন :  হাঁপানির সমস্যার জেরে কষ্ট হয় আতসবাজির দূষণে? রইল বাঁচার উপায়

    ওল- সব্জি হিসেবে খেলেও আমরা অধিকাংশই এর পাতা বা শাক কেমন দেখতে চিনি না ৷ খাওয়া যায় ওলের ডাঁটাও৷ আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, ওলশাক রক্ষা করে মরসুমি ঠান্ডা লাগা এবং সর্দিকাশির হাত থেকে৷ অরুচি দূর করে৷ পরিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে ওলশাক৷

    কেঁউ- গুল্মজতীয় এই গাছ ঝোপঝাড়েই বেশি জন্মায়৷ কৃমির সমস্যা কমাতে, অখিদে দূর করতে আয়ুর্বেদশাস্ত্রে কেঁউশাকের গুরুত্ব আছে৷ এছাড়া চর্মরোগ নাশ করার জন্যও এই শাক উপকারী৷ নিয়মিত সেবনে বাড়ে ত্বকের লাবণ্যও৷

    বেতো- লিভারকে সুস্থ রাখতে বেতো শাক জুড়িহীন৷ এছাড়া অখিদে, কৃমির সমস্যা, পাইলসের যন্ত্রণা উপশমেও কার্যকর এই শাক৷ কিডনিতে পাথর হলে বা মূত্রত্যাগের সময় প্রদাহ অনুভব করলে বেতো শাকের রস খেলে আরাম পাওয়া যায়৷

    আরও পড়ুন : ‘ঝুটো পাথর’ ভেবে আর একটু হলেই ডাস্টবিনে, তরুণীর হাতে ২০ কোটির হিরে!

    সর্ষে- এই শাক খাওয়ার চল আছে অবাঙালি পরিবারেও৷ পঞ্জাবি রান্নার ‘সর্ষো কি শাগ’ ভেষজ গুণের আধারও৷ এই শাক খেলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা গুড কোলেস্টেরল বাড়ে৷ দেহে ভিটামিন ডি তৈরি করতে সাহায্য করে৷

    কালকাসুন্দে- অ্যালার্জি-সহ ত্বকের যে কোনও সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, জ্বর ও ক্ষত নিরাময়ের জন্য এই গুল্মপাতা ব্যবহৃত হয়৷ সর্দিকাশি জ্বরে এই পাতার রস দেওয়া হয়৷ অরুচি এবং পেটের রোগ কমাতেও এই শাক উপকারী৷

    নিম-এই পাতার উপকারিতা তো বলে শেষ করা যায় না৷ মধুমেহ এবং পেটের রোগ প্রশমনে নিমপাতার মতো কার্যকারিতা বিরল৷ নিয়মিত নিমের রসে উজ্জ্বল থাকে ত্বক৷ বাচ্চাদের কৃমির সমস্যা দূর করতেও নিমের রস খেতে বলা হয়৷

    আরও পড়ুন : পুলিশ আধিকারিক বাবার পথে পা রেখে মেয়েও একই পেশায়, দু’জনে মুখোমুখি অভিবাদন-পর্বে

    জয়ন্তী- এই গুল্মও ঝোপঝাড়ে জন্মায় ৷ অনাদরে পড়ে থাকা এই পাতা সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে বহু সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়৷ সারতে না চাওয়া একঘেয়ে কাঁচা সর্দি, নাক বন্ধ এবং মাথা ভার হয়ে থাকার সমস্যায় কার্যকর এই পাতা৷ মধুমেহ নিয়্ন্ত্রণেও এই পাতার রস ব্যবহার কর হয়৷

    শাঞ্চে- সাঞ্চি বা মালঞ্চ শাক নামেও পরিচিত ৷ জলা জায়গায় জন্মানো এই শাক পেট ঠান্ডা রাখে৷ পরিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে৷ অখিদে দূর করে খিদে বাড়ায়৷ প্রচুর ফাইবার থাকায় এই শাকের জন্য রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রিত হয়৷ আয়রন সমৃদ্ধ বলে রক্তাল্পতাও প্রতিরোধ করে৷

    হিলঞ্চ-এই শাককে অনেকে ডাকেন হিঞ্চে বলেও৷ আয়ুর্বেদ মতে, এই শাক রক্তশোধক এবং ক্ষুধাবর্ধক৷ পাশাপাশি, পিত্ত সমস্যাতেও কার্যকর৷ রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়াতেও সাহায্য করে এই শাক৷

    পলতা- পটলের পাতাই পরিচিত পলতাপাতা নামে৷ খিদে ও হজমশক্তি দুই-ই বাড়ায় এই পাতার তিক্ত স্বাদ৷ নিয়মিত খেলে দূর হয় কোষ্ঠ্যকাঠিন্য৷

    শৌলফ- পুরনো ক্ষত, জ্বর, চোখের সংক্রমণ উপশমে এই পাতার রস কার্যকর৷ মাতৃদুগ্ধের পরিমাণ বাড়াতে এবং বাচ্চদের পেটের গণ্ডগোল সারাতে এই শাক দেওয়া হয় আয়ুর্বেদ চিকিৎসায়৷

    গুলঞ্চ- গুডুচি নামেও অনেকে ডাকেন গুলঞ্চ লতাকে৷ ঋতু পরিবর্তনে এই শাক শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে৷ মধুমেহ, পেটের আলসার, গেঁটে বাত, জন্ডিস, যক্ষ্মা ও কোষ্ঠকাঠিন্যে এই শাক উপকারী৷

    ভাটপাতা- লিভারের সমস্যা, চুল পড়া, হাঁপানি, সর্দিকাশি, চর্মোগ-সহ নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এই পাতা ব্যবহার করা হয়৷

    শুষনি- চর্মরোগ, মাউথ আলসার, উচ্চরক্তচাপ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা শুষনি শাক দেন৷ নিয়মিত এই শাক খেলে মানসিক চাপ জনিত যে কোনও সমস্যা ও মাথার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ৷

    এই ১৪ শাকের সম্মিলিত স্বাদ তিতকুটে৷ ঋতু পরিবর্তনের সময় এই স্বাদ গড়ে তোলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা৷ এই ১৪ শাকের কথা বলেছেন নব্য স্মৃতিশাস্ত্রকার রঘুনন্দন৷ বাংলা পঞ্জিকাতেও ১৪ শাক বলতে উল্লেখ আছে এদের কথাই৷ তবে বিভিন্ন জায়গায় এই শাক নিয়ে মতভেদও আছে৷ অনেক সময়েই ১৪ শাকের তালিকায় ঢুকে পড়ে গিমে, কলমি এবং নটে শাকও৷ তবে এখন শহরাঞ্চলে তো বটেই, গ্রামেও এই শাকগুলি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ তাই হাতের কাছে যে শাক পাওয়া যায়, তাই দিয়েই বন্দি করা হয় আয়ুর্বেদের গুণাগুণ৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: