• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • কখন এডিস মশা বেশি কামড়ায়? ডেঙ্গু সংক্রমণ এড়াতে কী কী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে?

কখন এডিস মশা বেশি কামড়ায়? ডেঙ্গু সংক্রমণ এড়াতে কী কী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে?

সাধারণ মশার কামড় এবং ডেঙ্গু মশার কামড়ের মধ্যে পার্থক্য করা অবিশ্বাস্য ভাবে কঠিন হতে পারে।

সাধারণ মশার কামড় এবং ডেঙ্গু মশার কামড়ের মধ্যে পার্থক্য করা অবিশ্বাস্য ভাবে কঠিন হতে পারে।

সাধারণ মশার কামড় এবং ডেঙ্গু মশার কামড়ের মধ্যে পার্থক্য করা অবিশ্বাস্য ভাবে কঠিন হতে পারে।

  • Share this:

#কলকাতা: গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে ডেঙ্গু (Dengue) আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও অনিয়মিত বর্ষা এবং ঋতু পরিবর্তন বৃদ্ধির পিছনে প্রধান কারণ। অনেক সময় ডেঙ্গুর সংক্রমণ গুরুতর হয়ে উঠছে নতুন রূপের কারণে। ডেঙ্গু একটি এডিস মশাবাহিত ভাইরাল রোগ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এডিস ইজিপ্টাই (Aedes Aegypti) প্রজাতির মহিলা মশা (Mosquito) ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রধান বাহক।

এই মশা চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার এবং জিকা ভাইরাসের ভেক্টর। ডেঙ্গু একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং অপরিকল্পিত দ্রুত নগরায়ণের উপরে নির্ভর করে এই রোগের বৃদ্ধি ঘটে। ডেঙ্গু রোগের বিস্তৃতি বিরাট। অনেক সময় মানুষ জানতেই পারে না যে সে সংক্রমিত।

আরও পড়ুন: Gold Price Today: সোনা কেনার দুর্দান্ত সুযোগ, দেখে নিন আজ কত হল সোনালি ধাতুর দাম

সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্লুর মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকে আবার মারাত্মক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যার কারণে রক্তপাত, অঙ্গ দুর্বলতা অথবা প্লাজমা লিকেজ হতে পারে। যথাযথ ভাবে চিকিৎসা না হলে মারাত্মক ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে। ডেঙ্গুর কোনও টিকা এখনও পর্যন্ত সহজলভ্য নয়। টিকা সহজলভ্য থাকলে সত্যিই ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোখা যেত অনেকাংশেই ও সম্ভাব্য ঝুঁকি কমে যেত। কিন্তু, ডেঙ্গু মশা ঠিক কী রকম হয়? তা চিনবেন কী ভাবে?

ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়ায়। সাধারণ মশার কামড় এবং ডেঙ্গু মশার কামড়ের মধ্যে পার্থক্য করা অবিশ্বাস্য ভাবে কঠিন হতে পারে। তবুও কয়েকটি জিনিস জানতে হবে। তাতে এটা বোঝা যাবে যে কী ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণ ছড়াতে শুরু পারে এবং এর ঝুঁকি এড়াতে কী কী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন: আজ থেকে বিপুল দাম বাড়ল এলপিজি সিলিন্ডারের !

মশা কখন সব চেয়ে বেশি কামড়ায়?

ডেঙ্গু মশা দিনের বেলায় সব চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। বলা হয় যে সকাল ও বিকেলে সংক্রমণের সম্ভাবনা সব চেয়ে বেশি। গবেষণা অনুসারে, মশা দিনের বেলায় সব চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, সূর্যোদয়ের প্রায় ২ ঘন্টা পরে এবং সূর্যাস্তের কয়েক ঘন্টা আগে। যদিও, এডিস ইজিপ্টাই মশা সূর্যাস্তের পরেও মানুষকে কামড়াতে পারে। ডিম পাড়ার সময়কালে এডিস মশা একাধিক বার কামড়াতে পারে। ডিম পাড়ার পর ডিমগুলি বেশ কয়েক মাস ধরে পড়ে থাকে। জলের সংস্পর্শে এলেই সেগুলি থেকে বাচ্চা বের হয়।

এই ডেঙ্গু মশার কামড়ের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল সেই জায়গা, যেখানে মশা একজন মানুষকে কামড়ায়। ডেঙ্গু সংক্রমিত মশা শরীরের বিভিন্ন অংশ, যেমন পায়ের গোড়ালি, কনুইয়ের চারপাশে কমড়ায়। এটিও মনে রাখা উচিত যে মশার একটি কামড়ই একজন ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে এবং উপসর্গ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

সংক্রমিত মশা কামড়ালেই কি ডেঙ্গু হয়?

প্রতিটি মশার কামড়ে ডেঙ্গু হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। ডেঙ্গু সংক্রমণ বিশেষত এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই মশা বেশিরভাগ গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুতে বৃদ্ধি পায় এবং শীতকালে বাঁচে না। ডেঙ্গু সৃষ্টিকারী ভাইরাসের সংক্রমণের একটি সম্ভাব্য চিহ্ন হল শরীরের নিচের দিকে এবং পায়ে গাঢ় এবং সাদা রঙের দাগ হতে পারে। জল রয়েছে এমন জায়গাতেই ডেঙ্গু ছড়ানো মশা ডিম পাড়ে, কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল যে শুধুমাত্র মহিলা এডিস মশাই ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে। এর পর মানুষকে কামড়ে সংক্রমণ ছড়ায়।

মশার কামড়ের মধ্যে পার্থক্য করার উপায় আছে কি?

মশার কামড় সনাক্ত করা বা কামড়ের পার্থক্য করা কঠিন কাজ। ডেঙ্গুর মতো মরসুমি সংক্রমণ এড়াতে প্রতিরোধই হল সব চেয়ে ভালো উপায়। যদি ডেঙ্গু সংক্রমিত মশা কাউকে কামড়ায়, তবে কামড়ের জায়গাটি স্বাভাবিক মশার কামড়ের চেয়ে বেশি লাল হয়ে যাবে ও চুলকানি হতে পারে।

ডেঙ্গুর উপসর্গ কখন দেখা যায়?

ডেঙ্গুর ভাইরাসটি সংক্রমিত মহিলা মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে আসে। প্রাথমিক ভাবে এডিস ইজিপ্টাই মশা বাহক হিসেবে কাজ করে। স্ত্রী মশা ডেঙ্গু আক্রান্তর রক্তপান করে নিজে সংক্রমিত হয় ও ভাইরাস বহন করে। প্রায় ৮-১০ দিন পর ভাইরাস মশার দেহের অন্যান্য কোষে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে আছে মশার লালাগ্রন্থি ও সেকেন্ডারি টিস্যু। একবার সংক্রমিত হয়ে গেলে, মশা সারা জীবন এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। ডেঙ্গু ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড অর্থাৎ মশার কামড় থেকে শরীরে সংক্রমণ হওয়ার মধ্যবর্তী সময়কাল ৪-১০ দিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে উপসর্গগুলি এর পরে যে কোনও জায়গায় দেখা যেতে পারে। বয়স এবং আগে থেকে থাকা অন্য অসুস্থতার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: দিনে মাত্র ২০০ টাকা বাঁচিয়ে হয়ে যেতে পারেন ৩২ লক্ষ টাকার মালিক !

ডেঙ্গু জ্বরের সঙ্গে এখন ভাইরাসের বর্তমান এডিস ইজিপ্টাই (DENV-2) স্ট্রেনের তীব্রতা জড়িত। তাই ডেঙ্গুর সঠিক উপসর্গগুলি সম্পর্কে জানা, লক্ষ্য করা সঠিক রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণের সব চেয়ে সাধারণ প্রাথমিক উপসর্গগুলি মধ্যে রয়েছে- দারুণ জ্বর (সাধারণত ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি), গায়ে ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, জয়েন্ট এবং হাড়ের ব্যথা, পেটে ব্যথা, ফুসকুড়ি, চোখে লালভাব, বমি বমি ভাব ও বমি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে?

এটি মনে রাখা উচিত যে ডেঙ্গু একটি সংক্রমণ হিসাবে রয়ে গিয়েছে যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মূল করা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণরূপে এড়ানো যায়।

জানালার পর্দা, প্রতিষেধক, কীটনাশক সামগ্রী, কয়েলের ব্যবহার ডেঙ্গু ঠেকিয়ে রাখতে পারে। ত্বকের সংস্পর্শে যাতে মশা কম আসতে পারে এমন পোশাক পরতে হবে। প্রাদুর্ভাবের সময় স্প্রে হিসাবে কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। মশা ডিম পাড়তে পারে এমন জায়গায় নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে নতুন নতুন সরঞ্জাম এবং উদ্ভাবনী কৌশলের ব্যবহার করতে হবে। শেষে থাকছে কমিউনিটি সংযুক্তি। মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে শিক্ষিত করা। স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিভাগসমূহের মধ্যে সহযোগিতা (সরকারি ও বেসরকারি) এই প্রসঙ্গে একান্ত কাম্য।

সাম্প্রতিক দশকগুলিতে সারা বিশ্বে ডেঙ্গুর প্রকোপ নাটকীয় ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপসর্গহীন বা হালকা উপসর্গ থাকছে। তাই ডেঙ্গু রোগের প্রকৃত সংখ্যা কম রিপোর্ট করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য জ্বরজনিত অসুস্থতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। অনুমান প্রতি বছর ৩৯০ মিলিয়ন ডেঙ্গুর সংক্রমণ হয়। যার মধ্যে ৯৬ মিলিয়ন ক্লিনিক্যালি প্রকাশ পায়। ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে আরেকটি গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে ৩৯০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশ্বের ১২৯টি দেশে সংক্রমণের এই ঝুঁকি রয়েছে। যার মধ্যে ৭০ শতাংশ দেশ এশিয়ার। গত দুই দশকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আটগুণ বেড়েছে।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: