Home /News /explained /

Omicron: বাড়িতে করা কোভিড টেস্টে কি ওমিক্রন ধরা পড়বে? তা কত দূর ভরসাযোগ্য?

Omicron: বাড়িতে করা কোভিড টেস্টে কি ওমিক্রন ধরা পড়বে? তা কত দূর ভরসাযোগ্য?

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

Covid 19: এই টেস্টিং কিট নতুন প্রজাতিকে শনাক্ত করতে পারে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাস (Coronavirus) অতিমারী শুরু হওয়ার পর থেকেই বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা কোভিড টেস্টিং (Covid Test) এবং ডায়াগনস্টিকসের ক্ষেত্রে জোর দিয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মামলার সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলেছে যে, নতুন কোভিড প্রজাতি বার বার আবির্ভূত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকটির মোকাবিলা করা এবং নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়েছে। তবে, ডেল্টা এবং ওমিক্রন বিশ্বজুড়ে, ভারতে প্রচুর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বা চালাচ্ছে। আমাদের কাছে এখন র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের বিকল্প রয়েছে, যা দ্রুত বলে দিতে পারে কেউ সংক্রমিত হয়েছে কি না। করোনাভাইরাসের নতুন ওমিক্রন (Omicron) প্রজাতিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে বিশেষজ্ঞরা বাড়িতেই ব্যবহার করা যায় এমন টেস্টিং কিটের (Home Testing Kits) ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা তুলে ধরেছেন। যদিও এই টেস্টিং কিট নতুন প্রজাতিকে সনাক্ত করতে পারে কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাড়িতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা বনাম আরটি পিসিআর টেস্ট: কোভিডের ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং মলিকুলার টেস্ট (Molecular Tests), উভয়ই শরীরে SARs-COV-2 ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করতে সাহায্য করে। যদিও একটি মলিকুলার টেস্ট পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (PCR) নামেও পরিচিত। এই টেস্টের রিপোর্ট আসতে দেরি হয়। কিন্তু, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (Rapid Antigen Test) খুব অল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জানিয়ে দেয়। অ্যান্টিজেন টেস্ট ভাইরাসের স্ট্রেনে প্রোটিন (Protein) সনাক্ত করে এবং জানিয়ে দেয় যে একজন ব্যক্তি সংক্রমিত কি না। অন্য দিকে, মলিকুলার টেস্ট আরএনএ বা ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান শনাক্ত করতে সাহায্য করে, যা সম্ভবত সবচেয়ে সঠিক ফলাফল দিতে পারে। এই উভয় টেস্টই নাক বা গলার সোয়াবের সাহায্যে করা হয়। লালা এবং নাকের ভিতরের তরল শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন - ভারতের থেকে ব্রহ্মস মিসাইল কিনতে চলেছে ফিলিপিন্স, প্রতিরক্ষা রফতানি ভারতের অবস্থানে বড় বদল

বাড়িতে কোভিড পরীক্ষার ফলাফল কতটা সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে অল্প সময়ের মধ্যে SARs-COV-2 ভাইরাস সনাক্ত করার জন্য বাড়িতে টেস্ট করা একটি দুর্দান্ত হাতিয়ার। এটি শুধুমাত্র রিপার্ট দ্রুত দেয় না, এখনও পর্যন্ত এটি কার্যকরীও প্রমাণিত হয়েছে। মলিকুলার বা পিসিআর টেস্টের তুলনায় বাড়িতে করা টেস্টগুলি নির্ভুলতার দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে। কারণ তারা ১৫ মিনিটেরও কম সময়ে ফলাফল দেয়। তবে এটি বেশ কার্যকর বিকল্প। আরটি পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট আসতে এত সময় লাগে কারণ এটি ব্যয়বহুল ডায়াগনস্টিক প্রক্রিয়াগুলির মধ্য দিয়ে যায়। অন্য দিকে, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট ভাইরাসের পৃষ্ঠে পাওয়া প্রোটিন বা অণুগুলির সন্ধান করে, যার কারণে ফলাফল দ্রুত ও সহজেই যাচাই করা যায়।

আরও পড়ুন - IPL 2022: ধোনিকে খোঁচা দিয়ে ট্যুইট কেকেআরের, পাল্টা উত্তর দিতে আসরে রবীন্দ্র জাদেজা

ভুল রিপোর্টের সম্ভাবনা: অ্যান্টিজেন টেস্টগুলি দ্রুত ফলাফল জানিয়ে দেয় এবং এটার খরচও কম। তবে, এটা বলা যায় না যে সেগুলি ১০০ শতাংশ সঠিক। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট থেকে ভুল ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। বাড়িতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষা যতটা সুবিধাজনক বলে মনে হয়, পিসিআর টেস্টের তুলনায় দ্রুত এটির রিপোর্ট ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কেন এটি ঘটে তার পিছনে একটি বড় কারণ হল অ্যান্টিজেন পরীক্ষা শুধুমাত্র প্রোটিন অংশ দেখে, সম্পূর্ণ ভাইরাস আরএনএ নয়। সুতরাং, কোনও ডায়াগনস্টিক ভুল এড়াতে অন্য পদ্ধতিতে টেস্ট করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে একটি আরটি পিসিআর টেস্ট (RT-PCR)।

র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে কি ওমিক্রন ধরা পড়ে?

ওমিক্রন প্রজাতি (Omicron Variant) সারা বিশ্বে অনেক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। এর থেকে সংক্রমণের হার ক্রমবর্ধমান। তাই বাড়িতেই টেস্ট করা যায় এমন কিটের চাহিদা বেড়েছে। তবে, অ্যান্টিজেন পরীক্ষা নতুন এই প্রজাতি সনাক্ত করতে পারে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (US Food and Drug Administration) একটি সাম্প্রতিক আপডেটে বলেছে যে র‍্যাপিড পরীক্ষাগুলি করোনাভাইরাসের যে কোনও প্রজাতির সংক্রমণ সনাক্ত করতে পারে। তা সে আলফা, বিটা, ডেল্টা বা ওমিক্রন, যাই হোক না কেন। আমেরিকার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচিও (Anthony Fauci) বলেছেন যে বাড়িতে টেস্ট করলে, তাতে ওমিক্রন প্রজাতির সনাক্তকরণের সম্ভাবনা কম হতে পারে। তবে তা নির্বিশেষে যে কোনও প্রজাতির সংক্রমণ সনাক্ত করতে পারে। যদিও পিসিআর টেস্টকে করোনা সনাক্ত করার সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি বলা হয়। তবে দ্রুত ফলাফলের জন্য অনেকেই অ্যান্টিজেন টেস্টের উপর নির্ভর করে।

ভারতে অনুমোদিত কিট সম্পর্কে যা জানা উচিত: ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা হোম টেস্ট কিট (Home Test Kits) ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছেন। আরটি-পিসিআর (RT-PCR) ভিত্তিক টেস্টের রিপোর্ট পেতে দেরি হয়। তাই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ (Rajesh Bhushan) এবং আইসিএমআর (ICMR) ডিজি সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের কাছে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ ভারতে একাধিক সেল্ফ কোভিড টেস্ট কিটস ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মাইল্যাব ডিসকভারি সলিউশনের (MyLab Discovery Solutions) তৈরি কোভিসেল্ফ (CoviSelf), অ্যাবট (Abbott) দ্বারা প্যানবিও কোভিড-২৯ অ্যান্টিজেন সেল্ফ টেস্ট (Panbio COVID-29 Antigen Self-Test), অ্যাংস্ট্রমের (Angstrom) অ্যাংকার্ড কোভিড-১৯ অ্যান্টিজেন র‌্যাপিড টেস্ট কিট (Angcard Covid 19 Antigen Rapid Test Kit)। টেস্টিং কিটগুলির দাম ২৫০-৫০০ টাকার মধ্যে। যা পিসিআর টেস্টের তুলনায় সস্তা। ভারতে পিসিআর টেস্টের খরচ ৪০০-১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পড়ে। এছাড়া, ল্যাবরেটরিতে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের খরচ পড়ে ৩০০-৯০০ টাকার মধ্যে।

উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে টেস্ট করতে হবে: এখনও অবধি আমরা সবাই সচেতন যে কোভিডে যে কেউ সংক্রমিত হতে পারে। কোভিডের সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছ-জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, ক্লান্তি, গন্ধ এবং স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়া। এই উপসর্গগুলি দেখা দিলেই টেস্ট করতে হবে। অবশ্যই নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দূরে রাখতে হবে। টিকা নেওয়া হোক বা না হোক, সাধারণ কোভিড বিধিগুলি অবশ্যই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টিকা নেওয়া হোক বা না হোক, বর্তমানে সবাই সংক্রমণ প্রবণ। প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু এবং বয়স্ক, সবাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ভাইরাসটিই অত্যন্ত সংক্রামক। যারা বয়স্ক এবং আগে থেকেই কোনও রোগে আক্রান্ত বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তাই কোভিড বিধি ও অন্য সব সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক (Mask) পরতে হবে। অন্য লোকেদের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সম্পূর্ণ টিকা নেয়নি, এমন লোকজনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।

First published:

Tags: Coronavirus, Omicron

পরবর্তী খবর