Home /News /explained /
Google AI: অজানাকে আনে চোখের সামনে, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে কীভাবে কাজ করে গুগল?

Google AI: অজানাকে আনে চোখের সামনে, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে কীভাবে কাজ করে গুগল?

Google AI: সার্চ ইঞ্জিনের অ্যালগরিদমে বড় আপডেট আনার ঘোষণা করে দিয়েছে এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: আরও উন্নত পরিসেবা দিতে প্রস্তুত গুগল (Google)। সার্চ ইঞ্জিনের অ্যালগরিদমে বড় আপডেট আনার ঘোষণা করে দিয়েছে এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা। নতুন এই আপডেটে কোনও তথ্য খোঁজার সময় পাওয়া যাবে আরও সুনির্দিষ্ট ফলাফল।

এই মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির দাবি ১০টির মধ্যে একটি ফলাফল বের করার সূত্রে তুলনামূলক বেশি প্রাসঙ্গিক ফলাফলকে দেখানো সম্ভব হবে এই আপডেটের পর।

আরও পড়ুন- ভারতে তৈরি ই-বাইক এক চার্জেই চলছে ৪০০০ কিলোমিটার, চমকে গেল গোটা বিশ্ব

বিশ্ব জুড়ে গুগলের প্রভূত সহায়তা দেখে কেউ কেউ মনে করেন, তাঁরা গুগলের পৃথিবীতে বাস করেন। মনের যে কোনও কৌতূহল, বা যে কোনএ প্রশ্নের তৎক্ষণাৎ উত্তর পেতে খুব উপযোগী ইঞ্জিন হলো গুগল।

গুগল সার্চের নিয়ম না জানার ফলে আমাদের আলাদা আলাদা পেজে গিয়ে সার্চ রেজাল্ট দেখতে হয়:

গুগল সাধারণত প্রতি পেজে ১০টি করে রেজাল্ট দেখায়। চাইলে প্রতি পেজে ১০০টা পর্যন্ত ফলাফল দেখতে পারা যায়। জিমেইল (Gmail), যে কোনও মানচিত্র (Google Maps), ইউটিউব (YouTube) সহ অসংখ্য পরিষেবা প্রতিদিন কোটি কোটি লোক ব্যবহার করে এই গুগল থেকে। গুগলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য 'আলফাকোড।' এই প্রযুক্তি নতুন নতুন সমস্যার সমাধান করে। প্রোগ্রামিংয়ের প্রতিযোগিতায় বিশেষ অবদানের সাক্ষ্য বহন করে। আধুনিক প্রযুক্তির এই প্রোগ্রামিংয়ের অপ্রত্যাশিত সমস্যার সমাধান হয়। নানাবিধ প্রশ্ন তৈরি করা মানুষের জন্য বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যথাযথ উত্তর প্রতিমুহূর্তে দিয়ে চলেছে গুগল।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্সের ব্যবহার:

পৃথিবীতে এই গুগল অনুসন্ধান সবচেয়ে জনপ্রিয় অজানাকে জানার পরিষেবায় পরিণত হতে পারে। গুগল তার সার্চ ইঞ্জিন উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence), সংক্ষেপে এআই-এর (AI) উপর অনেক বেশি নির্ভর করে। একটি সাম্প্রতিক ব্লগ পোস্টে, সংস্থাটি বিস্তারিত জানিয়েছে যে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সার্চ সিস্টেমে উন্নত তথ্য খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।

কী খোঁজা হচ্ছে তা বোঝার জন্য এই প্রযুক্তি ক্রমাগত আরও উন্নত হচ্ছে। ব্লগ পোস্টে গুগলের তরফে জানানো হয়েছে, “এ আই আপনাকে সহায়ক ফলাফল দেখাতে একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে। এমনকী আপনার কল্পনার বাইরের প্রান্তে গিয়ে অনেক বেশি তথ্য দেয়।" কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, গুগল যে কোনও ধরনের তথ্য-তলাশ, অনুসন্ধানকে আরও ভাল করে নিখুঁত ভাবে পৌঁছে দেয়।

টুল আপডেট:

গুগলের দাবি, স্বাভাবিক ভাবে বিভিন্ন ভাষার সঙ্গে আঞ্চলিক ভাষার বিশ্লেষণ উন্নত করতে গুগল তাদের টুল আপডেট করছে। গত পাঁচ বছরে গুগল এই টুলটি নানাভাবে উন্নত করেছে। এটিকে আরও পরিবর্তন করা সম্ভব বিইআরটি পদ্ধতির কারণে। একে বলা হয় ট্রান্সফরমার থেকে দ্বিনির্দেশমূলক এনকোডার উপস্থাপনা। এই কৌশলে গুগলের সফটওয়্যার একটি বাক্যের মূল বিষয় সহজে ধরতে পারে।

আরও পড়ুন- মাঝ আকাশে শিশুর জন্ম! কোন দেশের নাগরিকত্ব পাবে সে? বিমানই বা কি সুবিধা দেবে?

প্রতিদিন উন্নত এবং শুদ্ধ বানান তৈরি করে চলেছে গুগল। যেহেতু গুগলের নতুন এই সিস্টেমের ভিত্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাই আরও যত্ন সহকারেগুলি তৈরি হয়েছে তথ্য প্রদানকারীর কাজ। গুগল পুরনো বানানকে সঙ্গে রেখেই উপযুক্ত বানান তৈরি করে তথ্য দেয়। গুগলের একটি উদাহরণ দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করা যাক। ধরা যাক, কেউ যদি খাদ্য শৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরের শিরোনাম কী অনুসন্ধান করেন, তখন গুগল তার সিস্টেমগুলি থেকে আরও তথ্য নিয়ে সাজিয়ে দেয় এমন এক রেজাল্ট যা বাস্তব নির্ভর। সেই শব্দগুলি দেখে সহজেই বোঝা যায় খাদ্য শৃঙ্খলের ধারণাটি। পশুদের সঙ্গে মানুষের খাদ্য শৃঙ্খলাও স্পষ্ট করে গুগল।

তথ্য-তলাশের নির্বাচিত শব্দগুলিকে বোঝার এবং মেলানোর জন্য র‍্যাঙ্ক ব্রেন (Rank Brain) বুঝতে পারে যা খোঁজা হচ্ছে। গুগল ২০১৯ সালে বিইআরটি (BERT) নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিস্টেম চালু করেছে৷ মেশিন লার্নিংভিত্তিক ভাষা সনাক্তকরণের কৌশলের মাধ্যমে এই আপডেটটি আনা হয়েছে। কৌশলটির নাম দেওয়া হয়েছে বিইআরটি মডেল। পুরো শব্দের প্রসঙ্গ নিয়েই এটি কাজ করতে পারে। ফলে, পুরো শব্দের অর্থ বুঝে নিয়ে অনুসন্ধান করার মতো ক্ষমতা আছে এই প্রযুক্তির।

এই প্রযুক্তিতে বিইআরটি তথ্য-তলাশের ক্রমানুসারে শব্দগুলিকে বোঝার চেষ্টা করে। শব্দগুলো কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত তা বোঝে। নিশ্চিত হয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়। একটি ব্লগ পোস্টে এই ব্যাখ্যাই দিয়েছে গুগল। একটি উদাহরণে বিষয়টি স্পষ্ট, যেমন গুগলে যদি কেউ ফার্মেসির এবং ওষুধের অনুসন্ধান করেন তবে বিইআরটি বুঝতে পারে, তৈরি হয় সাজানো উত্তর।

BERT প্রযুক্তি: গুগলের এই কৃত্রিম মেধা নির্ভর কোডিং সিস্টেম তথ্য-তলাশের ক্ষেত্রে আরও সাহায্য করবে। এককথায় নিউরাল নেটওয়ার্কের পেছনে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তার নাম বাইডিরেকশনাল এনকোডার রিপ্রেজেন্টেশনস ফ্রম ট্রান্সফরমারস বা বিইআরটি)। আগের বছরই প্রথমবার এই প্রযুক্তির ঘোষণা দিয়েছে গুগল।

ব্যবহারকারী যখন কোনও তথ্য খুঁজতে থাকেন তখন তিনি নিজেও অনেকসময় অনুসন্ধানের শব্দগুলোকে ঠিকমতো সাজাতে পারেন না। সঠিক শব্দ বা বানান নির্বাচন করাটাও তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে যেতে পারে। কেন না, বেশিরভাগ সময় সঠিক শব্দটিই জানার জন্য অনুসন্ধান শুরু হয়। প্রথম অবস্থায় অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় শব্দও মনে থাকে না। তখনও গুগলের এই প্রযুক্তি প্রভূত সাহায্য করে।

গুগলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বিশ্বজুড়েই গ্রাহকদের সার্চিং অভিজ্ঞতা আরও ভালো করতে এই বিইআরটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাস্তব জীবনের ভাষা বুঝতে গুগল এমন একটি ভার্সনের ঘোষণা করেছে, যেটি আগের থেকে দশগুণ উন্নত।”

Published by:Suman Majumder
First published:

Tags: Artificial intelligence, Google, Google Search

পরবর্তী খবর