• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • HIV+ Woman Fights Off Virus Without Treatment| Explained|| মিরাকেল! কোনও চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হলেন HIV পজিটিভ রোগী, জাগছে আশার আলো...

HIV+ Woman Fights Off Virus Without Treatment| Explained|| মিরাকেল! কোনও চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হলেন HIV পজিটিভ রোগী, জাগছে আশার আলো...

কোনও চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হলেন HIV পজিটিভ রোগী। প্রতীকী ছবি।

কোনও চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হলেন HIV পজিটিভ রোগী। প্রতীকী ছবি।

HIV positive Woman Fights Off Virus Without Treatment: সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনও রকম কার্যকরী চিকিৎসা নেই।

  • Share this:

#কলকাতা: এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (HIV) হল এক ধরনের ভাইরাস। যা আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেমের (Immune System) উপর প্রভাব ফেলে। আসলে ইমিউন সিস্টেমের কারণেই মানবদেহ মারণ প্যাথোজেনের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা পায়, কিন্তু এইচআইভি ইমিউন সিস্টেমকেই আক্রমণ করে বসলে সেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে দেহ। এমনকী এর থেকে এইডস (Acquired Immunodeficiency Syndrome)-র মতো রোগও হতে পারে। আর ঘাতক এই রোগ দীর্ঘমেয়াদীও বটে!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (World Health Organization) রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে এইচআইভি (HIV)-কে গণ্য করা হয়ে থাকে। এখনও পর্যন্ত এই রোগের কারণে প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। যদিও মনে করা হয়, এই রোগ কখনওই সারে না। তবে সাম্প্রতিক কিছু তথ্য সকলকে চমকে দিয়েছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীদের আশার আলো দেখাচ্ছে। কারণ একটি রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, এইচআইভি পজিটিভ (HIV+) এক মহিলা স্বাভাবিক ভাবেই (Naturally) এই রোগ থেকে দিব্যি সেরে উঠেছেন। তিনি কোনও ওষুধ খাননি অথবা কোনও রকম চিকিৎসাও করাননি।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে নাকে দেওয়া স্প্রে-ই কি কোভ্যাক্সিনের বুস্টার ডোজ হিসেবে কাজ করবে? 

আর নিঃসন্দেহে চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটা অন্যতম ইতিবাচক রিপোর্ট। এই নিয়েই এ বার গবেষণা চালাবেন বিজ্ঞানীরা। কেন আর কী ভাবে কোনও রকম চিকিৎসা ছাড়াই সেরে উঠলেন ওই মহিলা- গবেষণায় সেটা যদি বেরিয়ে আসে তা হলে এই রোগের ক্ষেত্রে আরোগ্য লাভের পন্থাটাই খুঁজে বার করা অত্যন্ত সহজ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ এই রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানে আমূল বদলে যাবে।

এইচআইভি-র কোনও আরোগ্য নেই, কিন্তু রয়েছে চিকিৎসা:

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনও রকম কার্যকরী চিকিৎসা নেই। যদি কারওর এইচআইভি হয়, তা হলে তাঁর ক্ষেত্রে সেটা সারা জীবন ধরেই থেকে যাবে। তবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত এই সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধের মাধ্যমে এইচআইভি-র মতো মারণ রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অর্থাৎ যাঁদের এইচআইভি রয়েছে, তাঁরা যদি কার্যকরী এইচআইভি চিকিৎসা পান, তা হলে সেই রোগী সারা জীবন সুস্থ ভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, সেই সব রোগীরা নিজের সঙ্গীদেরও এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বুকে ব্যথা আর জ্বালা-জ্বালা ভাব! হার্ট অ্যাটাক না হার্টবার্ন, বোঝা যাবে কী ভাবে?

তবে ওই সংস্থা এ-ও জানাচ্ছে যে, সংক্রমিত ব্যক্তিকে সবার প্রথমে এই রোগ সনাক্ত করতে হবে। তাই সবার আগে পরীক্ষা করিয়ে দেখতে হবে যে, তিনি এইচআইভি পজিটিভ না এইচআইভি নেগেটিভ। তবে কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলি থেকে সোজাসুজি বোঝা যায়, রোগী এইচআইভি পজিটিভ কি না। এই ধরনের উপসর্গ কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। তাই এই কারও এই রোগ ধরা পড়ে থাকলে ডাক্তাররা প্রথমেই অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART)-র শরণাপন্ন হয়ে থাকেন। তবে এই থেরাপির মাধ্যমে অন্যান্য সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (Sexually Transmitted Diseases) সংক্রমণের ছড়িয়ে পড়া আটকানো সম্ভব নয়।

এক চমকপ্রদ ঘটনা আনল ‘আশার আলো’:

আর্জেন্টিনার এক মহিলা এইচআইভি পজিটিভ ছিলেন। তাঁকে ডাক্তাররা ‘এসপেরাঞ্জা পেশেন্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, কোনও রকম ওষুধ বা চিকিৎসা ছাড়াই তাঁর এই ভাইরাস মুক্তি ঘটেছে। অর্থাৎ তাঁর দেহের কলাকোষগুলিতে এই ভাইরাসের কোনও রকম উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি। ডাক্তাররা বলেছেন যে, তিরিশ বছর বয়সী ওই মহিলাই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে পুরোপুরি ভাবে সেরে উঠেছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ওই মহিলা এইচআইভি-১ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর পর তিনি আট বছর ধরে দশটি কমার্সিয়াল ভাইরাল লোড পরীক্ষা করিয়েছেন এবং ফলো-আপ চেক-আপ করিয়েছেন। গবেষকদের ওই দলটি ওই মহিলার ১৫০ কোটি রক্তকোষ এবং কলাকোষের ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। তাঁর কলাকোষে অক্ষত ভাইরাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, ওই মহিলা স্বাভাবিক ভাবেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

অতীতেও এইচআইভি থেকে পুরোপুরি ভাবে সেরে ওঠার নজির রয়েছে। অ্যাডাম কাস্টিলেজো এবং টিমোথি রে ব্রাউন, যাঁদেরকে যথাক্রমে ‘লন্ডন’ এবং ‘বার্লিন’ বলে সম্বোধন করা হয়। এই দুই এইচআইভি রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এঁদের ক্ষেত্রে এইচআইভি রেজিস্ট্যান্ট জিন ধারণকারী বোন-ম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কোভিড-যুদ্ধে ঝুঁকিপ্রবণ এই জিনটিই ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের, আশঙ্কার মুখে ভারত!

এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর থেকে আশার আলো দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। তাই মানব দেহে এমন কোনও উপাদান রয়েছে কি না, যেটা এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে পারে, সেটাই খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

আর্জেন্টিনার এইচআইভি গবেষক নাটালিয়া লওফার জানাচ্ছেন, “এইচআইভি-র আরোগ্য সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে এটা একটা তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ। ওই রোগীর রোগ নির্ণয় করে আমরা সবাই চমকে উঠেছিলাম। তাঁর এইচআইভি অ্যান্টিবডি টেস্টে বেরিয়েছিল যে, তিনি এইচআইভি পজিটিভ। কিন্তু ভাইরাস কতটা মাত্রায় ছিল, সেটা সনাক্ত করা যায়নি এবং বহু সময় ধরেই এমন দেখা গিয়েছিল। যা ভীষণ রকম অস্বাভাবিক।”

কী ভাবে এটা সম্ভব হল?

অ্যানালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে এই আবিষ্কারের প্রসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছিল। গবেষকদের মতে, সংক্রমিত ব্যক্তি জিনোমের কপি তৈরি করে এবং সেগুলিকে ডিএনএ অথবা কোষের জেনেটিক মেটেরিয়ালে স্থান দেয়। অর্থাৎ একটা ভাইরাল রিজার্ভয়ার গঠন করে। যা অ্যান্টি এইচআইভি ড্রাগ এবং দেহের ইমিউন রেসপন্স থেকে ভাইরাসকে লুকিয়ে ফেলতে সহায়তা করে। আবার ভাইরাস যাতে এর আর কোনও প্রতিলিপি বানাতে না-পারে, তা প্রতিরোধ করার জন্য অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি করা হয়। তবে এটি আগে থেকেই উপস্থিত ভাইরাস দূর করতে পারবে না।

‘এসপেরাঞ্জা পেশেন্ট’ অনেকের ভিড়ে এক জন এবং তাঁর কেসটি সাধারণ নয়। তিনি এইচআইভি ভাইরাস মুক্ত হতে সক্ষম হয়েছেন। গবেষকরা বলছেন যে, ওই মহিলা পুরোপুরি ভাবে রেপ্লিকেশন কমপিটেন্ট এইচআইভি-১ প্রোভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন।

অন্যান্য এইচআইভি পজিটিভ রোগীর নিরিখে-র অর্থ কী?

ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের চিকিৎসক ডা. শু ইয়ু এই নয়া আবিষ্কারের উপর আস্থা রাখছেন। এই অবস্থা প্রতিহত করতে আরও অন্যান্য থেরাপি বার করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। গবেষকদের ওই দলটি কোনও নিশ্চয়তা না-দিয়েই জানিয়েছে, সমষ্টিগত ভাবে এই গবেষণার ফল একটা সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর সেটা হল- এইচআইভি-১ সংক্রমণের ক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত আরোগ্যলাভ খুবই বিরল কিন্তু এটাই সম্ভাব্য ক্লিনিক্যাল ফলাফল। গবেষক নাটালিয়া লওফারের বক্তব্য, “এর অর্থ হচ্ছে, এমন আরও অনেকে রোগীই রয়েছেন।"

Published by:Shubhagata Dey
First published: