Home /News /explained /

Explained: Flurona : করোনা মোকাবিলায় ফের চ্যালেঞ্জ, নয়া ভ্যারিয়ান্ট Flurona নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

Explained: Flurona : করোনা মোকাবিলায় ফের চ্যালেঞ্জ, নয়া ভ্যারিয়ান্ট Flurona নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?

করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ফ্লুরোনা (Flurona) ভাবাচ্ছে সকলকে

করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ফ্লুরোনা (Flurona) ভাবাচ্ছে সকলকে

যখন ওমিক্রন (Omicron) মোকাবিলায় ও সর্বোপরি করোনা মোকাবিলায় ফের একবার চ্যালেঞ্জের মুখে দেশ, তখন করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ফ্লুরোনা (Flurona) ভাবাচ্ছে সকলকে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দেশে ফের বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। ক্রমাগতই চড়ছে করোনা সংক্রমিতের গ্রাফ। ফিরিয়ে আনছে সেকেন্ড ওয়েভের স্মৃতি। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি, কেরল-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে রেকর্ড মাত্রায় বাড়ছে সংক্রমণ। করা হচ্ছে একাধিক পদক্ষেপ। কলকাতা-সহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে সংক্রমণের মাত্রা রীতিমতো উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে একের পর এক পদক্ষেপ করছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকার। সংক্রমণের গ্রাফ কোথাও দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে এসে গিয়েছে থার্ড ওয়েভ। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন তেমনই। আর এরই মাঝে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া সার্স কোভ ২-এর (SARS-CoV-2) নতুন ভ্যারিয়ান্ট। এক দিকে যখন ওমিক্রন (Omicron) মোকাবিলায় ও সর্বোপরি করোনা মোকাবিলায় ফের একবার চ্যালেঞ্জের মুখে দেশ, তখন করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ফ্লুরোনা (Flurona) ভাবাচ্ছে সকলকে।

কী এই ফ্লুরোনা?

দেশের প্রায় প্রত্যেকটি অংশে যখন ফের বাড়ছে করোনা পরিস্থিতি, ফিরে আসছে কড়া বিধিনিষেধ, আবারও কন্টেইনমেন্ট জোনের পথে হাঁটছে সকলে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত সাধারণ মানুষ থেকে বিশেষজ্ঞ সকলে, তখন ফ্লুরোনা চিন্তার ভাঁজ ফেলছে বিশেষজ্ঞদের কপালে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization), সংক্ষেপে WHO-র মতে,দেশে থার্ড ওয়েভ শুরু হচ্ছে আর এরই মাঝে ফ্লুরোনা নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকছেন চিকিৎসকরা।

ফ্লুরোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন বিশ্বে পাওয়া যায়, তখন শুরুতে অনেকেই একে করোনার একটি নতুন ভ্যারিয়ান্ট হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু গবেষণার পর জানা যায় যে, এটি আদতে করোনার কোনও নতুন ভ্যারিয়ান্ট নয়। ফ্লুরোনা আসলে ডবল ইনফেকশন এবং এই তথ্যে সিলমোহর দেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের কথায়, কোনও একজন যদি ফ্লুরোনায় আক্রান্ত হন, তা হলে দেখা যাবে তাঁর শরীরে করোনা (Coronavirus) ও ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza) এই দুই ভাইরাসই রয়েছে। করোনা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার সংভিপ্তরূপ ফ্লু- এই দুই মিলিয়েই এর নাম হয়েছে ফ্লুরোনা।

এই ফ্লুরোনার সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে করোনার আরেক ভ্যারিয়ান্ট ডেলমিক্রন (Delmicron)-এর। ডেলমিক্রন হল, করোনার ডেল্টা (Delta) ও ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টের মিশ্রণ।

আরও পড়ুন : ৩০-৪০ বছরে এগ ফ্রিজিংয়ের প্ল্যান? পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

ফ্লুরোনায় প্রথম আক্রান্ত

ফ্লুরোনায় আক্রান্তের খোঁজ প্রথম পাওয়া যায় ইজরায়েলে। এই বিরল ভাইরাসটির খোঁজ মেলে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার দেহে। তিনি সন্তান প্রসবের জন্য এসে জানতে পারেন যে তিনি ফ্লুরোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও তাঁর সেই ভাবে কোনও উপসর্গ ছিল না। যা ছিল, তা খুবই সামান্য।

এই বিষয়ে পেটা তিকভা শহরের বেইলিসন হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের ডিরেক্টর আরনোন ভিনিটাইজার জানান, হাসপাতালে আসার পরই জানা যায়, তিনি ফ্লু ও করোনায় আক্রান্ত। দু'টো রিপোর্টই তাঁর পজিটিভ আসে।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাসজনিত এই রোগটিও আগের মতোই। করোনায় আক্রান্ত হলে ঠিক যে সমস্যা হয়, শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়, রেসপিরেটরি সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়, এক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই হয়।

ফ্লুরোনার খোঁজ পাওয়ার পরই ইজরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ফ্লুরোনার খোঁজ পাওয়ার পরই এই নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে, দেখা হচ্ছে, এটি মানব শরীরে ঠিক কী রকম প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর জন্য কী কী ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে, জানা গিয়েছে, যে মহিলার দেহে এই ফ্লুরোনার খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। তাঁরে হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

এই কেসটি পাওয়ার পরই চিকিৎসকরা মনে করছেন, এমন আরও আক্রান্ত দেশে থাকতে পারেন। তাঁদের কথায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের শরীরে এই ফ্লু বেশি দেখা যাচ্ছে। যার সঙ্গে লড়াই করা একটু হলেও চ্যালেঞ্জের। কোনও মহিলা সন্তান প্রসবের জন্য আসছেন এবং তখন তাঁর শরীরে যখন এই ফ্লু দেখা যাচ্ছে, তখন তা একটু হলেও চ্যালেঞ্জের। চিকিৎসকরা আরও বলেন, যখন কেউ বুঝতেই পারছে না রোগটা আসলে করোনা না ফ্লু এবং দু'টোর উপসর্গই রেসপিরেটরি প্রবলেম তখন এর চিকিৎসা একটু সমস্যার।

ইজরায়েলে বর্তমানে কোভিড ভ্যাকসিনের চতুর্থ শট (Covid Vaccine Fourth Shot) শুরু হয়েছে। দেশে ওমিক্রন কমানোর জন্যও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। দ্রুত হারে সকলের টিকাকরণের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন : 6G পরিষেবা আনতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ? পরিকল্পনা কত দিনে বাস্তবায়িত হবে?

ফ্লুরোনা নিয়ে কী ভাবাচ্ছে?

কম উপসর্গ থাকার পরও ভাবাচ্ছে ফ্লুরোনা, কারণ দুই ভাইরাসের একত্র সমাবেশ রেসপিরেটরি সিস্টেমে অনেকাংশে প্রভাব ফেলছে। ফ্লুরোনার ফলে নিউমোনিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাবে ভেঙে পড়তে পারে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা আর সেই কারণেই হতে পারে মৃত্যু।

আরও পড়ুন : ভ্যাকসিনের তৃতীয় শটের আগে কত দিন অপেক্ষা করা উচিত? অনাক্রম্যতাই বা কত দ্রুত কমে আসে?

দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

এদিকে, দেশে আজ করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ৫৮ হাজার। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৯৭ জন। গত ২০০ দিনে এটি প্রায় সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৩৪ জনের। বর্তমানে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৪ জন।

হু-হু করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে মুম্বইয়ে। এই পরিস্থিতিতে মুম্বইয়ে আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার জন। প্রতি দিন ১০ শতাংশ হারে মানুষ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন।

এই সবের মাঝেই দেশে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যাও ছাড়িয়েছে ২ হাজার। চলছে রেকর্ড হারে টিকাকরণ। মঙ্গলবার টিকা নিয়েছেন ৯৬.৪৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ। এখনও পর্যন্ত দেশে ১৪৭.৭২ কোটি ডোজেরও বেশি করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী এক দিনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯,০৭৩ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ সনাক্ত করা হয়েছে।

প্রতিরোধের উপায়

ওমিক্রন একটি নতুন প্রজাতি, যা মাত্র এক মাস আগে সনাক্ত করা হয়েছিল। সুতরাং, এর প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানা যায়নি। ঠিক তেমনই এখন সমীক্ষা চলছে ফ্লুরোনা নিয়ে। বিশ্ব জুড়ে বিশেষজ্ঞরা এটি বোঝার চেষ্টা করছেন এবং এর উপর টিকার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখছেন। সেই সময় পর্যন্ত, বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে নিজেকে রক্ষা করার জন্য টিকা নেওয়া এবং সমস্ত কোভিড বিধি মেনে চলা ভালো। টিকা নেওয়া হোক বা না হোক, বর্তমানে সবাই ওমিক্রন সংক্রমণ প্রবণ। নতুন প্রজাতিটি অত্যন্ত সংক্রমণযোগ্য এবং টিকা প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়াতে পারে। এটা বিবেচনা করে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, মাস্ক (Mask) পরতে হবে। অন্য লোকেদের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, এমন এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। ভিড়ের মধ্যে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। সম্পূর্ণ টিকা নেয়নি, এমন লোকজনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে ওমিক্রন প্রজাতি লুকিয়ে আছে এবং দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ফ্লুরোনা কী রূপ নিতে চলেছে, তা সময়ই বলবে!

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published:

Tags: Coronavirus, COVID19, Flurona

পরবর্তী খবর