• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Mobile Networking: 6G পরিষেবা আনতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ? পরিকল্পনা কত দিনে বাস্তবায়িত হবে?

Mobile Networking: 6G পরিষেবা আনতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ? পরিকল্পনা কত দিনে বাস্তবায়িত হবে?

6G পরিষেবা আনতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ? পরিকল্পনা কত দিনে বাস্তবায়িত হবে?

6G পরিষেবা আনতে কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ? পরিকল্পনা কত দিনে বাস্তবায়িত হবে?

6G Service: নানা ইনস্টিটিউট, টেক ল্যাব এবং কমিনিকেশন সংস্থাগুলিতে 6G-র জন্য মান এবং প্রোটোকল গঠন ও বিকাশের কাজ চলছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: 4G আমাদের গতি বাড়িয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেটের (Mobile Internet) সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। স্মার্টফোন (Smartphone) এবং ট্যাব (Tab) ছাড়াও আরও বেশি ডিভাইসে ইন্টারনেট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে 5G। তাহলে, ভাবুন 6G কী করবে? ফুসফুসের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সরাসরি বিশেষজ্ঞের কাছে ইনপুট পাঠাতে পারে, এমন ওয়াই-ফাই ইমপ্লান্ট সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে? 6G আরও অনেক কিছু সম্ভব করতে পারে। ভারতে এই নিয়ে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিউনিকেশন মন্ত্রী (Union Minister for Communication) অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) সম্প্রতি বলেছেন সে কথা বলেছেন। আমরা এই প্রতিবেদনে পরবর্তী প্রজন্মের ইন্টারনেট স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কে জানব।

6G কী?

এটি অবশ্যই 4G-র উপযুক্ত উত্তরসূরি, যা আমাদের ভারতে এবং বিশ্বের অনেক জায়গায় রয়েছে। 5G-র রোল আউটের জন্য ভারত বিশ্বের বেশিরভাগ অংশের মতোই তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে 6G বর্তমানে বাস্তবতার চেয়ে কল্পবিজ্ঞান বেশি। যদিও নানা ইনস্টিটিউট, টেক ল্যাব এবং কমিনিকেশন সংস্থাগুলিতে 6G-র জন্য মান এবং প্রোটোকল গঠন ও বিকাশের কাজ চলছে। লক্ষ্য হল প্রযুক্তির বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রথম সুবিধাটি দখল করা।

কবে আসবে 6G?

বিশেষজ্ঞরা বলছে যে প্রতি ১০ বছর পর পর নতুন যোগাযোগের প্রযুক্তির মান উন্নতি হয়। তাই ২০২০-র দশক 5G-এর দশক। ২০৩০-র দশকে শেষ পর্যন্ত 6G চালু হবে। যদিও প্রযুক্তিতে প্রতিশ্রুতি এবং কর্মক্ষমতার মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, আমাদের বেশিরভাগ ফোনে নেটওয়ার্ক 'Vo LTE' হিসেবে দেখায়, যার অর্থ 'ভয়েস ওভার লং টার্ম ইভোলিউশন' (Voice over Long Term Evolution)। 4G নেটওয়ার্ক আমাদের মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই আমূল পরিবর্তনের ফলে আমরা লাইভ স্পোর্টস স্ট্রিম করতে এবং এইচডি মুভি দেখতে পাচ্ছি মোবাইলেই। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে বেশিরভাগ টেলিকম সংস্থা 'Vo LTE'-র নামে এমন একটি পরিষেবা দেয়, যেটি আসলে প্রায়-4G, কিন্তু 3G-র থেকে বেশ কিছু উন্নত সংস্করণ।

কেন্দ্রীয় টেলি কমিউনিকেশন মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি জানিয়েছেন যে ভারতে, 6G প্রযুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের শেষে বা ২০২৪ সালে দেশে এটি ট্রায়াল দেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আত্মনির্ভর ভারতের মাধ্যমে দেশেই 6G টেকনোলজি তৈরি করা হবে। উল্লেখ্য, এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণও ভারতেই তৈরি করা হবে। এই টেকনোলজি ভারতে তৈরি করে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। গত বছরের অগাস্টে সংসদে একটি প্রশ্নের উত্তরে যোগাযোগ মন্ত্রক বলেছিল যে ভারত এখনও 5G পরিষেবা চালু করতে পারেনি। যদিও টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে ৬ মাসের মেয়াদে 5G প্রযুক্তি পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন -  ‘এই’ লক্ষণগুলি রয়েছে আপনার শরীরে, ওমিক্রন নয় তো

5G-র থেকে 6G কী ভাবে আলাদা?

6G সুপারচার্জড গতির জন্য নয়, বরং তার থেকে অনেক কিছু বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে স্পর্শ না করেই হাতের ইঙ্গিতে কোনও মেশিনকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চালু করা বন্ধ করা যাবে। গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য এলপিজি ডিলারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে। এই রকম অনেকই ঘটতে পারে ভবিষ্যতে, যা এখন অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। সম্প্রতি নোকিয়া (Nokia) জানিয়েছে, 6G প্রযুক্তির সাহায্যে ইয়ারবাড এবং আমাদের পোশাকের মধ্যে এম্বেড করা ডিভাইসগুলির মতো পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলি সাধারণ হয়ে উঠবে। স্কিন প্যাচ এবং বায়ো-ইমপ্লান্টগুলি এতটা দুর্লভ না-ও হতে পারে। এমনকী আমরা মেশিন চালু করার জন্য নতুন মস্তিষ্কের সেন্সরগুলির উপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে পারি। আমাদের কাছে একাধিক পরিধানযোগ্য জিনিস থাকবে, তারা একে অপরের সঙ্গে নির্বিঘ্নে কাজ করবে৷ এছাড়াও, টাচস্ক্রিন টাইপিং সম্ভবত পুরনো হয়ে যাবে। অঙ্গভঙ্গী করে বা কথা বললেই ডিভাইস কাজ করা শুরু করবে। ডিভাইসগুলি ছোট এবং আরও সচেতন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে 6G প্রযুক্তি কম্পিউটিংয়ের উন্নয়নের উপর নির্ভর করে ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ক্লাউডের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ করিয়ে গেবে।

6G-তে ইন্টারনেটের গতি কেমন হবে?

6G প্রযুক্তি নেটওয়ার্কিং স্ট্যান্ডার্ডে প্রজন্মগত লাফ দেবে। এগুলির মধ্যে রয়েছে উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও ব্যান্ড এবং কম ল্যাটেন্সির মতো বিষয়গুলি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ডিন মুং চিয়াং (Mung Chiang) ফোর্বস ম্যাগাজিনের (Forbes) একটি প্রতিবেদনে বলেছেন যে যদি পূর্ববর্তী প্রজন্মের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কগুলি থ্রুপুটে (Throughput) ফোকাস করে, যেমন আপনি প্রতি সেকেন্ডে কতগুলি বিট (Bits) পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে পারেন, 6G-তে ল্যাটেন্সি (Latency) আরও বেশি হবে, মানে প্রতিক্রিয়া জানাতে এবং শিখতে সময় প্রায় লাগবেই না, বিষয়টি যেটি নির্দেশ করে তা হল কার্যত তাৎক্ষণিক যোগাযোগ, তাও কোনও ব্যবধান ছাড়াই।

আরও পড়ুন: ওমিক্রনের উপসর্গ প্রকাশ ত্বকেও? জেনে নিন কী কী লক্ষণ থাকলে হতে পারে ওমিক্রন! জানুন ও সতর্ক থাকুন...

৪০ এমবিপিএস-র কম গতিতে 4G বা 4G-র মতো নেটওয়ার্কগুলি আমাদের জীবনে কী কী পরিবর্তন এনেছে তার আমরা সাক্ষী। 5G প্রযুক্তির ন্যূনতম সময়ে অতি দ্রুত গতিতে প্রচুর পরিমাণে ডেটা বহন করার কথা। 5G ডিজাইন করা হয়েছে ৪০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস (Gbps) পর্যন্ত গতির জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে 6G সম্ভবত ১০ জিবিপিএস পর্যন্ত গতিতে পৌঁছতে পারে।

6G-র সাহায্যে ব্যবহারকারীরা ১ জিবিপিএস-র চেয়ে হাজার গুণ ও 5G-র থেকে দশগুণ দ্রুত গতি পাওয়া যেতে পারে। আজকাল বেশিরভাগ হোম ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে ১ জিবিপিএস দ্রুততম গতি পাওয়া যায়। 6G ইন্টারনেটকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং অবিচ্ছিন্নভাবে অ্যাকসেসযোগ্য করে তুলবে।

6G রোলআউটের চ্যালেঞ্জগুলি কী কী?

এখনও পর্যন্ত 6G একটি ধারণার চেয়ে বেশি কিছু নয়। যা নীরবে সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে চলেছে। বলা যায়, এটি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। 6G-র জন্য দরকারি অনেক প্রযুক্তির বেশিরভাগই এখনও হাতে নেই। উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞানীরা যে প্রশ্নগুলি নিয়ে কাজ করবেন তা হল কী ভাবে সত্যিকারের শর্ট-ওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সিগুলি পাঠানো যায় যা 6G নেটওয়ার্কগুলিকে সক্ষম করবে। ইতিমধ্যেই 5G নেটওয়ার্ক স্থাপন করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ মিলিমিটার তরঙ্গগুলি কেবল স্বল্প দূরত্বে যেতে পারে এবং তাই, ট্রান্সমিটার এবং রিসিভার বা ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ প্রয়োজন। টেরাহার্টজ তরঙ্গ বা সাব-মিলিমিটার তরঙ্গ, যা 6G-তে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে তার পরিসীমা আরও কম। 6G তরঙ্গ অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং ভঙ্গুর। তাই এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে রয়েছে উপযুক্ত সেমিকন্ডাক্টর উপকরণ (Semiconductor Materials) এবং এই তরঙ্গগুলি বহন করার জন্য ট্রান্সমিটারের পুরু অ্যারে স্থাপনের মতো প্রশ্নগুলি। এছাড়াও পরিবেশের উপরে এর প্রভাবের বিষয়টিও রয়েছে।

First published: