Home /News /explained /

EXPLAINED: নাগাল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের পরেই আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি উঠছে; জানুন কী আছে এই আইনে?

EXPLAINED: নাগাল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের পরেই আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি উঠছে; জানুন কী আছে এই আইনে?

File photo

File photo

Explained : নাগরিক সংগঠনগুলি দাবি তুলেছে যে, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে আফস্পা প্রত্যাহারের প্রস্তাব সর্বসম্মত ভাবে পাশ করানো হোক।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সম্প্রতি নাগাল্যান্ডের (Nagaland) মন জেলার ওটিং গ্রামের কাছে সেনাবাহিনীর ২১ নম্বর প্যারা স্পেশাল ফোর্সের গুলিতে নিহত হয়েছে ১৪ জন সাধারণ নাগরিক। এই ঘটনা পরবর্তী অশান্তি ও হিংসায় এক জওয়ানেরও মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যুর পরেই নাগাল্যান্ড থেকে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (Armed Forces Special Powers Act) বা আফস্পা (AFSPA) প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। নাগরিক সংগঠনগুলি দাবি তুলেছে যে, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে আফস্পা প্রত্যাহারের প্রস্তাব সর্বসম্মত ভাবে পাশ করানো হোক। শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া এনএসসিএন আইএম জানিয়ে দিয়েছে যে, আফস্পা প্রত্যাহার হলে তবেই শান্তি আলোচনা সম্ভব। রাজ্যের আদিবাসীদের প্রভাবশালী সংগঠন ‘কোনইয়াক ইউনিয়ন’ আফস্পা প্রত্যাহারের পাশাপাশি অসম রাইফেলসের জওয়ানদেরও নাগাল্যান্ডের মন জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সব মিলিয়ে গুলিচালনার অভিঘাতে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য। নাগাল্যান্ডের ঘটনার আঁচ পৌঁছেছে মণিপুরেও। সেখানকার মানবাধিকার সংগঠনগুলি দাবি তুলেছে, মেঘালয়, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রীদের মতোই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বীরেনকেও আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হতে হবে। যদিও উত্তর-পূর্বের অনেক এলাকা থেকে আফস্পা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরেই উত্তর-পূর্বের অনেক এলাকা থেকে এই আইন তুলে নেওয়া হয়েছে।

কেন আফস্পা আনা হয়েছিল?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Union Home Ministry) ওয়েবসাইটে আফস্পা নিয়ে একটি নোটে বলা হয়েছে যে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির (North-Eastern States) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ১৯৫৮ সালে এটি কার্যকর করার প্রয়োজন হয়েছিল। যেখানে রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অশান্তি ও হিংসা মোকাবিলায় অক্ষম। নোটে আরও বলা হয়েছে যে, হিংসার ঘটনা ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে জীবনযাত্রার পথ হয়ে উঠেছে। তাই এই ভাবে আনা আইনের অধীনে অশান্ত এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আইনটি প্রথম ১৯৫৮ সালের মে মাসে একটি অধ্যাদেশ (Ordinance) হিসাবে সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন আনা হয়েছিল। পরে সংসদের উভয় কক্ষে পাশ করানো হয়েছিল। ১৯৫৮ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতি এই আইনে সম্মতি দিয়েছিলেন। প্রাথমিক ভাবে অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh), অসম (Assam), মণিপুর (Manipur), মেঘালয় (Meghalaya), মিজোরাম (Mizoram), নাগাল্যান্ড (Nagaland) এবং ত্রিপুরা (Tripura) রাজ্যে এই আইন জারি হয়। তার পর থেকে এতে বেশ কয়েকটি সংশোধনী এনে কয়েকটি রাজ্য ও এলাকাকে এই আইনের আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন- রাশিয়ার সঙ্গে লজিস্টিক বিনিময় চুক্তি, জানুন ভারতের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ কেন

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) বলছে যে, ১৯৪২ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগের অধ্যাদেশের উপর ভিত্তি করে আফস্পা আনা হয়েছিল। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন করার জন্য ব্রিটিশরা এই ধরনের আইন এনেছিল। আফস্পা প্রাথমিক ভাবে নাগা জঙ্গিদের (Naga Militants) সশস্ত্র বিদ্রোহকে দমন করার জন্য জারি করা হয়। কিন্তু ১৯৭২ সালে একটি সংশোধনী এনে এটিকে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের প্রতিটিতে লাগু করা হয়। পরে খলিস্তান আন্দোলন তুঙ্গে ওঠার পরে পঞ্জাবেও (Punjab) আটের দশকে অনুরূপ আইন জারি করা হয়। জঙ্গি দমনের জন্য ১৯৯০ সালে কাশ্মীরেও (Jammu and Kashmir) একই পথ অবলম্বন করা হয়।

নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কী কী ক্ষমতা আছে?

আফস্পা-র অধীনে সশস্ত্র বাহিনীকে (Armed Forces) যে কোনও সামরিক বাহিনী এবং স্থল বাহিনী হিসেবে কাজ করা বিমান বাহিনী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। কেন্দ্রের অধীন অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীগুলিও এই ভাবে পরিচালিত হয়। আফস্পা অনুযায়ী, একটি 'উপদ্রুত এলাকা' হল একটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যে কোনও এলাকা, যেখানে এই আইনটি লাগু রয়েছে। যেখানে রাজ্যপাল বা প্রশাসক মনে করেন যে, রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সমগ্র বা কোনও অংশ অশান্তিতে বা বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহার আবশ্যক। অর্থাৎ আফস্পা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সুপারিশ বা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হয়। কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় আফস্পা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের তেমন বড় একটা ভূমিকা থাকে না। তারা খুব-জোর সুপারিশ করতে পারে মাত্র। সেই সুপারিশ আবার মানতে বাধ্য নয় কেন্দ্রীয় সরকার।

আফস্পা-র ৩ নম্বর ধারা (Section 3 of AFSPA) অনুযায়ী, রাজ্যপাল বা প্রশাসক একটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সম্পূর্ণ বা কিছু অংশকে অশান্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারে। আইনের ৪ নম্বর ধারা (Sec 4 of AFSPA) অনুযায়ী, যে কোনও কমিশনড অফিসার, ওয়ারেন্ট অফিসার, নন-কমিশনড অফিসার বা সশস্ত্র বাহিনীতে সমতুল পদমর্যাদার অন্য কোনও ব্যক্তি কোনও অশান্ত এলাকায় (Disturbed Area) আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুলি চালাতে বা অন্যথায় বল প্রয়োগ করতে পারে, এমনকী তাতে সেই ব্যক্তির মৃত্যু হলেও।

আরও পড়ুন- ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কি লড়তে পারবে ভারতে ব্যবহৃত টিকাগুলি? কী জানা যাচ্ছে

এ ছাড়াও, আফস্পা-র অধীনে নির্ধারিত সেনা আধিকারিকরা কোনও অপরাধের অভিযোগে বা এমনকী যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের কারণে কোনও ব্যক্তিকে পরোয়ানা (Warrant) ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারেন। অর্থাৎ, অপরাধ করেছে বা করতে চলেছে, এমন সন্দেহভাজন হিসেবে যে কাউকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে। এই আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গ্রেফতার কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় বল প্রয়োগ করার অনুমতি দেয় সেনা আধিকারিকদের।

কাঠামো বা আশ্রয়, যেখান থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ হয়েছে বা চেষ্টা করা হয়েছে বা হতে পারে, সন্দেহজনক সেই সব জায়গায় কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই ঢুকতে ও তল্লাশি চালাতে পারবে সশস্ত্র বাহিনী। সন্দেহজনক যে কোনও গাড়িকে আটকে তল্লাশি চালাতে পারবে নিরাপত্তা বাহিনী।

আফস্পা-র ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী বাড়তি রক্ষাকবচ পায়। উপদ্রুত এলাকায় আফস্পা জারি থাকলে কোনও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ববর্তী অনুমোদন ব্যতীত কোনও ব্যক্তির (আধিকারিক) বিরুদ্ধে মামলা বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চালু করা যাবে না।

উত্তর-পূর্বের কোথায় কোথায় আফস্পা বলবৎ আছে?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সংসদে বলেছিল যে, আফস্পা গোটা অসম, নাগাল্যান্ড ও ইম্ফলের পৌর এলাকা বাদ দিয়ে মণিপুরে কার্যকর। আইনটি অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) তিনটি জেলা-- তিরাপ (Tirap), চ্যাংলাং (Changlang), লংডিং (Longding) এবং অসমের সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশের জেলাগুলির আটটি থানার আওতাধীন এলাকাগুলিতে বলবৎ রয়েছে বলেও বলা হয়েছিল। মন্ত্রক যোগ করেছিল যে, মণিপুর এবং অসমের উপদ্রুত এলাকা ঘোষণা করার বিজ্ঞপ্তিটি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি দ্বারা জারি করা হয়েছিল। তবে নাগাল্যান্ডকে 'উপদ্রুত এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করার বিজ্ঞপ্তির সম্প্রসারণকে সমর্থন করেনি নাগাল্যান্ড সরকার।

মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয় থেকে আফস্পা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে মনোরমার ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনার জেরে মণিপুরে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। কাংলা দুর্গের সামনে মহিলাদের নগ্ন প্রতিবাদের পরে বৃহত্তর ইম্ফলের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রকে আফস্পা-র আওতার বাইরে আনা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংসদে বলেছে যে, আফস্পা-র অধীনে যে কোনও এলাকাকে 'উপদ্রুত এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির মূল্যায়ন করার পরে পর্যায়ক্রমে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে পরামর্শ করা হয়।

কেন আফস্পা নিয়ে আপত্তি?

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সুশীল সমাজ (Civil Society) এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা দীর্ঘ দিন ধরেই আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই আইন মানবাধিকার লঙ্ঘনকে উৎসাহিত করে বলে দাবি তাদের, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রকে তারা চিঠি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে নাগাল্যান্ড সরকার। নাগাল্যান্ডের রাজ্য মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রকে চিঠি লিখে রাজ্য থেকে আফস্পা প্রত্যাহারের দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও (Nagaland Chief Minister Neiphiu Rio) বলেছেন, "আমার রাজ্যে অশান্তির কারণ হয়ে উঠছে আফস্পা। অবিলম্বে আফস্পা প্রত্যাহার করতে হবে।" নাগাল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের পরে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা (Meghalaya Chief Minister Conrad Sangma) সোমবার একটি টুইটে বলেছেন, "অশান্তির কারণ হয়ে উঠছে আফস্পা। অবিলম্বে এই আইন বাতিল করা উচিত।" আফস্পা-র বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছে নাগাল্যান্ডের নাগা মাদার্স অ্যাসোসিয়েশন (Naga Mothers’ Association )।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) বলেছে যে, আফস্পা গুলি করার, তুচ্ছ অজুহাতে গ্রেফতার করার, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি চালানো এবং কাঠামো ধ্বংস করে ফেলার ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করে। এই বিশেষ ক্ষমতার অপব্যবহারে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গুম করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এতে বলা হয়েছে যে, আইনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বিধানগুলি লঙ্ঘন করে, যার মধ্যে রয়েছে-- জীবনের অধিকার, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং আটক হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার, নির্যাতন, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ থেকে মুক্ত থাকার অধিকার। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনি সুরক্ষা রয়েছে, তাই অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায় পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে বারবার। মানবাধিকার সংগঠন সিএসসিএইচআর দাবি করেছে, আফস্পার ঢাল সামনে রেখে সব চেয়ে বেশি ভুয়ো সংঘর্ষ মণিপুরে হয়েছে। ১৫২৮টি ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যা নিয়ে কোনও রিপোর্ট লেখানো হয়নি।

নাগাল্যান্ডের ঘটনার পরে কেন্দ্রের বক্তব্য:

ওটিংয়ে হত্যাকাণ্ডের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Union Home Minister Amit Shah) টুইট বার্তায় বলেছেন যে, রাজ্য সরকার দ্বারা গঠিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে। পরে সংসদে বিবৃতি দিয়ে তিনি বলেন, "ভুল বোঝাবুঝির কারণেই সেনা গুলি চালায়। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সেনার নিজস্ব আইন অনুযায়ী তাঁদের শাস্তি দেওয়া হবে।" নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিফিউ রিওর জানিয়েছেন যে, অত্যন্ত নিন্দনীয় এই ঘটনার তদন্ত করা হবে এবং দেশের আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার দেওয়া হবে। জানা গিয়েছে যে, গুলি চালানোর অভিযোগে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর ২১-তম প্যারা স্পেশাল ফোর্সের ( 21st Para Special Force) বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও কেন্দ্র স্বীকার করেছে যে, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও এনজিও সময়ে সময়ে আফস্পা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালে বলেছিল যে, আফস্পা বাতিল করার কোনও প্রস্তাব নেই। কেন্দ্র আরও জানিয়েছিল যে, নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলার সংখ্যা, নিষ্পত্তি হওয়া মামলার সংখ্যা, বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কেন্দ্র সংসদে আরও বলেছে যে, আফস্পা-র অধীনে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ করতে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করা হলে তাদের বিরুদ্ধে সেনা আইন এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট আফস্পা আইন নিয়ে সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই আইনটি নিরাপত্তা বাহিনীকে খোলা হাতে কাজ করার অধিকার দেয় এমন ধারণা ভুল। সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যোগ করেছিল যে, মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে নিয়মিত ব্রিফ করা হয়। মন্ত্রক আরও যোগ করে যে, সেনারা মানবাধিকার রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সংবেদনশীল।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

পরবর্তী খবর