Home /News /explained /

Omicron | Explained : ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কি লড়তে পারবে ভারতে ব্যবহৃত টিকাগুলি? কী জানা যাচ্ছে

Omicron | Explained : ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কি লড়তে পারবে ভারতে ব্যবহৃত টিকাগুলি? কী জানা যাচ্ছে

File photo

File photo

Omicron | Explained : বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে নতুন প্রজাতিটি অত্যন্ত সংক্রমণযোগ্য এবং টিকার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাসের (Coronavirus) নতুন প্রজাতি ওমিক্রনকে (Omicron) নিয়ে সারা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। করোনার প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ে যে ডেল্টা (Delta) প্রজাতি সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, তার চেয়ে এই ওমিক্রন পুরোপুরি আলাদা। ২৪ নভেম্বর ওমিক্রন প্রজাতির বিষয়ে প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)-কে রিপোর্ট করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে তকমা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়ে দিয়েছে যে এই প্রজাতিটিকে উদ্বেগের একটি বিষয় (Variant of Concern)।

এই শ্রেণিবিন্যাস ওমিক্রনকে কোভিডের নানা প্রজাতির সবচেয়ে সংক্রামক বিভাগে রাখছে। এই বিভাগে রয়েছে ডেল্টা, আলফা, বিটা ও গামা সহ অন্য মারাত্মক সংক্রামক প্রজাতিগুলি। এই প্রজাতি নতুন করে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই প্রজাতি সম্পর্কে এখনও সেই ভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে ইতিমধ্যেই এই প্রজাতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে তকমা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যার অর্থ হল এতে জেনেটিক পরিবর্তন রয়েছে। যা মারাত্মক সংক্রমণযোগ্য ও টিকার কারণে অর্জন করা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পরাস্ত করতে পারে। ভাইরাসটি বা বরং ভাইরাল স্ট্রেন এত অল্প সময়ের মধ্যে এতটা অগ্রসর হয়েছে, যাতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে নতুন প্রজাতিটি অত্যন্ত সংক্রমণযোগ্য এবং টিকার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

নতুন কোভিড প্রজাতি 'ইমিউন-এসকেপ মেকানিজম' তৈরি করতে পারে

সম্প্রতি, AIIMS-র ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া ( Randeep Guleria) কোভিডের ওমিক্রন প্রজাতি সম্পর্কে জোরালো দাবি করেছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নতুন প্রজাতিটির স্পাইক প্রোটিনের (Spike Protein) মধ্যে ৩০টিরও বেশি মিউটেশন হয়েছে। তাই এটি সম্ভাব্যভাবে একটি 'ইমিউন-এসকেপ মেকানিজম' (Immune-Escape Mechanism) তৈরি করতে পারে। স্পাইক প্রোটিন একটি যৌগ, যা ভাইরাসকে হোস্ট কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, এটিকে আরও সংক্রমণযোগ্য এবং সংক্রামক করে তোলে। অন্য দিকে, বেশিরভাগ কোভিড টিকা এই স্পাইক প্রোটিনগুলিকে নির্মূল করার জন্য কাজ করে। বলা হয়েছে যে স্পাইক প্রোটিনের মিউটেশন নতুন প্রজাতিকে সনাক্ত করা এবং আলাদা করা আরও কঠিন করে তোলে। যে কারণে এটি সম্ভবত উপলব্ধ কোভিড টিকাগুলিকে (Covid Vaccine) কম কার্যকর করতে পারে। গুলেরিয়া আরও বলেছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন যে টিকার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে ওমিক্রন। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে ভারতে ব্যবহৃত টিকাগুলির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা দরকার এই পরিস্থিতিতে।

ওমিক্রন কি সত্যিই টিকার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করবে?

বর্তমানে, নতুন প্রজাতির একাধিক মিউটেশন রয়েছে, স্পাইক প্রোটিনেই তিরিশের বেশি মিউটেশন। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, তা শুধুমাত্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে নয়, টিকার কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও। এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আইসিএমআর (ICMR)-র প্রধান চিকিৎসক সমীরণ পাণ্ডা (Samiran Panda) সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বর্তমানে উপলব্ধ কোভিড টিকাগুলি নতুন প্রজাতির বিরুদ্ধে ততটা কার্যকর প্রমাণিত না-ও হতে পারে যতটা হওয়া উচিত। তবে, তিনি আরও বলেছেন যে টিকা কার্যকর হবে কি না তা শুধুমাত্র সময়ই বলবে। নতুন প্রজাতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে।

কী করা উচিত?

যদি প্রকৃতপক্ষে ওমিক্রন প্রজাতি অনাক্রম্যতা এড়ায় এবং টিকাকে কম কার্যকরী করতে সক্ষম হয়, তবে বর্তমানে ব্যবহৃত হওয়া টিকাগুলিকে আপডেট করতে হবে বা পছন্দসই ফলাফলের জন্য পরিবর্তন করতে হবে। ইনফ্লুয়েঞ্জার (Influenza) শটগুলির মতোই কোভিড টিকার আপডেট করার প্রয়োজন হতে পারে। টিকা পরিবর্তন করা বা বিভিন্ন প্রজাতির জন্য একটি নতুন টিকা তৈরি করলে ভাইরাস এবং এর প্রজাতির বিস্তার রোধ করতে পারা যাবে। যদিও মডার্না (Moderna) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা ওমিক্রনের জন্য আগামী বছরের প্রথম দিকে একটি টিকা প্রস্তুত করতে পারে। কম্পানির সিইও আরও দাবি করেছেন যে বিদ্যমান টিকাগুলি নতুন এই প্রজাতির বিরুদ্ধে কম কার্যকর হতে পারে, যা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। পাশাপাশি তিনি জানান, এক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ নতুন টিকা তৈরি করতে সক্ষম মডার্না। মডার্নার এই দাবি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

আইসিএমআর-র প্রধান চিকিৎসক সমীরণ পাণ্ডা বলেছেন, "mRNA টিকাগুলি স্পাইক প্রোটিনের দিকে কাজ করে, তাই mRNA টিকাগুলির পরিবর্তন করা দরকার। কিন্তু সব টিকা একই রকম নয়। কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন আমাদের শরীরে একটি ভিন্ন অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে অনাক্রম্যতা তৈরি করে।"

কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিন কি ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হবে?

ভারত বর্তমানে একাধিক টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্যে মডার্নার একমাত্র mRNA টিকা এখনও দেশে উপলব্ধ নয়। এখনও পর্যন্ত, সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার (Serum Institute of India) কোভিশিল্ড (Covishield), ভারত বায়োটেকের (Bharat Biotech) কোভ্যাক্সিন এবং রাশিয়ান স্পুটনিক ভি (Sputnik V) টিকা ভারতে দেওয়া হচ্ছে।এবং রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টিকা উভয়ই অ্যাডিনোভাইরাল ভেক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনাক্রমতা তৈরি করে। অন্যদিকে কোভ্যাক্সিন (Covaxin) হোল-ভিরিয়ন ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভেরো সেল প্রাপ্ত প্ল্যাটফর্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি। যেখানে নিষ্ক্রিয় ভাইরাসটি প্রতিলিপি তৈরি করে না, তবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

আরও পড়ুন - দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কি থাকে? জানুন ও সতর্ক হোন

যেহেতু নতুন ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনে অনেক মিউটেশন রয়েছে, যেগুলিকে টিকার অ্যান্টিবডি টার্গেট করে, তাই স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন হলে টিকার কার্যকারিতার কিছু পরিবর্তন হতে পারে। চিকিৎসক পাণ্ডার মতে, শুধুমাত্র সময়ই বলতে পারে এবং নির্ধারণ করতে পারে যে টিকাগুলি নতুন প্রজাতির বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর প্রমাণিত হবে। তিনি বলেন, "বিভিন্ন ধরনের টিকা রয়েছে। কিছু ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে টার্গেট করে। তাই, যদি সেখানে পরিবর্তন ঘটে, তাহলে টিকা কার্যকর নাও হতে পারে।" সহজ কথায়, স্পাইক প্রোটিন, যা ভাইরাসটিকে হোস্ট কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে তা যদি পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে টিকার ফলে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডিগুলির পক্ষে তা সনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন - মিউটেশন বিপজ্জনক! করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কে বিশেষজ্ঞরা

কোভিড সঙ্কটের মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ভূমিকা:

টিকা নেওয়া ছাড়াও মাস্ক পরা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা, কোভিড উপযুক্ত আচরণ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই ভারতে থাবা বসিয়েছে ওমিক্রন। তাই আমাদের অবশ্যই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ওমিক্রন প্রজাতির আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশগুলিকে টিকাকরণে গতি বাড়াতে বলেছে। সরকারি তরফে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নজরদারি বাড়াতে হবে। নতুন করে উপযুক্ত কোভিড বিধিনিষেধ চাপাতে হবে। বর্তমানে, ওমিক্রন প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশই ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Omicron

পরবর্তী খবর