বিনোদন

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'আক্ষেপ হচ্ছে, কেন একবার দেখতে গেলাম না...আর তো দেখা হবে না' বলছেন নিমরাত কৌর

'আক্ষেপ হচ্ছে, কেন একবার দেখতে গেলাম না...আর তো দেখা হবে না' বলছেন নিমরাত কৌর

সেই অর্থে নিমরতের প্রথম বড় ব্রেক ‘দ্য লাঞ্চ বক্স’। সহ-অভিনেতা ইরফান খান। তাঁর সঙ্গে ছবিতে সেভাবে একটাও সিন নেই। অথচ পুরো ছবিতেই যেন একসঙ্গে রয়েছেন তাঁরা।

  • Share this:

 ARUNIMA DEY

#মুম্বই:  হাতে-হাত রেখে, টেবিলের এপার-ওপারে বসে কফির কাপে নরম চুমুক, এভাবেই প্রেম হয়? নাকি গড়ের মাঠে, ঠা ঠা রোদে কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ফেরত বসে থাকলে, প্রেম হয়? স্কুল, কলেজ,পাড়া, অফিস প্রেমের বিচরণ সর্বত্র। কোনও থিওরি বা স্ট্যাটিসটিকস নেই। যেটা আছে সেটা হল অনুভূতি। এই অনুভূতির সঙ্গে আবেগের ফোড়ন দিয়ে, ভালবাসার আঁচে খানিক ফুটিয়ে, টিফিন বাক্সবন্দি করে চালান করতেন তিনি। পাঠাতেন এমন একজনকে যাঁকে তিনি কখনও দেখেননি। সে ব্যক্তিও বড় যত্ন করে হালকা হাতে খুলতেন বাক্সের ঢাকনা। পাকওয়ানের চেয়ে চিঠির জন্য অপেক্ষা করতেন মাঝবয়সী ভদ্রলোক। 'দ্য লাঞ্চ বক্স' এর সেই গল্প আরাম দিয়েছিল মনে। শিখিয়েছিল প্রেমের এক অন্য ধরন। এখনও দর্শকের মনে লেগে রয়েছে সেই ছবি।

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, ইরফান খান, নিমরাত কৌরের 'দ্য লঞ্চ বক্স'। ইমরান-নিমরাতের সেই অনবদ্য কেমিস্ট্রি, আজও দর্শকের মনে রয়ে গিয়েছে। বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন ইরফান । যেমনটা ছবির শেষে ট্রেনে করে পাড়ি দিচ্ছিলেন তিনি। টিফিন বক্সে খাবার পাঠানো মেয়েটিকে একা করে। তেমনি চলে গেলেন। 'দ্য লাঞ্চ বক্স'-এ হয়তো ফিরে এসেছিলেন। হয়তো আসেননি। তবে বাস্তবে, নিমরাতের মনে অনেকটা অন্ধকার ভরে দিয়ে চলে গেলেন ইরফান। রেখে গেলেন একরাশ মধুর স্মৃতি । নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে সেই সব স্মৃতি খুঁজতে মেমরি লেনে উঁকি দিলেন  নিমরাত কৌর।

সেই অর্থে প্রথম বড় ব্রেক। সহ-অভিনেতা ইরফান খান। তাঁর সঙ্গে ছবিতে সেভাবে একটাও সিন নেই। অথচ পুরো ছবিতেই যেন একসঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। দু’জনের জমাটি রসায়ন তৈরি করা প্রয়োজন ছিল ছবির জন্য। প্রথমে নিমরাত বেশ ভয় পেয়েছিলেন। তবে কাজ করতে গিয়ে দেখছিলেন অযথা চিন্তা করেছেন তিনি। ইরফান দারুণ অভিনেতা। তাঁর চেয়েও অনেক বেশি ভাল মানুষ। ইরফানের মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন নিমরাত। তিনি ভাবতেই পারছেন না যে, ইরফান আর নেই।

নিমরাতের কথায় 'খবরটায় আমি প্রচন্ড অবাক হয়েছি। আমার কতটা খারাপ লেগেছে, সেটা বলে বোঝাতে পারবো না না। আমার বেশি চিন্তা হচ্ছে ইরফানের পরিবারের সকলের জন্য। অনেকদিন ধরেই যুদ্ধ করছেন তাঁরা। অবশেষে হেরে গেলেন। এই সময় নিজেদের সামলানো মুশকিল। আমি তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি। ইরফান চলে গিয়েছেন। তিনি আর ফিরবেন না। তবে যাঁদের রেখে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা ভীষণ কঠিন। এরকম একটা ঘটনা থেকে বেরোনো কতটা কঠিন হতে পারে, সে সম্পর্কে আমার ধারণা রয়েছে। আমার শব্দ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমনটা কেন হল, তার ব্যাখ্যা নেই। কিন্তু এটা হওয়ার ছিল না ।'

ছবিতে ইরফানের সঙ্গে তেমনভাবে স্ক্রিন শেয়ার করেননি নিমরাত। তবে ছবির প্রচারের সময় অনেকটা সময় কাটিয়েছেন তাঁরা। নিমরাত বললেন, 'এটা আমার দুর্ভাগ্য, একটি মাত্র ছবিতেই কাজ করেছি। এত সুন্দর ছবি। তবুও স্ক্রিন শেয়ার শেয়ার করতে পারিনি। কিন্তু প্রচারের সময়, আমাদের মধ্যে প্রচুর কথা হয়েছে। সিনেমা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক সময় কাটিয়েছি একসঙ্গে। ইরফান ভীষণ ভাল মানুষ মানুষ। বড় মাপের মানুষ। আমি তখন নতুন, অনেক কিছুই জানি না। কিন্তু আমাকে সবসময় সাহস জোগাতেন। বলতেন সব শিখে যাবে। কেউই সবকিছু প্রথমে জানে না। কোনও কারণে যদি নার্ভাস লাগতো, হাসি ঠাট্টা করে পরিবেশটা হালকা করে দিতেন। আমার এই কথাগুলো বারবার মনে পড়ছে মনে পড়ছে।'

ইরফানের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন নিমরাত। তাঁর কথায়, 'ইরফান এত বড় অভিনেতা। বলিউড-হলিউডে সমানভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু নিজের মধ্যবিত্ত মানসিকতা সবসময় বজায় রেখেছেন। নিজের শিকড় ভোলেননি কখনও। তাই বোধহয় ওঁর মধ্যে কোনও অহংকার জন্মায়নি। আমি এটা ইরফানের কাছ থেকে শিখেছি। সারাজীবন বজায় রাখার চেষ্টা করব। শুধু একটাই আফশোস, ও যখন এত অসুস্থ ছিল একবার দেখা করতে গেলাম না কেন। আর তো কখনও দেখা হবে না। এই দুঃখটা রয়ে যাবে ।

Published by: Simli Raha
First published: May 7, 2020, 9:48 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर