হোম /খবর /ব্যবসা-বাণিজ্য /
মধ্যবিত্তদের জন্য সেরা ৫ বিনিয়োগ মাধ্যম, রইল বিস্তারিত, দেখে সিদ্ধান্ত নিন!

মধ্যবিত্তদের জন্য সেরা ৫ বিনিয়োগ মাধ্যম, রইল বিস্তারিত, দেখে সিদ্ধান্ত নিন!

ন্যূনতম ঝুঁকি কিন্তু উচ্চ রিটার্ন পাওয়া যাবে এমন ৬টি বিনিয়োগ বিকল্পে টাকা ঢালতে পারেন মধ্যবিত্তরা।

  • Share this:

#কলকাতা:  অর্থনীতির আকাশে আর্থিক মন্দার মেঘ। মেটা, ট্যুইটারের মতো একাধিক সংস্থা বিপুল কর্মী ছাঁটাই করেছে। অনেক কোম্পানিতে আবার বেতনেও কাটছাঁট করা হয়েছে। ভারতের একাধিক প্রযুক্তি সংস্থাতেও এসে লেগেছে ছাঁটাইয়ের আঁচ। মধ্যবিত্তদের মনে ঢুকে গিয়েছে চাকরি হারানোর ভয়। করোনার সময় মোট ভারতে মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ চাকরি হারান বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু তাই বলে সব শেষ হয়ে যায়নি। তাই সময় থাকতে ভারতের সেরা বিনিয়োগ পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে বিশদে জেনে রাখতে হবে। যেখানে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভাল রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।

রাজীব (নাম পরিবর্তিত) স্টার্ট আপ কোম্পানির আইটি বিশ্লেষক ছিলেন। তিন বছরের অভিজ্ঞতা। স্নাতক হওয়ার পরেই কোম্পানিতে যোগ দেন। আরও ২ বছর কাজ করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর সময় স্টার্ট আপ কোম্পানি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে কর্মী ছাঁটাই শুরু করে। চাকরি যায় রাজীবের। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি ফ্ল্যাট কেনার জন্য হোম লোন নিয়েছিলেন। বাণিজ্যের ছাত্র হওয়ার কারণে সঞ্চয়ের মূল্য জানতেন। বুঝতেন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করলে তবেই লাভ। তিনি প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতেন। চাকরি যাওয়ার পর রাজীব এই বিনিয়োগের একটা অংশ তুলে ঋণ পরিশোধ করেন। অল্প বয়সে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ শুরু করার জন্য তিনি ঋণ খেলাপি হওয়া থেকে বেঁচে গেলেন। কিন্তু সবার ভাগ্য রাজীবের মতো নয়। তাই আগেভাগে সাবধান হতে হবে।

আরও পড়ুন: কৃষকদের জন্য সুখবর, এই আইন বদল করছে সরকার, ঘরে বসেই মিলবে সুবিধা!

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ৬টি সেরা বিনিয়োগ পরিকল্পনা: ন্যূনতম ঝুঁকি কিন্তু উচ্চ রিটার্ন পাওয়া যাবে এমন ৬টি বিনিয়োগ বিকল্পে টাকা ঢালতে পারেন মধ্যবিত্তরা। সেগুলি হল – সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট, কর্পোরেট ডিপোজিট, ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি এবং স্টক মার্কেট।

আরও পড়ুন: ছুটবে তীব্র ঝড়ের বেগে! চলতি মাসেই ভারতের বাজারে আসতে চলেছে ল্যাম্বরগিনির সুপার

সেভিংস অ্যাকাউন্ট: সঞ্চয়ের সহজতম রূপ হল ভারতের যে কোনও ব্যাঙ্কে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা। এই অ্যাকাউন্টে অল্প পরিমাণ টাকাও গ্রাহক রাখতে পারেন। বার্ষিক ৩ থেকে ৪ শতাংশ হারে সুদ মেলে। যে কোনও সময়ে এই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যায়। ফলে বিপদেআপদে কাজে লাগে। সেভিংস অ্যাকাউন্ট নগদ টাকা রাখার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়গুলোর একটি। তবে অন্যান্য বিনিয়োগ মাধ্যমের চেয়ে রিটার্ন বেশি নয়।রিটার্নের হার – বার্ষিক ৩ থেকে ৪ শতাংশ।মেয়াদ – প্রযোজ্য নয়।ট্যাক্স – সুদ আয়ের সঙ্গে যোগ হয়। আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হয়।

ফিক্সড ডিপোজিট: ভারতের সমস্ত বিনিয়োগ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটা সবচেয়ে জনপ্রিয়। ভারতের যে কোনও ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট করা যায়। বিনিয়োগ শুরু করার এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে এক লপ্তে বিনিয়োগ করতে হয়। তারপর সেটা ৫,৭ বা ১০ বছরের জন্য লক ইন পিরিয়ডে থাকে। মেয়াদপূর্তির পর জমা টাকার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত হারে সুদ দেওয়া হয়। যদিও ফিক্সড ডিপোজিট রিটার্নের উপর আরোপিত কর রিটার্নের বেশিরভাগটাই খেয়ে ফেলে। তবুও মধ্যবিত্তদের জন্য কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগের জন্য এটা সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ উপকরণ।রিটার্নের হার – সাধারণত বার্ষিক ২.৫ শতাংশ থেকে ৫.৫ শতাংশ। মেয়াদ – ৭ দিন থেকে ১০ বছর।ট্যাক্স – সুদ আয়ের সঙ্গে যোগ হয়। আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হয়।

কর্পোরেট ডিপোজিট: কর্পোরেট কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং সম্প্রসারিত পরিকল্পনাগুলিকে কর্পোরেট ডিপোজিট বলা হয়। এগুলো ব্যাঙ্কের এফডি-র মতোই কাজ করে। তবে রিটার্ন বেশি। ঝুঁকিও বেশি কারণ কর্পোরেট কোম্পানিগুলো টাকা তোলে, তাই তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করলে খেলাপি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যাঁরা ঝুকি নিতে পছন্দ করেন এবং স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের বদলে উচ্চ রিটার্ন খুঁজছেন তাঁদের জন্য এই স্কিম উপযুক্ত।রিটার্নের হার – বার্ষিক ৬ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ। মেয়াদ – এক বছর থেকে ৫ বছর।ট্যাক্স – কর্পোরেট ডিপোজিট থেকে প্রাপ্ত সুদ আয়ের সঙ্গে যোগ হয় এবং ব্যক্তির প্রচলিত আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হয়।

ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি: স্টক মার্কেটের বিনিয়োগ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান নিয়ে মধ্যবিত্তদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। কারণ উচ্চ রিটার্ন। দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের মতো ধৈর্য থাকলে এটা আদর্শ। প্রতি মাসে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে এসআইপি শুরু করা যায়।রিটার্নের হার – বার্ষিক ৮ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ। মেয়াদ – ৬ মাস থেকে ৫ বছর।ট্যাক্স – স্বল্প-মেয়াদি মূলধন লাভ এবং দীর্ঘমেয়াদী মূলধন লাভ গণনা করার পরে এবং হোল্ডিং পিরিয়ডের উপর ভিত্তি করে মিউচুয়াল ফান্ড থেকে আয়ের উপর কর দিতে হয়।

স্টক মার্কেট: ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা থাকলে স্টক মার্কেট আদর্শ। সঠিক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে টাকা দ্বিগুণ হতে পারে। অন্য দিকে, পুরো টাকা জলে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। রিটার্নের হার – বার্ষিক ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ। মেয়াদ – ১ মাস থেকে ৫ বছর।ট্যাক্স – আয়ের সঙ্গে রিটার্ন যোগ করা হয় এবং ট্যাক্স আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী গণনা করা হয়।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

Tags: Interest Rates, Investments and Returns