পুলিশ আধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, ‘‘দিলীপ ঘোষ মুখ খুলেছে মানেই উইকেট পড়বে।’’ এ দিন হলদিয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশ ঘিরে বিজেপির হেভিওয়েট জমায়েত প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, ‘‘মনোনয়নের প্রথম দিন থেকেই আমরা শক্তির পরিচয় দিচ্ছি। হলদিয়ায় কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজ্য সভাপতি থাকবেন, আমাকেও ডাকা হয়েছে। এরপর খড়গপুরে বড় জমায়েত হবে।’’
advertisement
বঙ্গে রাজনৈতিক স্লোগান ঘিরে দ্বৈরথ নিয়ে তাঁর টিপ্পনী, ‘‘এতদিন শুধু জয় বাংলা চলত, এবার পাল্লা দিতে জয় শ্রীরাম এসে গেছে।’’ রাজ্য জুড়ে পুলিশ মহলে বড়সড় রদবদল এবং আইসি বদলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি তিনি। দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘‘পুলিশি রদবদল শুরু হয়েছে মাত্র। যত বদলি হবে, দিদিমণির টেম্পারেচার তত বাড়বে আর তিনি উল্টোপাল্টা বকবেন।”
দিলীপের কটাক্ষ, “উনি ভেবেছিলেন আইপ্যাক দল চালাবে, এখন দেখছেন দল চালানোর লোক নেই, তাই পুলিশ দিয়ে দল চালাচ্ছেন। কিন্তু পুলিশও এখন হারিয়ে যাচ্ছে।’’ খড়্গপুরের আইসি-র বদলি প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘দিলীপ ঘোষ মুখ খোলা মানেই উইকেট পড়া নিশ্চিত। ব্যাগেজ গুছিয়েই রেখেছিলেন উনি।’’
তালিকায় বাদ যায়নি কংগ্রেসও। রাজ্যে বড় সংখ্যায় আসন ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস নাক বাঁচানোর চেষ্টা করছে। মানুষ ওদের নাম ভুলে গেছে। অধীরবাবু বড় নেতা, লড়ে দেখুন এবার কী হয়।’’ পাশাপাশি, তালসারিতে অভিনেতা রাহুলের রহস্য-মৃত্যু নিয়ে সরব হয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ দিন স্থানীয় সমস্যার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। খড়গপুর ও সংলগ্ন রেল এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা এবং পথবাতি না থাকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। দিলীপবাবু বলেন, ‘‘কালো জল বেরোচ্ছে, যা না যাচ্ছে খাওয়া, না যাচ্ছে স্নান করা। যারা কালো কারবার করে, তারা কি আর পরিষ্কার জল দিতে পারে?’’
রেল এলাকার আলো নিয়ে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন দিলীপ, বলেন, “শীঘ্রই সব ঠিক হবে।”
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ডামি মুখ্যমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “৪ জুন পর্যন্ত উনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাবেন, কিন্তু লাভ কিছুই হবে না।” সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে আরও একবার চেনা আক্রমণাত্মক ঢঙেই ধরা দিলেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ।
রঞ্জন চন্দ





