দোকানটি আকারে ছোট হলেও প্রতিদিন সেখানে জমে ওঠে এক ব্যতিক্রমী আসর। কেতলিতে চা ফুটতে ফুটতেই শংকরের কণ্ঠে ভেসে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ কিংবা পৌরাণিক কবিতার পঙ্ক্তি। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে এইভাবেই চলছে তাঁর জীবন—চা আর কবিতার যুগলবন্দি।কেউ আসে শুধু এক কাপ চা খেতে, কেউ আসে কবিতা শুনতে। কেউ টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যায়, কেউ আবার মুগ্ধ হয়ে বসে থাকে দীর্ঘ সময়। আবার কারও মুখে বিরক্তির ছাপও দেখা যায়। সবই হাসিমুখে গ্রহণ করেন শংকর। তাঁর চোখে কবিতা কোনও প্রদর্শন নয়, কবিতা তাঁর নিঃশ্বাস।
advertisement
শংকর কৈলা বলেন, “যতদিন বাঁচব, কবিতা আবৃত্তি করেই বাঁচতে চাই। মৃত্যুর সময় যদি কবিতা বলতে বলতে যেতে পারি, সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।” চায়ের দোকানের বাইরেও তাঁর পরিচয় আছে। অভিনয় করেছেন একাধিক নাটকে, ধারাবাহিকে। অংশ নিয়েছেন বহু পৌরাণিক যাত্রায়। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল বড় আবৃত্তিকার হওয়ার। সেই স্বপ্ন হয়ত মঞ্চে বড় আকারে পূরণ হয়নি, কিন্তু প্রতিদিন মানুষের সামনে কবিতা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর কাছে পরম প্রাপ্তি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই দোকান শুধু রুজি রোজগারের জায়গা নয়, শংকরের কাছে এটি কবিতার আশ্রয়। সংসারের দায়িত্ব অনেকটাই কমলেও কবিতা ছাড়া জীবন কল্পনাই করতে পারেন না তিনি। পাশে রয়েছেন বন্ধু ও সাহিত্যগুরু প্রদীপ কুমার রাউত—যাঁর সাহচর্য তাঁর কণ্ঠে এনে দেয় আরও গভীরতা। পিংলার পথে হাঁটতে হাঁটতে যদি কখনও কেটলির ভাপের সঙ্গে ভেসে আসে কবিতার পঙ্ক্তি—বুঝে নিতে হয়, সেটাই শংকর কৈলার চায়ের দোকান। যেখানে চা শুধু পানীয় নয়, চা সেখানে কবিতার বাহন।





