বুধবার গভীর রাতে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাওয়ার সময় একটি হাতির পাল রঞ্জা বিট এলাকায় মাঠ দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎই একটি হস্তিশাবক অসাবধানতাবশত একটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। গর্তটি এতটাই গভীর ছিল যে ছোট্ট শাবকটি কোনওভাবেই উপরে উঠতে পারছিল না। বিপদ বুঝতে পেরে মা হাতিটি গর্তের ধারে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠায় চিৎকার করতে থাকে। বারবার শুঁড় বাড়িয়ে শাবকটিকে তুলতে চেষ্টা করলেও সফল হচ্ছিল না সে।
advertisement
আরও পড়ুন: সাতসকালে বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠল হাড়োয়া, বিষ্ফোরণে উড়ল দেওয়াল, ছাউনি! বন্ধ দোকানে ভয়ঙ্কর কাণ্ড
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে মা হাতির সেই করুণ ডাক পৌঁছে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কানে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কেউ আলো জোগাড় করেন, কেউ বন দফতরে খবর দেন। খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা দ্রুত পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রথমে গর্তে জল ঢেলে মাটি নরম করা হয়, যাতে শাবকটি সহজে উপরে উঠতে পারে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পাশাপাশি মাটির ঢাল তৈরি করা হয়। বনকর্মীদের তৎপরতায় ও মায়ের নিরন্তর চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত শাবকটি শুঁড়ের সাহায্যে উপরে উঠতে সক্ষম হয়। নিরাপদে উঠে আসতেই মা হাতি শাবকটিকে ঘিরে দাঁড়ায় এবং কিছুক্ষণ পর পুরো পালটি আবার জঙ্গলের দিকে রওনা দেয়। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল, প্রাণীদের মধ্যেও গভীর মায়া-মমতা ও পারিবারিক বন্ধন রয়েছে। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের মাঝেও এমন মানবিক মুহূর্তই মনে করিয়ে দেয়, সহাবস্থানই একমাত্র পথ।





