কিন্তু প্যাকেটগুলির অস্বাভাবিক আকার, ওজন এবং মোড়ক দেখে সন্দেহ হয় পোস্ট অফিসের কর্মীদের। নিয়মমাফিক প্যাকেট খুলে দেখাতে বলতেই অভিযুক্ত আচমকাই সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত কর্মীরা তাকে ধরে ফেলেন এবং খবর দেন বারুইপুর থানায়। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং প্যাকেটগুলি বাজেয়াপ্ত করে। পরে সেগুলি খুলে চাঞ্চল্যকর ছবি সামনে আসে। শাড়ির ভাঁজের ভিতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ছিল মাছরাঙা পাখির পালক। মোট ৪১টি আলাদা প্যাকেটে এই পালকগুলি ভরা ছিল। প্রাথমিকভাবে অনুমান, এগুলি চিনে পাচারের উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছিল। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে সংরক্ষিত পাখির দেহাংশ সংগ্রহ, মজুত বা পাচার করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।
advertisement
আরও পড়ুন: অপরাধ হয়েছিল পোষা মুরগির দিকে তেড়ে যাওয়া, পাথর ছুঁড়ে হত্যা সদ্য মা হওয়া পথকুকুরকে! আটক যুবক
এই ঘটনার পর বন দফতরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল পাখির পালক অবৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে অলংকার বা সংগ্রহযোগ্য সামগ্রী হিসেবে উচ্চ দামে বিক্রি হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত জানিয়েছে, সে বিহার থেকে এই পালকগুলি সংগ্রহ করেছে। তবে এত বিপুল পরিমাণ মাছরাঙার পালক সে কীভাবে পেল এবং এর পেছনে বড় কোনও পাচার চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এটি একটি সংগঠিত আন্তঃরাজ্য তথা আন্তর্জাতিক চক্রের অংশ। বারুইপুর এসডিপিও অভিষেক রঞ্জন তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বারুইপুর পোস্ট অফিসে কিছু জিনিস পার্সেল করার জন্য গিয়েছিল।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ডাক বিভাগের কর্মীদের সেই পার্সেল দেখে সন্দেহ হয় এবং পার্সেল খুলে দেখাতে বলতে অভিযুক্ত ব্যক্তির চমকে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণ দেখে ডাক বিভাগের কর্মীদের সন্দেহ হয়। এরপর পোস্ট অফিসের কর্মীরাই থানাতে ফোন করেন। পুলিশ গিয়ে ওই পার্সেলটি খুলে দেখতে পায় এতে মাছরাঙ্গা পাখির পালক রয়েছে। এরপর অভিযুক্ কে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, এই পার্সেলগুলি তিনি বিহার থেকে এনেছেন এবং চিনে পাঠানো হচ্ছিল। এই পাচারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, পার্সেলগুলি ঠিক কোথায় পাঠানোর কথা ছিল এবং এর আগেও এমন পাচার হয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার ধৃতকে বারুইপুর মহাকুমার আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে সূত্রের খবর।






