অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে নির্বাচনের সময় তা ব্যবহার করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বোমাগুলি চালাকায়ের মধ্যে এবং বিভিন্ন গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখা ছিল। শুধু তাই নয়, কিছু বোমা বস্তায় ভরে সিমেন্টের কাদার মধ্যেও মজুত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক হল, চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের একটি পুকুর থেকেও বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধার হয়েছে। জানা গেছে, কিছু শিশু পুকুরে মাছ ধরতে নেমে হঠাৎই এই বোমাগুলি দেখতে পায়। এরপর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় বোমাগুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, শাসকদলের মদতেই এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছে এবং এর পিছনে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাদের দাবি, ভোটের আগে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে প্রভাব খাটানোর জন্যই এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
advertisement
বিরোধী দলের কর্মী মহম্মদ আলমগীর রাজন বলেন, “কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এত বোমা উদ্ধার হওয়া প্রমাণ করে যে এগুলো পরিকল্পিতভাবে মজুত করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের সাহায্যে আমরা এগুলো উদ্ধার করতে পেরেছি, কিন্তু এর পিছনে বড় চক্রান্ত রয়েছে।”অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ইব্রাহিম, ওয়ৈদুল, লিলিমা ও তাশিন নামে কয়েকজন ব্যক্তি শাসকদলের ঘনিষ্ঠ এবং তাদের সহযোগিতায় এলাকায় বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, এই অস্ত্রগুলি মূলত বিরোধী শিবির, বিশেষ করে আইএসএফ সমর্থকদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল।
এমনকি ইব্রাহিমের বাড়ির কাছের একটি বাগান থেকেও বোমা উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পাপিয়া বিবি জানান, “সকাল থেকেই তদন্ত চলছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু প্রথমদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল।”তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল। তৃণমূল নেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। আইএসএফের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বলেই তারা প্রচারের জন্য এই ধরনের নাটক করছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
কে বা কারা এই বোমা মজুত করেছিল, তার উৎস ও উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।সব মিলিয়ে, দক্ষিণ বামুনিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের আবহকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।
Suman Saha






