বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১১০। অথচ এত সংখ্যক পড়ুয়ার দায়িত্ব সামলানো জন্য রয়েছেন মাত্র দু’জন শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষিকা শোভা দেবনাথ, বয়স ৫৯ বছর এবং অপর শিক্ষিকা সুচরিতা হালদার, বয়স ৫৭। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও দায়িত্ববোধে কোনও খামতি রাখেন না তাঁরা। প্রতিদিন এই দুই প্রবীণ শিক্ষিকা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। কিন্তু বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে ইচ্ছা থাকলেও সবকিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।

advertisement

আরও পড়ুনঃ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মী চাই! একাধিক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, বেতন কত? কীভাবে আবেদন করবেন? জানুন বিস্তারিত

স্কুলে ক্লাসরুম রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষিকার অভাবে সেই ঘরগুলো প্রায় অচল। প্রধান শিক্ষিকাকে প্রায়ই দফতরের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে অন্য শিক্ষিকাকে একাই একসঙ্গে ৩-৪টি ক্লাসের পড়ুয়াদের সামলাতে হয়। বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দাতেই বসে একাধিক শ্রেণির ক্লাস। এক পাশে প্রথম শ্রেণির বাচ্চারা, অন্য পাশে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা। একই সঙ্গে চলছে ভিন্ন ভিন্ন পাঠ। এই বিশৃঙ্খল অবস্থায় শিক্ষার মান কতটা বজায় রাখা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।

advertisement

View More

আরও পড়ুনঃ জীবিত সদ্যজাতকে মৃত ঘোষণা! পাঁচ ঘণ্টা পর প্যাকেট খুলতেই নড়ে উঠল শিশু, আর একটু দেরি হলেই…! নার্সিংহোমে চিকিৎসায় চরম গাফিলতি

শুধু শিক্ষক সঙ্কট নয়, স্কুলের অন্যান্য পরিকাঠামোর অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। ইলেকট্রিক সংযোগ থাকলেও ফ্যানগুলি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। গরমের দিনে ছোট ছোট শিশুদের এই অবস্থায় বসে পড়াশোনা করতে হয়। শৌচাগারের অবস্থাও তার অবস্থা করুণ। যা ব্যবহার উপযোগী নয় বললেই চলে। ফলে পড়ুয়াদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিদিন।

advertisement

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল পানীয় জলের সমস্যা। স্কুলের টিউবওয়েলটি বহুদিন ধরে খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে জল খাওয়ার জন্য ছোট ছোট বাচ্চাদের প্রাণ হাতে করে বাসন্তী স্টেট হাইওয়ে পার হতে হয়। প্রতিদিন এই ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে জল আনতে যাওয়া যে কতটা বিপজ্জনক, তা সহজেই অনুমেয়। অভিভাবকদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

advertisement

প্রধান শিক্ষিকা শোভা দেবনাথ আক্ষেপের সুরে বলেন, “এখানে অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে। অনেকেই খুব মেধাবী। কিন্তু আমরা চাইলে ওদের সেইভাবে গড়ে তুলতে পারছি না। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বিডিও সবাইকে বহুবার জানিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

এই পরিস্থিতি সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে। একদিকে যখন উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলা হচ্ছে, তখন অন্যদিকে একটি সরকারি স্কুলে এই ধরনের অব্যবস্থা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।