পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বৃদ্ধার নাম নুরহাজান বিবি (৬০)। তাঁর স্বামী কিসমত শেখ গুরুতর জখম হয়েছেন। প্রথমে তাঁকে পূর্বস্থলী ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে কালনা মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অভিযুক্ত ছেলে হাসিবুল শেখকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলী-২ ব্লকের নিমদহ পঞ্চায়েত এলাকার মধুপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
advertisement
আরও পড়ুন-জিয়াগঞ্জ থেকে বেরতেই আসল রূপ দেখালেন আমির, অরিজিতকে যা বললেন…, ফাঁস হতেই তোলপাড়
সোমবার দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়িতেই ছিলেন নুরহাজান বিবি। দাওয়ায় বসেছিলেন তাঁর স্বামী কিসমত শেখ। বিকেল চারটে নাগাদ বাড়িতে আসে তাঁদের বড় ছেলে হাসিবুল। এরপরেই মায়ের সঙ্গে নেশার টাকা চাওয়া নিয়ে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, ঝগড়ার মধ্যেই আচমকা ঘরে রাখা বঁটি তুলে নিয়ে মায়ের উপর এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে হাসিবুল। বাবাকে এগিয়ে আসতে দেখে তাকেও কোপ মারা হয়। হাতে বঁটি দেখে ভয়ে চিৎকার শুরু করেন হাসিবুলের বৌদি মাজিদা বিবি। প্রতিবেশিরা ছুটে আসার আগেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৃদ্ধ দম্পতি। এরপর অভিযুক্ত বঁটি ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। বাড়ির বাইরে একটি নিকাশি নালায় পড়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছোট বউমা মাজিদা বিবি জানান, তিনি ঘরেই ছিলেন। আচমকা তাঁর ভাসুর এসে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। কিছু বোঝার আগেই বঁটি দিয়ে কোপাতে থাকে। ভয় পেয়ে তিনি প্রতিবেশিদের ডাকতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন- ‘মহাপ্রলয়’ আসছে….! কেতুর গোচরে কাঁপবে দুনিয়া, ৩ রাশির জীবন সঙ্কটে, আর্থিক ক্ষতি কাঙাল করে ছাড়বে
মৃতার মেজ ছেলে বাগবুল শেখ বলেন, ‘দাদা সবসময় নেশার ঘোরে থাকত। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া করত। আজ সেই নেশার কারণেই এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটাল।’পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিসমত শেখ ও নুরহাজান বিবির তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তিন ছেলে আলাদা বাড়িতে থাকেন। সামান্য জমিজমা ভাগে চাষ করেই কোনওরকমে চলত বৃদ্ধ দম্পতির সংসার। অভিযুক্ত হাসিবুল দীর্ঘদিন ধরেই নেশাগ্রস্ত ছিলেন। কাজকর্ম করতেন না বলে অভিযোগ। আট বছর আগে নেশার কারণেই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান। তাঁর ছোট ছেলে ঠাকুমার কাছেই থাকত। পরিবারের দাবি, নেশার টাকা না পেলে বাবা-মাকে হুমকিও দিত সে।ঘটনার সময় বাড়িতে না থাকা ছোট ছেলে খাইরুল শেখ বলেন, ‘চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি মা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বাবা ঘরের ভিতরে চৌকির উপর পড়ে ছিলেন। ঘাড় আর পেটে কোপের চিহ্ন ছিল।’
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পূর্বস্থলী থানার আইসি-র নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কালনা মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের চাচাতো ভাই লালচাঁদ শেখ বলেন, ‘নিজের মাকে এভাবে খুন করবে, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। আমরা পুলিশের কাছে সব জানিয়েছি। ওর কঠোর শাস্তি হোক, এটাই চাই।’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোক ও ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা মধুপুর গ্রাম।






