কিন্তু শিল্প জগতে তিনি ছিলেন এক অপার বিস্ময়। এক অনবরত অনুসন্ধান ও সৃষ্টির নাম রামকিঙ্কর বেইজ। বাঁকুড়ার এই জন্মভিটে আজও যেন তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে আছে। বাড়িটি দেখতে সাধারণ, আটপৌরে এবং কিছুটা ভাঙাচোরা হলেও তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে হেরিটেজ কমিশনের তরফ থেকে সেখানে একটি ফলক বসানো হয়েছে। যা এই বাড়ির ঐতিহ্যকে চিহ্নিত করে।
advertisement
বাড়ির ভিতরে এখনও রামকিঙ্করের তৈরি কিছু শিল্পকর্ম দেখা যায়। যদিও তাঁর অধিকাংশ বিখ্যাত ভাস্কর্য ও কাজ সংরক্ষিত রয়েছে শান্তিনিকেতনে। তবুও শিল্পপ্রেমীরা এখানে এসে অনুভব করতে পারেন শিল্পীর জীবনের শিকড়কে।
আরও পড়ুনঃ ডিউটিতে জয়েন করার পর হঠাৎই যোগাযোগ বন্ধ! ২ মাস ধরে নিখোঁজ জুনিয়র কনস্টেবল, উদ্বেগ বাড়ছে পুরুলিয়ায়
ইতিহাস গবেষক সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল, বাঁকুড়ার মানুষই রামকিঙ্করকে প্রকৃত অর্থে চিনতে পারেনি। অথচ তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী।” সত্যিই, সাধারণ জীবনযাপন করলেও তাঁর শিল্পচর্চা ছিল অসীম। নিজের চারপাশের মানুষ, প্রকৃতি এবং সমাজের দৃশ্য থেকেই তিনি খুঁজে নিতেন তাঁর শিল্পের অনুপ্রেরণা। তাঁর শিল্পভাবনা ছিল একেবারেই স্বতন্ত্র এবং মুক্তচিন্তার প্রতিফলন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
১৯২৫ সালে নন্দলাল বসুর ছাত্র হিসেবে রামকিঙ্কর বেইজ শান্তিনিকেতনের কলাভবনে যোগ দেন এবং টানা ৪৬ বছর সেখানে শিল্পচর্চা করেন। পরবর্তীতে তিনি ভাস্কর্য বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর তৈরি ভাস্কর্যগুলির আকার সাধারণত বড় এবং জীবন্ত অভিব্যক্তিতে ভরপুর। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘সাঁওতাল পরিবার’, ‘সাঁওতাল রমণী’, ‘গান্ধিজি’ সহ আরও বহু সৃষ্টি। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিও নির্মাণ করেছিলেন। ভারতীয় শিল্পে আধুনিকতার জনক হিসেবে রামকিঙ্কর বেইজকে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।





