শুটিং চলছিল দিঘার অদূরে ওড়িশার তালসারিতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল, কিন্তু কিছু ক্ষণের মধ্যেই বিপত্তি ঘটে। সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরই ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করেন। কিছু ক্ষণ পর স্পিডবোটের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উদ্ধার করার সময় তাঁর জ্ঞান ছিল। তবে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
advertisement
তালসারি মেরিন থানার ইন্সপেক্টর ইন চার্জ শ্রাবণ কুমার মোহারানা বলেন, “ ওঁরা জেলা প্রশাসনের থেকে অনুমতি নিয়েছেন কিনা, বা কোথা থেকে অনুমতি নিয়েছেন, তা ওঁরাই জানেন। এখানে শুটিং হচ্ছে তা স্থানীয় থানায় জানানো হয়নি। আমাদের জ্ঞানে বিষয়টি ছিল না, ফলে আমরা নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখিনি।
স্পিডবোট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, ” জলে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর জ্ঞান ছিল। আমাদের এখানে মারা যাননি। এখানে এখনও পর্যন্ত কোনও মামলা করা হয়নি।”
রবিবার রাত পৌনে এগারোটা নাগাদ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফে দিঘা হাসপাতাল থেকে তাঁর দেহ তমলুকে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা পুলিশের আধিকারিকরা, দিঘা থানা ও দিঘা মোহনা থানার পুলিশকর্তারাও। হাসপাতালের সামনে অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান হয়। প্রিয় অভিনেতার নিথর দেহ শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমান বহু ভক্ত।
দিঘার স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার লাইয়া বলেন, “এই মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কঠিন। জুবিন গর্গ-কেও এভাবেই হারাতে হয়েছে। আবার আমার প্রিয় অভিনেতাকে এভাবেই হারালাম।” ঘটনায় শোকস্তব্ধ টলিউড মহল। সহকর্মী থেকে অনুরাগী, সবাই স্তম্ভিত অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে। এই ঘটনার পর শুটিং সেটে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, পাশাপাশি কেন স্থানীয় থানাকে জানান হল না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।






