লকডাউনের দীর্ঘ সময়টা অনেকের কাছেই ছিল কঠিন। কিন্তু কমলাকান্ত মাইতির কাছে সেটাই হয়ে ওঠে নতুন শুরু। বাড়িতে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও দেখতে দেখতে তাঁর মাউথ অর্গানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ নেশায় পরিণত হয়। তিনি অনলাইনে মাউথ অর্গান শেখা শুরু করেন। বিভিন্ন শিক্ষকের ক্লাস করেন। প্রতিদিন নিয়ম করে অনুশীলন চালিয়ে যান। প্রথমদিকে অনেক সমস্যা হয়েছিল। তবুও তিনি থেমে যাননি। নিজের চেষ্টা আর ধৈর্য দিয়ে এগিয়ে গেছেন। ধীরে ধীরে সুরের উপর তাঁর দখল বাড়তে থাকে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।
advertisement
অনুশীলনের ফল খুব শিগগিরই মিলতে শুরু করে। প্রথমে স্থানীয় ছোট ছোট অনুষ্ঠানে তাঁর ডাক পড়ে। গ্রামের মঞ্চেই শুরু হয় তাঁর যাত্রা। সেখানে তাঁর সুরে মুগ্ধ হন দর্শকরা। এরপর একের পর এক অনুষ্ঠান থেকে ডাক আসতে থাকে। তাঁর পরিবেশনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে। পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়িয়ে বাংলার বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যায় তাঁর নাম। বাংলার কোণায় কোণায় প্রতি মঞ্চেই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর সুরে থাকে এক আলাদা আবেগ। যা খুব সহজেই মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।
আরও পড়ুন : কিডনিতে পাথর, মাইগ্রেন…আর কোন কোন রোগে কাজুবাদাম বিপজ্জনক? জানুন কারা ভুলেও এটা দাঁতে কাটবেন না
আজ তিনি বাংলার পরিচিত মাউথ অর্গান শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষকতার পাশাপাশি মাউথ অর্গান এখন তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়মিত ডাক পান তিনি। তাঁর সুর শুনতে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। মঞ্চে উঠলেই তৈরি হয় এক আলাদা উন্মাদনা। দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। তাঁর সাফল্যের গল্প অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। কঠিন সময়কেও কীভাবে সুযোগে বদলানো যায়, সেটাই তিনি দেখিয়েছেন।





