এখানে রাজনৈতিক দলের প্রচার সভা সমিতি, ভাষণ, মঞ্চ কিছুই নেই। কোনও আধিপত্যের ছাপ নেই। তবে বাস্তব নির্বাচনের মতোই সাজানো হয়েছিল পুরো ভোট প্রক্রিয়া। ছিল আধা-সামরিক বাহিনীর পোশাকে খুদে প্রশাসন। প্রাক্তনীরা তাদের ছোট ছোট ভাই বোনদের গণতান্ত্রিক অধিকার বোঝাতে এসেছিল বিদ্যালয়ে। তারা কেউ হয়েছে প্রিসাইডিং অফিসার, কেউবা ফাস্ট, সেকেন্ড, থার্ড পোলিং অফিসার। কেউ বিদ্যালয়ের পরিচয় পত্র দেখে আঙুলে কালি লাগাচ্ছে, কেউ ভোটারের হিসাব রেখে ব্যালট পেপার দিচ্ছে।
advertisement
খুদে পড়ুয়াদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ব্যালট বাক্স, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, এমনকি লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার নিয়মও মেনে চলেছে ছোট্ট ভোটাররা। সব মিলিয়ে একেবারে প্রকৃত নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছিল স্কুল প্রাঙ্গণে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ভোটদানের গুরুত্ব বোঝাতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিন ছাত্রছাত্রীরা শুধু পড়াশোনা বা মিড ডে মিলের জন্য নয়, বরং ভোট দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নিতে এসেছিল। তাদের কাছে দিনটি ছিল বিশেষ উত্তেজনা ও আনন্দের। নির্বাচনের জন্য ছাত্রছাত্রীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। ‘কিশলয়’ এবং ‘পাতা বাহার’। প্রতিটি দলে বিভিন্ন শ্রেণি থেকে মোট ছয়জন করে প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। বাকি ছাত্রছাত্রীরা ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দের দলকে নির্বাচিত করে। নির্বাচনের পরে বিজয়ী দলের সদস্যরাই স্কুলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রমে শিশু সংসদের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগৎজ্যোতি ঘোষ জানান, “বাচ্চাদের প্রতিদিন পড়াশোনার পাশাপাশি আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক নানা কর্মসূচি করা হয়। প্রতি বছরই আমাদের বিদ্যালয়ে শিশু সংসদ বা চাইল্ড ক্যাবিনেট গঠন করা হয়। তবে এতদিন তা মৌখিকভাবে করা হতো। এ বছর প্রথমবার আমরা পুরোপুরি ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচন করলাম। বিভিন্ন শ্রেণি থেকে ছয়জন করে প্রার্থী দাঁড়িয়েছে এবং ছাত্রছাত্রীরা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছে। এতে ছোটবেলা থেকেই তারা ভোট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।”
এই বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৯৯ জন। শিক্ষক রয়েছেন মাত্র তিনজন এবং মিড ডে মিল কর্মী দু’জন। বিদ্যালয়ের প্রায় শতভাগ ছাত্রছাত্রীই পিছিয়ে পড়া ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের পরিবারের সন্তান। শিক্ষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।





