স্থানীয় টোটো চালকদের দাবি, এর আগেও একাধিকবার রেলের তরফে বলা হয়েছে বিশেষ কোনও কাজ থাকলে তাঁরা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে টোটো সরিয়ে নেবেন এবং প্রতিবারই তাঁরা পুলিশের নির্দেশ মেনে সেটা করেছেন। এমনকি ডিআরএম পরিদর্শনে এলে তিনটি রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা টোটোগুলিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার হঠাৎ টোটো ও ঠেলাগাড়ির দোকান সরাতে গিয়ে রেল পুলিশ যে আচরণ করেছে, তা মেনে নেওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাঁদের।
advertisement
অন্যদিকে হকারদের বক্তব্য, দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে নবদ্বীপ স্টেশনের উন্নয়নের অজুহাতে নবদ্বীপ রেলগেট থেকে ব্যাদরা পাড়া পর্যন্ত এলাকায় পরপর দোকান তুলে দেওয়া হচ্ছে। একসময় যেসব দোকান স্থায়ীভাবে বসত, এখন তাঁরা ঠেলাগাড়ি বা ভ্যানে করে সামান্য মালপত্র এনে কচুরি, চা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে কোনওরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁদের প্রশ্ন, সত্যিই যদি উন্নয়ন হয়, তাহলে ৪-৫ বছর ধরে ফাঁকা পড়ে থাকা জমিতে কাজ শুরু হচ্ছে না কেন?
টোটো চালকদের আরও অভিযোগ, মঙ্গলবার আরপিএফ সদস্যরা শুধু গালিগালাজই করেননি, কয়েকজন শ্রমিক ভাইকে মারধরও করেছেন। তাঁদের মধ্যে চার-পাঁচজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পাশাপাশি রেল পুলিশের বিরুদ্ধে দোকান উল্টে দেওয়া ও টোটো ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিযুক্ত আরপিএফ কর্মীদের গ্রেফতার ও সাসপেন্ড করা হোক। টোটো চালক ও হকারদের বক্তব্য, তাঁরা উন্নয়নের বিরোধী নন। বরং নবদ্বীপ ধাম স্টেশনের সার্বিক উন্নতি হলে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু উন্নয়নের নামে দিনের পর দিন যে অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তা বন্ধ হওয়া উচিত। তাঁরা জানান, নবদ্বীপ ধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র পর্যটন কেন্দ্র হলেও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এখনও পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধা নেই। দূরদূরান্ত থেকে আগত পর্যটক ও নিত্যযাত্রীদের এতে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা রেলের আধিকারিক জানান, নবদ্বীপ ধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় যাত্রীদের জন্য আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশেই এই উদ্যোগ। স্টেশনের বাইরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের নির্বিঘ্নে ট্রেন ধরার সুবিধার্থে একটি বড় পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তাঁর দাবি, আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যেই স্টেশনের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ওই আধিকারিক বলেন, কেন বিক্ষোভ হচ্ছে তা তিনি ঠিক বুঝতে পারছেন না। রেলের তরফে যা করা হচ্ছে, তা যাত্রীদের স্বার্থেই। কোনও সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে এবং টোটো চালক ও হকাররা তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।






