মুর্শিদাবাদের রেশম শিল্পের ইতিহাস কয়েকশো বছরের পুরনো। নবাবি আমলে এই অঞ্চল বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। সেই সময় রেশম চাষ ও রেশমবস্ত্র উৎপাদন রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেত। ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরাও মুর্শিদাবাদের সিল্কের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ধীরে ধীরে এই শিল্প স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ চাপ বাড়ছে, কমছে লাভের পরিমাণ! চরম সমস্যায় রাজ্যের সুরা ব্যবসায়ীরা, কেন এমন অবস্থা জানুন
advertisement
জিয়াগঞ্জের বাহাদুরপুর এলাকার তাঁতিপাড়া নিজের নিখুঁত কারিগরি, সূক্ষ্ম নকশা ও উন্নত মানের সিল্ক শাড়ির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার তাঁতশিল্পীদের হাতে তৈরি শাড়ি সূক্ষ্মতা-শিল্পরুচির পরিচয় দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও তা বহুল সমাদৃত।
বর্তমানে মুর্শিদাবাদ সিল্কের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। বিয়ে, উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে সিল্ক শাড়ির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ-বিদেশে এই সিল্কের বাজার বিস্তৃত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে এক গভীর উদ্বেগ।
কাঁচামাল- বিশেষ করে সুতো (সিল্ক ইয়ার্ন) এবং অন্যান্য উপকরণের দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি রং, যন্ত্রাংশ, বিদ্যুৎ ও শ্রমের খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্পীদের মতে, একটি শাড়ি তৈরি করতে যদি গড়ে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়, তবে সেই বাড়তি ব্যয় শাড়ির বাজারদামে প্রতিফলিত হবেই। ফলে সিল্ক শাড়ির দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দাম বৃদ্ধি পেলে সাধারণ ক্রেতাদের একটি অংশ হয়ত সিল্কের পরিবর্তে কম দামি বিকল্প বেছে নিতে পারেন। এতে বাজারে কিছুটা ঘাটতি বা চাহিদা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁতশিল্পীরা তখন আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে পারেন, যা এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলবে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শিল্পীদের মতে, মুর্শিদাবাদের সিল্ক শুধু একটি পণ্য নয়— এটি জেলার ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বাহাদুরপুরের তাঁতিপাড়া একটি জীবন্ত ঐতিহ্যের প্রতীক। রেশম শিল্প এখানকার মানুষের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ক্রমবর্ধমান খরচ ও বাজারদরের চাপে এই শিল্প আজ অস্তিত্বের সংকটে। সময়োপযোগী সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও নতুন শক্তিতে এগিয়ে যেতে পারবে। মুর্শিদাবাদ সিল্কের ইতিহাস তাই শুধু অতীতের গৌরবগাঁথা নয়, এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনারও এক উজ্জ্বল দিশারী।





