স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের হামলায় কমপক্ষে ছ’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারলেও এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
advertisement
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার সকালে হাটপাড়ায় এলাকার বাসিন্দা জনৈক আজান শেখ নিজের তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে তাঁরই এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় তৌহিদ শেখের বাড়িতে এসে হাজির হন এবং একটি জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ বেঁধে যায়। সূত্রের খবর, সেই সময় আজান শেখ একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র বার করে তৌহিদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করতে শুরু করে। এই সময় ঘটনাস্থলে আজান শেখের তিন ছেলে এবং তাঁর কয়েকজন আত্মীয় বন্দুক, শাবল এবং অন্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়ে যায়।
অভিযোগ, তাঁরা সকলে মিলে তৌহিদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক মারধর করে। তৌহিদের পরিবারের সদস্যদের উপর যখন হামলা চলছিল সেই সময় কয়েকজন আজান শেখকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধরে ফেলে। সেই সময় তাঁর বাকি সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে কান্দি থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছলে তৌহিদের পরিবারের সদস্যরা আজানের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রটি পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় আমিরুল শেখ, রবিউল শেখ, আসিফ শেখ, বানার শেখ, তৌহিদ শেখ এবং সুকেরা বিবি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কান্দির গোকর্ণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা আহতদের বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন।
আহতদের পরিবারের এক সদস্য রাজিমা খাতুন বলেন, “আমাদেরই এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের সঙ্গে আজান শেখের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছে। আজ ইদের নামাজ শেষে হঠাৎ করেই আজান শেখ, তাঁর স্ত্রী এবং আরও কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে ওই জমি নিয়ে অশান্তি শুরু করে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনার খবর পাওয়ার পরই কান্দি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছে যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। কান্দি থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুষ্কৃতীদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।






