ইতিমধ্যেই, বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের উদ্যোগে ঠাকুরনগর মতুয়া গড় শ্রীধামের মূল প্রবেশপথে তৈরি হচ্ছে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই বিশেষ তোরণ। যা মেলা শুরুর আগেই সম্পন্ন হতে পারে। এদিন থেকেই আসন্ন মতুয়া ধর্ম মহামেলাকে কেন্দ্র করে যেন ঠাকুরনগর জুড়ে উৎসবের আবহ দেখা গেল। আগামী ১৭ মার্চ ঠাকুরনগরের মতুয়া ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন কামনাসাগরে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হতে চলেছে চলতি বছরের মতুয়া ধর্ম মহামেলা। এই মহামেলায় অংশ নিতে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্ত ঠাকুরনগরে সমবেত হন। তারই প্রস্তুতিতে ধর্মীয় রীতি মেনে ঠাকুরনগর মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে উত্তোলন করা হয় পবিত্র লাল-সাদা ধর্মীয় নিশান। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে মহামেলার সূচনা হল। উল্লেখযোগ্যভাবে এ দিন ঠাকুরবাড়ির তিনটি আলাদা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ একত্রে নিশান উত্তোলন করেন।
advertisement
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের আবহ থাকা সত্ত্বেও এই যৌথ উদ্যোগকে মতুয়া সমাজে ঐক্যের বার্তা হিসেবেই দেখছেন বহু ভক্ত। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ও গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন দুটি সংগঠন বিজেপি প্রভাবিত হলেও, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর একটি সংগঠনের সঙ্ঘাধিপতি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেও তিন সংগঠনের একসঙ্গে হয়ে নিশান উত্তোলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত অভিজ্ঞ মহলের।
শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গাইন বলেন, তিনটি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ একত্রে শান্তিপূর্ণ ও অশান্তিমুক্ত মহামেলার আয়োজনের বিষয়ে সহমত হয়েছে। এই মহামেলা মতুয়া ভক্তদের আবেগ ও ভক্তির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অন্যদিকে, মমতা ঠাকুরের অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাংগঠনিক সম্পাদক নরোত্তম বিশ্বাস জানান, প্রকৃত মতুয়া ভক্তেরা এই ঐক্যই চান। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও মতুয়াদের দর্শন এক, আরাধ্য দেবতা একজনই। তাই সকলের মিলিত উদ্যোগে মহামেলা হওয়ায় আমরা আনন্দিত।
মতুয়া ভক্তদের একাংশের মতে, ঠাকুরনগরের মতুয়া মহামেলা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মতুয়া সমাজের আবেগ, পরিচয় ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সংগঠনগত বিভাজন ও রাজনৈতিক টানাপড়েনের কারণে মহামেলার স্বাভাবিকতা কিছুটা ব্যাহত হলেও, এ বছরের যৌথ উদ্যোগ নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এই মহামেলাকে ঘিরে প্রতি বছরই বাড়তি ট্রেন দেওয়া হয়, তাছাড়াও জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।






