বর্তমানে মালদহ ইংরেজবাজারের গৌড় এলাকায় অবস্থিত পিয়াসবাড়ি সেন্ট্রাল নার্সারি আজও তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধরে রেখে কাজ করে চলেছে। স্থানীয় কর্মী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে এখানকার কার্যক্রম এখনও নিয়মিত চলছে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই সরকারি রেশম বীজাগার। সেই সময় এখানকার রেশম উৎপাদন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ক্ষেত্র।
advertisement
নার্সারির এক কর্মী বচ্চন মণ্ডল জানান, “একসময় এখানে স্থানীয় শ্রমিকরা মাত্র ২৫ পয়সা থেকে ৭৫ পয়সা দিনমজুরিতে কাজ করতেন। এখনও সেই সময়কার সাহেবদের একটি অফিস ঘর এখানে রয়েছে, যেখানে ব্রিটিশ আমলে বড় বড় আধিকারিকরা বসে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ করতেন।”
নার্সারির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বিশ্ব বসু বাগচী জানান, মূলত এখানে রেশম গুটির ডিম উৎপাদনের কাজ হয়। প্রায় ৭৭ একর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে এই নার্সারি। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ একর জমিতে তুত গাছের চাষ করা হয়। এছাড়া জল সেচের সুবিধার জন্য রয়েছে ২৯টি পুকুর। রেশম উৎপাদনের প্রক্রিয়াকরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে চারটি রিয়ারিং ঘর, যদিও পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে বর্তমানে তার মধ্যে দুটি ঘরই চালু রয়েছে।”
এ বিষয়ে জেলা রেশম আধিকারিক সুরজিৎ চৌধুরী বলেন, “এক সময় এখানে প্রচুর সংখ্যক মানুষ কাজ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। তবে বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইতিহাসবহুল এই রেশম নার্সারিকে সংরক্ষণ ও সক্রিয় রাখতে ভবিষ্যতে আরও কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”
শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও গৌড়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে পিয়াসবাড়ি সেন্ট্রাল রেশম নার্সারি। অতীতের গৌরবকে বুকে ধারণ করে ভবিষ্যতের দিকেও এগিয়ে চলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
জিএম মোমিন





