মতিবুর রহমানের জীবনযাত্রার গল্পও বেশ ব্যতিক্রমী। একসময় ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তোলেন। পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজ ও জনসংযোগের মাধ্যমে এলাকায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাধারণ মানুষের পাশে থাকার জন্যই ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। সেই জনভিত্তির উপর ভর করেই এবারের নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
advertisement
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মতিবুর রহমান। যদিও জয় পাননি, তবুও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। পরে তাঁর সক্রিয়তা ও সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ দেখে তৃণমূলে যোগদানের সুযোগ হয়। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই প্রচারে নেমে পড়েছেন মতিবুর রহমান। তিনি বলেন, “মানুষ ও দল যাকে চাইবে তাঁকেই প্রার্থী করবে। আমি সব সময় মানুষের পাশে থেকেছি বলেই আমাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এলাকায় উন্নয়নের জন্য কাজ করব। বিশেষ করে আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তোলা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোই আমার অগ্রাধিকার।”
অন্যদিকে, টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী তাজমুল হোসেন। তাঁর অভিযোগ, “দল আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যে ব্যক্তি পার্টির ‘প’ জানে না, তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে।”
এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এদিকে, এই কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। তাদের প্রার্থী রতন দাস। যদিও কংগ্রেস এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। ফলে হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্রে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রার্থী বদলের এই কৌশল তৃণমূলের পক্ষে কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটাই দেখার।





