দুর্গাপুরের বাসিন্দা দেবস্মিতা নাথ। জন্ম থেকেই তিনি দুরারোগ্য সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত। যার কোনও স্থায়ী চিকিৎসা নেই। ছোটবেলাতেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি কোনওদিন পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর পথ আটকাতে পারেনি। বরং প্রতিকূলতাকেই শক্তি করে আজ তিনি কবিতা ও আবৃত্তির জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। শৈশবটা দেবস্মিতার জন্য সহজ ছিল না। স্কুলজীবনে নানা অবহেলা, উপেক্ষা এবং কষ্টের অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত দিয়েছে। তবু তাঁর বাবা-মা কখনও হার মানেননি।
advertisement
ছোট থেকেই ফিজিওথেরাপি, বিভিন্ন সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে মেয়েকে স্বাভাবিক জীবনের কাছাকাছি নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। অভিভাবকদের এই অসম লড়াইয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেবস্মিতা খুঁজে পান নিজের ভালবাসার জগৎ, কবিতা। খুব অল্প বয়সেই আবৃত্তির মঞ্চে উঠে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। এরপর একের পর এক সাফল্য ধরা দেয় তাঁর জীবনে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, মঞ্চ এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি অর্জন করেছেন অসংখ্য স্বীকৃতি। শুধু রাজ্য বা দেশ নয়, বিদেশের মাটিতেও তাঁর প্রতিভার কদর হয়েছে। আজ আবৃত্তি তাঁর কাছে শুধু ভালবাসা নয়, পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত।
পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও পিছিয়ে নেই দেবস্মিতা। নিজের উপার্জিত অর্থ অসহায় মানুষের জন্য দান করা এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াশোনা ও আবৃত্তি শেখানো তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রত্যেক বছর ২১ মার্চ বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে পালিত হয়। বিশ্বজুড়ে কবিতা প্রেমীদের কাছে এই দিনটি বিশেষ। এই বিশেষ দিনকে সামনে রেখে দেবস্মিতা নাথের জীবন যেন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, শরীর নয়, মন আর ইচ্ছাশক্তিই মানুষের আসল শক্তি। যার মাধ্যমে যে কোনও প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করা যায়। দুর্গাপুরের এই মেয়ে তার উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর এই লড়াই ও সাফল্যের গল্প সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
