এই মেলা মূলত বসে পৌষ সংক্রান্তির দিনে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মেলার ব্যাপ্তি বেড়ে একাধিক দিন ধরে এই উৎসব পালন করা হচ্ছে। একটি বিশাল দিঘির প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্ব পাড় জুড়ে বসে এই গ্রামীণ মেলা।
advertisement
জানা যায়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানবসৃষ্ট দিঘিগুলির মধ্যে শরশঙ্কা দিঘিই সবচেয়ে দীর্ঘ। দিঘির এই দীর্ঘ পাড় জুড়েই সারি দিয়ে বসে শত শত দোকান। মেলার সঠিক প্রতিষ্ঠাকাল বা কার হাত ধরে এর সূচনা হয়েছিল, তা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ইতিহাস গবেষকদের মতে এটি কয়েকশো বছরের পুরনো। প্রাচীনকালে এই মেলাই ছিল গ্রামীণ মানুষের প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্র। চালা, কুলো, ঝাঁটা, কাঠের বাসনপত্র-সহ গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী এখান থেকেই কিনতেন গ্রামের মানুষ, কারণ সেই সময় আজকের মতো উন্নত বাজার ব্যবস্থা ছিল না।
ইতিহাসবিদদের মতে, পৌষ সংক্রান্তির দিন শরশঙ্কা দিঘিতে পুণ্যস্নান করার পরই এই মেলার সূচনা হত। মকর সংক্রান্তিতে যেমন নদী বা সঙ্গমস্থলে পুণ্যস্নানের রীতি রয়েছে, তেমনই একসময় স্থানীয় মানুষ বিশ্বাস করতেন শরশঙ্কা দিঘিতে স্নান করলে পুণ্য লাভ হয়। যদিও বর্তমানে দিঘির বেহাল অবস্থার কারণে পুণ্যস্নান বন্ধ, তবুও মেলার ঐতিহ্য অটুট রয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আজকের দিনে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় শরশঙ্কা মেলা আরও বৃহৎ আকার নিয়েছে। হাজার হাজার দোকান বসে, লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। মনোহারি দোকান, গ্রামীণ হস্তশিল্প ও খাবারের পসরা নিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ। শরশঙ্কা মেলা আজও গ্রামীণ সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে টিকে আছে।





