জীবনের অঙ্ক হঠাৎ গরমিল হয়ে গেলেও আগামীর জন্য হাল ছাড়তে নারাজ সে। তাই বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে মর্গে বাবার দেহ রেখেই খাতা, পেন হাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত পূর্ব বর্ধমানের নাসিমা খাতুন।
পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসির শিড়রাই এলাকার বাসিন্দা নাসিমা খাতুন। শিড়রাই আলিজান মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী,মাধ্যমিকের সিট পড়েছে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ইরকোণা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানেই ২ রা ফেব্রুয়ারির থেকে পরীক্ষা দিয়েছে সে।
advertisement
আরও পড়ুন: তাহেরপুর স্টেশনের ‘তাহের’ শব্দের অর্থ কী বলুন তো…? ‘উত্তর’ শুনলেই চমকে উঠবেন!
৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা, রবিবার রাত্রে তারই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জোর কদমে করছিল নাসিমা কিন্তু হঠাৎই ঘটে ছন্দপতন। বাবার মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছয় বাড়িতে। পরিবারের নেমে আসে শোকের ছায়া। রবিবার রাতে পাত্রহাটি থেকে শিড়রাই গ্রামে বাড়ির ফেরার পথে আদরাহাটিতে দুর্ঘটনার কবল পড়েন নাসিমা খাতুনের বাবা মজনু শেখ। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মজনু শেখের। গলসি থানার পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় বর্ধমান মেডিক্যালে। বাবার মৃত্যুর খবরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লেও বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে মনকে শক্ত করে মাধ্যমিক পরীক্ষার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নাসিমা।
এদিন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে শোকাতুর অবস্থায় নাসিমা বলে, “বাবার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করি আর মাধ্যমিক পরীক্ষা।তাই কষ্ট হলেও মনকে শক্ত করে পরীক্ষা দিলাম। অঙ্ক পরীক্ষা ভালই হয়েছে। পরের পরীক্ষাগুলিও আশা করি ভাল হবে।” তারপরই মাথা নামিয়ে নেয় সে। তার এই মনের জোর দেখে সকলে প্রথমে একটু অবাক হলেও নাসিমার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছে তার সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, “রবিবার রাত্রে আমার বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর নাসিমা খাতুনের বাবা পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। কিন্তু সোমবার মাধ্যমিক বিষয়ের গণিত পরীক্ষা।এইরকম একটি ঘটনায় আমরা সবাই খুবই দুঃখিত, সবাই ওর পাশে আছে। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যেও একটি ভাল ব্যাপার হল নাসিমা মনকে শক্ত করে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ইরকোনা সেন্টারে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলিও যাতে সুষ্ঠুভাবে দিতে পারে তার জন্য সার্বিকভাবে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নাসিমাকে সহযোগিতা করা হবে। আর এই শোকের মধ্যেও যে ও পরীক্ষা দিচ্ছে তাতে আমরা অত্যন্ত খুশি।”
এক প্রতিবেশী বলেন, “আদ্রাহাটির কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় আমরা খুবই দুঃখিত। দেহটি ময়নাতদন্তের পর গ্রামে নিয়ে আসা হবে। এদিকে মেয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা এ বছর না দিলে আবার এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই চাইছি ও পরীক্ষাটা দিক। নাসিমার এই লড়াই আমরা সবাই ওর পাশে আছি।”
সায়নী সরকার






